কেন্দ্রবিমুখী বলের উদাহরণ- 

i. বৃষ্টিভেজা রাস্তায় বাইসাইকেলের চাকা থেকে পানি ছিটকে পড়া

ii. পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান কৃত্রিম উপগ্রহ 

iii. বক্রপথে দ্রুতগতিতে চলন্ত গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া 

নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 1 year ago
  • i ও ii
  • i ও iii
  • ii ও iii
  • i, ii ও iii
837
ব্যাখ্যাঃ

কেন্দ্রবিমুখী বল (Centrifugal Force): এটি একটি জডীয় বল (inertial force) বা অপ্রকৃত বল (pseudo-force) যা ঘূর্ণনশীল কাঠামোতে (non-inertial frame of reference) অনুভূত হয়। এটি ঘূর্ণন কেন্দ্রের বিপরীত দিকে বা বাইরের দিকে ক্রিয়া করে বলে মনে হয়। কোনো বস্তু যখন বৃত্তাকার পথে ঘোরে, তখন তাকে ভেতরের দিকে টেনে রাখার জন্য একটি কেন্দ্রমুখী বলের (centripetal force) প্রয়োজন হয়। যদি এই কেন্দ্রমুখী বল পর্যাপ্ত না হয়, তবে বস্তুটি তার জড়তার কারণে বৃত্তাকার পথ থেকে ছিটকে বাইরের দিকে চলে যেতে চায়। এই বহির্মুখী প্রবণতাকেই কেন্দ্রবিমুখী বলের প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

        
  •         i. বৃষ্টিভেজা রাস্তায় বাইসাইকেলের চাকা থেকে পানি ছিটকে পড়া: এটি কেন্দ্রবিমুখী বলের একটি উদাহরণ। যখন বাইসাইকেলের চাকা দ্রুত ঘোরে, তখন চাকার পৃষ্ঠে লেগে থাকা পানির কণাগুলির একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রমুখী বল প্রয়োজন হয় চাকার সাথে লেগে থাকার জন্য। কিন্তু এই কেন্দ্রমুখী বল (পানির পৃষ্ঠটান এবং চাকার সাথে লেগে থাকার দুর্বল শক্তি) যখন কণাগুলির জড়তাকে ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট হয় না, তখন কণাগুলি বাইরের দিকে ছিটকে যায়। ঘূর্ণনশীল চাকার সাপেক্ষে কণাগুলো বাইরে ছিটকে যাওয়াকে কেন্দ্রবিমুখী বলের প্রভাব হিসেবে দেখা যায়।     
  •     
  •         ii. পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান কৃত্রিম উপগ্রহ: কৃত্রিম উপগ্রহ পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলের কারণে। এখানে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বলই উপগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রমুখী বলের যোগান দেয়। উপগ্রহের ঘূর্ণন কেন্দ্রবিমুখী বলের উদাহরণ নয়, বরং এটি কেন্দ্রমুখী বলের (অভিকর্ষ বল) একটি উদাহরণ যা বৃত্তাকার পথে গতি বজায় রাখে। যদিও উপগ্রহের কাঠামোতে একটি আপাত কেন্দ্রবিমুখী বল কাজ করে যা অভিকর্ষ বলকে ভারসাম্যপূর্ণ করে, তবে সামগ্রিকভাবে উপগ্রহের কক্ষপথ একটি কেন্দ্রমুখী বল-চালিত প্রক্রিয়া।     
  •     
  •         iii. বক্রপথে দ্রুতগতিতে চলন্ত গাড়ি দুর্ঘটনায় পতিত হওয়া: এটি কেন্দ্রবিমুখী বলের একটি উদাহরণ। বক্রপথে বাঁক নেওয়ার সময় গাড়ির টায়ার ও রাস্তার মধ্যেকার ঘর্ষণ বল প্রয়োজনীয় কেন্দ্রমুখী বলের যোগান দেয়। যদি গাড়ির গতি খুব বেশি হয় অথবা রাস্তা পিচ্ছিল হয় (যেমন, বৃষ্টিভেজা রাস্তা), তাহলে প্রয়োজনীয় কেন্দ্রমুখী বলের যোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। এই পরিস্থিতিতে, গাড়ির জড়তার কারণে এটি বৃত্তাকার পথে থাকতে না পেরে বাইরের দিকে ছিটকে যায়, যাকে কেন্দ্রবিমুখী বলের প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।     

সুতরাং, i ও iii উভয়ই কেন্দ্রবিমুখী বলের উদাহরণ।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago

৭.১ সূচনা

Introduction

গ্রহ-নক্ষত্রের প্রকৃতি, স্বরুপ, গতিবিধি ইত্যাদি সম্পর্কে প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীদের অপরিসীম কৌতূহল ছিল। বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ টাইকো ব্র (Tycho Brahe), জোহান্স কেপলার (Johannes Kepler) গ্রহ, নক্ষত্রের গতিবিধি সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। কেপলার প্রথম উপলব্ধি করেন যে গ্রহগুলো কোন এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরত ঘুরছে। কিন্তু কি ধরনের বল ক্রিয়াশীল তা সঠিকভাবে বোঝাতে সমর্থ হননি। 1681 খ্রিস্টাব্দে মহাবিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন (Sir Isaac Newton) প্রথম “মহাকর্ষ সূত্র' আবিষ্কার করে এ সমস্যার সমাধান করেন। কথিত আছে, নিউটন তাঁর গৃহ-সংলগ্ন বাগানে একটি আপেল গাছের নিচে বসে বই পড়ছিলেন। এমন সময় একটি আপেল তাঁর নিকটে মাটিতে পড়ে। তিনি ভাবলেন গাছের উপরে ফাঁকা, নিচে ফাঁকা, ডানে ফাঁকা এবং বামেও ফাঁকা। আপেল ফল মাটিতে পড়ল কেন ? এই 'কেন' এর উদ্ঘাটন করতে গিয়ে তিনি মহাকর্ষ (Gravitation) এবং অভিকর্ষ (Gravity) আবিষ্কার করেন এবং সূর্যের চারদিকে গ্রহ-উপগ্রহের আবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করেন। এ অধ্যায়ে আমরা মহাকর্ষ, অভিকর্ষ, নিউটনের মহাকর্ষ সূত্র, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তি বেগ, কেপলারের সূত্র, গ্রহের গতি ইত্যাদি আলোচনা করব।

৭.২ মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ

Gravitation and gravity

বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার আইজাক নিউটন আবিষ্কার করেন যে এ মহাবিশ্বের যে কোন দুটি বস্তু বা বস্তু কণার মধ্যে একটি পারস্পরিক আকর্ষণ রয়েছে। দুটি বস্তু বা বস্তুকণার মধ্যকার এই পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে কখনও মহাকর্ষ আবার কখনও অভিকর্ষ বলা হয়। 

এ দুটি বলের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন জাগে মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ কি ? এদের সংজ্ঞা নিম্নে দেয়া হল : 

মহাকর্ষ : “নভোমণ্ডলে অবস্থিত দুটি বস্তু বা বস্তুকণার মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলকে মহাকর্ষ বলে।

অভিকর্ষ : “পৃথিবী এবং অন্য একটি বস্তু বা বস্তুকণার মধ্যকার আকর্ষণ বলকে অভিকর্ষ বা মাধ্যাকর্ষণ বলে।” 

উদাহরণ :

 সূর্য এবং চন্দ্রের মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলের নাম মহাকর্ষ, অপর পক্ষে পৃথিবী ও চন্দ্রের মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলই অভিকর্ষ। আরও সোজা ভাষায় বলা যায় পৃথিবী এবং আম গাছের একটি আমের মধ্যকার যে আকর্ষণ বল তা অভিকর্ষ। কিন্তু একই আম গাছের দুটি আমের মধ্যকার পারস্পরিক আকর্ষণ বলের নাম মহাকর্ষ।

Related Question

View All
  • সমানুপাতিক
  • ব্যস্তানুপাতিক
  • বর্গের সমানুপাতিক
  • বর্গের ব্যস্তানুপাতিক
334
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই