অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

(১) অনেকে বলে থাকে আমি আদ্যোপান্ত অনিকেত। (২) শুনতে পাই, আমি স্বপ্নের করতলে বন্দি, অথচ জীবনের করতাল বাজাতে বাজাতে আমি সুন্দরের বন্দনা গাই। (৩) একবার এক জোছনারাতে আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছিলাম। (৪) ঝরে পড়া আলো আর বহমান জলের লুকোচুরি খেলায় চুপচাপ পা ভিজিয়ে বসেছিলাম ব্রহ্মপুত্রের তীরে। (৫) সারারাত পূর্ণিমার ভূবন-ভরা আলোয় তন্নতন্ন করে খোঁজা হল সমস্ত শহর। (৬) আমি লাপাত্তা, পাবে কী করে। (৭) শুক্লপক্ষের রাতে কবিরা পালায় গৃহত্যাগী সিদ্ধান্থের মতো। (৮) তাছাড়া, সকলেই কবি নয়, কেউ কেউ কবি। (৯) মানুষ, মনুষ্য-জনপদ আর পরমা প্রকৃতির প্রতি যদি অন্তগূঢ় সংবেদনা না থাকে তবে কে কবি হতে পারে? (১০) পেরেছিলেন শেলি, কীটস বা বায়রন? (১১) প্রকৃতির প্রলোভনে যদিও আমি শিল্পতীর্থমুখে নিরুপম যাত্রা করে থাকি, কিন্তু আমিও তো হতে পারি, নেরুদা, মায়াকোভস্কি বা নাজিম হিকমতের মতো সময়ের প্রতিস্পর্ধী। (১২) অপরপক্ষে নির্জনতা প্রত্যাখ্যানের ভাষা। (১৩) আমিও জানি জীবনের উপলখন্ড, কুজ্বিটিকা তিরোহিত করবার ভয় কবির কাঁধেও বর্তায়, ক্রান্তি কাল বিষয়ে কবি নিরুদ্বেদ নন। (১৪) রঘুবংশ বা রামচরিত্রমানসের কবিরা নির্ভার থাকতে পারেন না, যেম নির্ভার থাকতে পারেন না আধুনিক কালের বালজাক অথবা ভলতেয়ার। (১৫) চর্যাপদের গানগুলোতে প্রত্যক্ষ জীবন যে রাঙতা-মোড়া উপহার। (১৬) রাঙতার আবরণ খুলে ফেললেই কবিতার গভীর থেকে জীবন হাত নাড়িয়ে স্বাগত জানায়।

চিত্রকল্প বলতে বোঝায়-

Updated: 5 months ago
  • শব্দ বা শব্দগুচ্ছের প্রয়োগে নির্মিত সংবেদ্য চিত্রাভাস
  • কাব্যে চিত্রকলার প্রয়োগ
  • উপমা ও উৎপ্রেক্ষার মাধ্যমে মনোগ্রাহী করা
  • কোনোটিই নয়
71
ব্যাখ্যাঃ

চিত্রকল্প বলতে মূলত শব্দ বা শব্দগুচ্ছের এমন শৈল্পিক প্রয়োগকে বোঝায়, যা পাঠক বা শ্রোতার মনে একটি সংবেদনশীল চিত্র বা অভিজ্ঞতা তৈরি করে। এটি কেবল দৃশ্যমান ছবিই নয়, বরং পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের (দেখা, শোনা, গন্ধ নেওয়া, স্বাদ গ্রহণ করা, স্পর্শ করা) যেকোনোটির মাধ্যমে সৃষ্ট অনুভূতিও হতে পারে। কবির শব্দচয়ন এবং ভাষার বুনন এমনভাবে হয় যেন পাঠকের মনে একটি সুনির্দিষ্ট ছবি বা অনুভূতি মূর্ত হয়ে ওঠে, যা তাকে কাব্যিক জগতে নিমজ্জিত করে।

সঠিক উত্তর হলো অপশন ১: শব্দ বা শব্দগুচ্ছের প্রয়োগে নির্মিত সংবেদ্য চিত্রাভাস।

        
  • অপশন ১ এর ব্যাখ্যা: এই বিকল্পটি চিত্রকল্পের সঠিক এবং বিস্তারিত সংজ্ঞা তুলে ধরে। কবি যখন কোনো দৃশ্য, অনুভূতি বা ধারণা পাঠকের মনে জাগ্রত করার জন্য সুনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করেন, তখন তাকে চিত্রকল্প বলে। এটি কেবল দেখার বিষয় নয়, বরং উপলব্ধি করার বিষয়। এটি পাঠকের কল্পনাশক্তির দ্বারা নির্মিত এক মানসিক প্রতিচ্ছবি।
  •     
  • অপশন ২ কেন ভুল: ‘কাব্যে চিত্রকলার প্রয়োগ’ বলতে মূলত কাব্যকে সরাসরি ছবি আঁকার মতো দেখা বা চিত্রকলার নিয়মাবলী প্রয়োগ করা বোঝায়, যা চিত্রকল্পের প্রকৃত অর্থ নয়। চিত্রকল্প ভাষার মাধ্যমে মনের ভেতর ছবি আঁকে, সরাসরি চিত্রকলা ব্যবহার করে না।
  •     
  • অপশন ৩ কেন ভুল: ‘উপমা ও উৎপ্রেক্ষার মাধ্যমে মনোগ্রাহী করা’ চিত্রকল্প তৈরির একটি উপায় হতে পারে, কিন্তু চিত্রকল্প শুধু উপমা বা উৎপ্রেক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপমা ও উৎপ্রেক্ষা হলো অলংকার, যা চিত্রকল্প তৈরিতে সাহায্য করে, কিন্তু চিত্রকল্পের পরিধি এর চেয়েও ব্যাপক। একটি চিত্রকল্প উপমা, উৎপ্রেক্ষা ছাড়াই কেবল বর্ণনার মাধ্যমেও তৈরি হতে পারে।
Satt AI
Satt AI
4 days ago

মধ্যযুগের পরিধি ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত বলে বিবেচনা করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে এই যুগের সর্বশেষ কবি রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের তিরোধানের সঙ্গে সঙ্গে বাংলা কাব্যের ইতিহাসে মধ্যযুগের অবসান ঘটে। ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে ১৮৬০ সালে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশের পূর্ব পর্যন্ত এই একশ' বছর বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষপূর্ণ কোন নিদর্শন বিদ্যমান নেই। মধ্যযুগের শেষ আর আধুনিক যুগের শুরুর এই সময়টুকুকে 'অবক্ষয় যুগ' বলা হয়েছে। কারও কারও মতে এই সময়টা 'যুগ সন্ধিক্ষণ' নামে আখ্যাত হওয়া উচিত। 'অবক্ষয় যুগ' তথা যুগসন্ধিক্ষণের ফসল হিসাবে হিন্দুদের মধ্যে কবিগান ও মুসলমানদের মধ্যে পুঁথি সাহিত্যের উদ্ভব ঘটে। হিন্দু সমাজে কবিগানের রচয়িতাদের কবিওয়ালা এবং মুসলমান সমাজে মিশ্র ভাষারীতির পুঁথি রচয়িতাদের শায়ের বলা হত।

আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রিক, আর্থিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের মুখে কলকাতার হিন্দু সমাজে 'কবিওয়ালা' এবং মুসলিম সমাজে 'শায়ের' এর উদ্ভব ঘটে। ১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে ১৮৬০ সালে আধুনিকতার যথার্থ বিকাশের পূর্ব পর্যন্ত এই ১০০ বছর বাংলা কাব্যের ক্ষেত্রে উৎকর্ষপূর্ণ কোনো নিদর্শন বিদ্যমান নেই।

১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের তিরোধানের মাধ্যমে মধ্যযুগের সমাপ্তি ঘটে এবং ১৮৬০ সালে মাইকেলের সদর্প আগমনের মাধ্যমে আধুনিক যুগের সূচনা ঘটে। এ ১০০ বছর সাহিত্য জগতে চলছিল বন্ধ্যাকাল, ফলে এ সময়টুকুকে বলে 'অবক্ষয় যুগ' বা 'যুগ সন্ধিক্ষণ'।

যুগ সন্ধিক্ষণের কবি/ অবক্ষয় যুগের কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

Related Question

View All
Updated: 5 months ago
  • ১৭৫০-১৮৫০
  • ১৭৬০-১৮৬০
  • ১৯০০-১৯৫০
  • ১৯৫১-২০০০
251
Updated: 1 year ago
  • ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  • আলাওল
  • শাহ মুহম্মদ সগীর
  • কানা হরিদ
1k
  • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  • ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  • ভারতচন্দত্র রায় গুণাকর
  • অক্ষয়কুমার দত্ত
498
  • ভবিষ্যৎ বিচিত্র ও বিপুল সম্ভাবনাময়
  • বাধা বিপত্তি প্রতিভাকে অংকুরেই বিনষ্ট করে
  • প্রকৃতি বিপুল ঐশ্বর্যের অধিকারী।
  • ভাঙ্গার পরেই গড়ার কাজ শুরু হয়।
  • কোনটিই নয়
728
Updated: 1 year ago
  • যুগসন্ধির কবি হিসেবে
  • পদ্যকার হিসেবে
  • নবজাগরণের লেখক হিসেবে
  • বিদ্রোহী চেতনার জন্য
458
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই