hsc

পাঠ-১৪: জোয়ার-ভাটার ফলাফল

ভূগোল ১ম পত্র - ভূগোল - এইচএসসি | NCTB BOOK

82

(Results of Ebb-Tide)

আমরা জানি, জোয়ার-ভাটা বিপুল শক্তির উৎস এবং তা মানুষের জন্য যথেষ্ট কল্যাণ বয়ে আনে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপরও জোয়ার-ভাটার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।

ক. কল্যাণকর প্রভাব:

১. নদীবন্দর বরফমুক্ত থাকা: জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর পানি স্বল্প পরিমাণে লবণাক্ত হওয়ায় শীতে সহজে জমে যায় না। ফলে নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলেও শীতে নদীর পানি জমে না এবং নৌচলাচলের যোগ্য থাকে। এ কারণেই ইংল্যান্ডের অনেক নদীবন্দর বারো মাস বরফমুক্ত থাকে।

২. বন্দরের সুবিধা: জোয়ারের সময় পানি বৃদ্ধি পায় বলে সমুদ্রগামী জাহাজের পক্ষে নদীবন্দরে প্রবেশে সুবিধা হয়। আবার ভাটার স্রোতের সাথে ঐ জাহাজ অনায়াসে সমুদ্রে এসে পড়ে। চট্টগ্রাম, মংলা, কলকাতা, লন্ডন প্রভৃতি বন্দরে জোয়ারের সময় জাহাজ প্রবেশ করে এবং ভাটার সময় সমুদ্রে বের হয়ে আসে।

৩. নদীর পানি নির্মল থাকা: দৈনিক দুই বার করে জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে নদীতে সঞ্চিত সব আবর্জনা ধুয়ে মুছে গভীর সমুদ্রে চলে যায়। এজন্য জোয়ার-ভাটার ফলে নদীর পানি নির্মল থাকে।

৪. নদীমুখের নাব্য রক্ষা জোয়ার-ভাটার জন্য পলিমাটি পড়ে নদীর মুখ বন্ধ হয়ে যেতে পারে না। ফলে নৌচলাচলের যোগ্য থাকে।

৫. পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন করা পৃথিবীর অনেক অংশে বিরাট আকারের জলাধার নির্মাণ করে জোয়ারের সময় পানিতে ভর্তি করে রাখা হয়। ভাটার সময় ঐ পানি সরু পথে নিচে নির্গত করে টারবাইনের সাহায্যে পানিবিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। ১৯৬৬ সালে ফ্রান্সের লা-রান্স ফাঁড়িতে সর্বপ্রথম জোয়ার-ভাটার বৈদ্যুতিক শক্তি কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়, যার প্রাথমিক উৎপাদনক্ষমতা ছিল ১০ হাজার কিলোওয়াট। বর্তমানে এখান থেকে বার্ষিক ৮০ লক্ষ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়।

৬. মাছ পালন ও শিকার জোয়ার-ভাটা বণ্টন বা বিন্যাসের সহায়ক হওয়ায় জৈবিকভাবে প্লাঙ্কটন ও নোকটনগুলোর সমুদ্র উপকূলীয় পানিতে বণ্টন ও পুনঃবণ্টনে সুবিধা হয়, যা মাছ পালন ও শিকার (মৎস্য) শিল্পের সহায়ক। জোয়ারের সময় নদী পার্শ্ববর্তী নিচু এলাকাগুলোতে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি ধরে রেখে চিংড়ি চাষ করা হয়। ফলে বহু দেশ (যেমন- বাংলাদেশ) চিংড়ি রপ্তানি করে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে উন্নতি লাভ করে।

৭. লবণ উৎপাদন: জোয়ারের সময় সামুদ্রিক লবণাক্ত পানি পার্শ্ববর্তী জমিতে ধরে রেখে সূর্য তাপে বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি দূর করে বহু দেশ প্রাকৃতিকভাবে লবণ উৎপন্ন করে। এই লবণ রন্ধন কাজ ছাড়াও মাটির ক্ষারীয় প্রভাব দূরীকরণে ও পুকুরে মাছ চাষের কাজে ব্যবহৃত হয়।

উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, জোয়ার-ভাটা নদীর পানি নির্মল রাখতে, নদী খাতের গভীরতা বৃদ্ধি করতে, নদী ও নদীমুখ ভরাট হওয়া থেকে রক্ষা করতে, নদীর পানি শীতে জমে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে, প্লাঙ্কটন ও নোকটন বিন্যাস নিশ্চিত করতে, লবণ উৎপাদন করতে, চিংড়ি উৎপাদন নিশ্চিত করতে, নদী খাতগুলোকে উন্মুক্ত সাগরের সাথে ঘনিষ্ঠ সংযোগ রক্ষা করতে এবং সর্বোপরি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে মানুষের অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সহায়তা করছে।

খ. ক্ষতিকর প্রভাব: জোয়ার-ভাটার অনুকূল দিক ছাড়াও জোয়ার-ভাটার কিছু ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে। প্রবল জোয়ারের কারণে অনেক সময় নদী বা সমুদ্রের পানি পার্শ্ববর্তী শস্যক্ষেত্রে ঢুকে পড়ে। ফলে শস্যের ক্ষতিসাধন হয়।
আবার অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে জোয়ারের বান সৃষ্টি হলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পানি প্রবেশ করে জানমালের ক্ষতি হয়।

সুমদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা-প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরীর স্যার এর লেখা বই

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...