জোয়ার-ভাটার প্রভাবে-
i. নদীখাত গভীর হয়
ii. জাহাজ চলাচল সহজ হয়
iii. উপকূল আবর্জনামুক্ত হয়
নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 5 months ago
  • ক
    i ও ii
  • খ
    i ও iii
  • গ
    ii ও iii
  • ঘ
    i, ii ও iii
63
ব্যাখ্যাঃ

জোয়ার-ভাটা সমুদ্রের জলস্তরের নিয়মিত উত্থান-পতন। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে এবং নদী মোহনায় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়।

        
  • i. নদীখাত গভীর হয়: জোয়ারের সময় সমুদ্রের জলরাশি নদীর মোহনা দিয়ে প্রবল বেগে উজানে প্রবেশ করে এবং ভাটার সময় তা আবার সমুদ্রের দিকে ফিরে যায়। এই নিয়মিত ও শক্তিশালী জলস্রোতের ফলে নদীখাতের তলদেশের পলি ও মাটি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং তা গভীর হতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মোহনা অঞ্চলে এই প্রভাব বেশি দেখা যায়। তাই, বিবৃতি (i) সঠিক।
  •     
  • ii. জাহাজ চলাচল সহজ হয়: জোয়ারের সময় সমুদ্র ও নদীর জলস্তর বেড়ে যায়। এতে নদী মোহনা, বন্দর বা অগভীর জলপথে জাহাজের জন্য পর্যাপ্ত গভীরতা (ড্রাফট) তৈরি হয়। বড় বড় জাহাজগুলো সাধারণত জোয়ারের সময় আসা-যাওয়া করে যাতে তারা চরে বা তলদেশে আটকে না যায়। এটি জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই, বিবৃতি (ii) সঠিক।
  •     
  • iii. উপকূল আবর্জনামুক্ত হয়: জোয়ার-ভাটার প্রভাবে উপকূল আবর্জনামুক্ত হয় – এই ধারণাটি সবক্ষেত্রে সঠিক নয়। জোয়ারের সময় সমুদ্রের জলপ্রবাহ অনেক সময় সামুদ্রিক আবর্জনা, যেমন – প্লাস্টিক, কাঠ, শৈবাল ইত্যাদি উপকূলে নিয়ে আসে এবং ভাটার সময় জল সরে গেলে সেই আবর্জনা উপকূলে জমা হয়ে থাকে। যদিও কিছু হালকা আবর্জনা জোয়ার-ভাটার স্রোতে ভেসে দূরে চলে যেতে পারে, তবে এটি উপকূলকে আবর্জনামুক্ত করার একটি নির্ভরযোগ্য প্রক্রিয়া নয়, বরং অনেক সময় আবর্জনা জমতে সাহায্য করে। তাই, বিবৃতি (iii) সঠিক নয়।

উপরিউক্ত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জোয়ার-ভাটার প্রভাবে নদীখাত গভীর হয় এবং জাহাজ চলাচল সহজ হয়।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

(Results of Ebb-Tide)

আমরা জানি, জোয়ার-ভাটা বিপুল শক্তির উৎস এবং তা মানুষের জন্য যথেষ্ট কল্যাণ বয়ে আনে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপরও জোয়ার-ভাটার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

ক. কল্যাণকর প্রভাব:

১. নদীবন্দর বরফমুক্ত থাকা: জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর পানি স্বল্প পরিমাণে লবণাক্ত হওয়ায় শীতে সহজে জমে যায় না। ফলে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলেও শীতে নদীর পানি জমে না এবং নৌচলাচলের যোগ্য থাকে। এ কারণেই ইংল্যান্ডের অনেক নদীবন্দর বারো মাস বরফমুক্ত থাকে।

২. বন্দরের সুবিধা: জোয়ারের সময় পানি বৃদ্ধি পায় বলে সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীবন্দরে প্রবেশে সুবিধা হয়। আবার ভাটার স্রোতের সাথে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে এসে পড়ে। চট্টগ্রাম, মংলা, কলকাতা, লন্ডন প্রভৃতি বন্দরে জোয়ারের সময় জাহাজ প্রবেশ করে এবং ভাটার সময় সমুদ্রে বের হয়ে আসে।

৩. নদীর পানি নির্মল থাকা: দৈনিক দুই বার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে নদীতে সঞ্চিত সব আবর্জনা ধুয়ে মুছে গভীর সমুদ্রে চলে যায়। এজন্য জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর পানি নির্মল থাকে।

৪. নদীমুখের নাব্য রক্ষা জোয়ার-ভাটার জন্য পলিমাটি পড়ে নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। ফলে নৌচলাচলের যোগ্য থাকে।

৫. পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন করা পৃথিবীর অনেক অংশে বিরাট আকারের জলাধার নির্মাণ করে জোয়ারের সময় পানিতে ভর্তি করে রাখা হয়। ভাটার সময় ঐ পানি সরু পথে নিচে নির্গত করে টারবাইনের সাহায্যে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ১৯৬৬ সালে ফ্রান্সের লা-রান্স ফাঁড়িতে সর্বপ্রথম জোয়ার-ভাটার বৈদ্যুতিক শক্তি কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়, যার প্রাথমিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১০ হাজার কিলোওয়াট। বর্তমানে এখান থেকে বার্ষিক ৮০ লক্ষ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

৬. মাছ পালন ও শিকার জোয়ার-ভাটা বণ্টন বা বিন্যাসের সহায়ক হওয়ায় জৈবিকভাবে প্লাঙ্কটন ও নোকটনগুলোর সমুদ্র উপকূলীয় পানিতে বণ্টন ও পুনঃবণ্টনে সুবিধা হয়, যা মাছ পালন ও শিকার (মৎস্য) শিল্পের সহায়ক। জোয়ারের সময় নদী পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকাগুলোতে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি ধরে রেখে চিংড়ি চাষ করা হয়। ফলে বহু দেশ (যেমন- বাংলাদেশ) চিংড়ি রপ্তানি করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে।

৭. লবণ উৎপাদন: জোয়ারের সময় সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি পার্শ্ববর্তী জমিতে ধরে রেখে সূর্য তাপে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি দূর করে বহু দেশ প্রাকৃতিকভাবে লবণ উৎপন্ন করে। এই লবণ রন্ধন কাজ ছাড়াও মাটির ক্ষারীয় প্রভাব দূরীকরণে ও পুকুরে মাছ চাষের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, জোয়ার-ভাটা নদীর পানি নির্মল রাখতে, নদী খাতের গভীরতা বৃদ্ধি করতে, নদী ও নদীমুখ ভরাট হওয়া থেকে রক্ষা করতে, নদীর পানি শীতে জমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে, প্লাঙ্কটন ও নোকটন বিন্যাস নিশ্চিত করতে, লবণ উৎপাদন করতে, চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত করতে, নদী খাতগুলোকে উন্মুক্ত সাগরের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রক্ষা করতে এবং সর্বোপরি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সহায়তা করছে।

খ. ক্ষতিকর প্রভাব: জোয়ার-ভাটার অনুকূল দিক ছাড়াও জোয়ার-ভাটার কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। প্রবল জোয়ারের কারণে অনেক সময় নদী বা সমুদ্রের পানি পার্শ্ববর্তী শস্যক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে। ফলে শস্যের ক্ষতিসাধন হয়।
আবার অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ারের বান সৃষ্টি হলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পানি প্রবেশ করে জানমালের ক্ষতি হয়।

সুমদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা-প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর স্যার এর লেখা বই

শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই