বদ্বীপ গঠিত হয়-
i. পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে
ii. নদীর মোহনায়
iii. নদীর নিম্নগতিতে

নিচের কোনটি সঠিক?

Updated: 5 months ago
  • ক
    i ও ii
  • খ
    i ও iii
  • গ
    ii ও iii
  • ঘ
    i, ii ও iii
56
ব্যাখ্যাঃ

বদ্বীপ হলো নদীর নিম্নগতিতে, বিশেষ করে নদীর মোহনায় পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে সৃষ্ট ত্রিকোণাকার বা পাখার মতো ভূমিভাগ। যখন নদী তার দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে মোহনার কাছে পৌঁছায়, তখন এর গতি কমে যায় এবং বাহিত পলি, বালি ও অন্যান্য পদার্থ মোহনার কাছে জমা হতে শুরু করে। এই সঞ্চয় প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকলে ধীরে ধীরে বদ্বীপের সৃষ্টি হয়।

        
  • i. পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে: বদ্বীপ গঠনের মূল কারণ হলো নদীর দ্বারা বাহিত পলিমাটি (সিল্ট, বালি, কাদা) মোহনায় জমা হওয়া। নদীর গতি কমে গেলে এই পদার্থগুলো আর বহন করতে না পেরে অধঃক্ষিপ্ত হয়। তাই, এই উক্তিটি সঠিক।
  •     
  • ii. নদীর মোহনায়: সাধারণত নদী যখন সমুদ্র, হ্রদ বা অন্য কোনো বড় জলাশয়ে পতিত হয়, অর্থাৎ তার মোহনায়, তখনই জলের গতিবেগ কমে গিয়ে পলি সঞ্চিত হয়ে বদ্বীপের সৃষ্টি হয়। তাই, এই উক্তিটি সঠিক।
  •     
  • iii. নদীর নিম্নগতিতে: নদীর নিম্নগতিতে ঢাল কম থাকে, ফলে নদীর স্রোত দুর্বল হয়ে যায় এবং পলি পরিবহনের ক্ষমতা হ্রাস পায়। এই অংশে পলি সঞ্চয়ের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বদ্বীপ গঠনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। তাই, এই উক্তিটি সঠিক।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, বদ্বীপ গঠনের জন্য পলিমাটি সঞ্চয়, নদীর মোহনা এবং নদীর নিম্নগতি – এই তিনটি শর্তই অপরিহার্য। সুতরাং, i, ii এবং iii তিনটি উক্তিই সঠিক।

Satt AI
Satt AI
3 months ago

(Depositional Landforms of River)

মধ্য এবং নিম্নগতিতে নদীবাহিত পাথরখণ্ড, নুড়ি, কাঁকর, বালি, পলি প্রভৃতি নদীখাতে সঞ্চিত হতে থাকে। নদীর উচ্চ প্রবাহে অপেক্ষাকৃত বড় আকারের ভারি পদার্থ যেমন- পাথর এবং নিম্নপ্রবাহে অর্থাৎ মোহনার নিকটবর্তী স্থানে অপেক্ষাকৃত ছোট আকারের পদার্থ যেমন- বালি, নুড়ি ধীরে ধীরে সঞ্চিত হতে থাকে। একে নদীর অবক্ষেপণ কাজ বলে। নদীর অবক্ষেপণ কাজের ফলে নদী অববাহিকা ভরাট হয় এবং নদীর মধ্যে চর ও মোহনার কাছে বদ্বীপ গঠিত হয়। নদী দ্বারা সৃষ্ট সঞ্চয়জাত ভূমিরূপকে নিম্নলিখিত তিন ভাগে ভাগ করা যায়; যথা-

ক. প্রাথমিক গতিতে সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ :

১.পললপাখা: পার্বত্য অঞ্চলে নদী খাড়া ঢাল বেয়ে সমভূমিতে পতিত হলে নদীর স্রোতবেগ অনেক কমে যায়। ফলে নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর, নুড়ি, প্রভৃতি পাহাড়ের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে হাতপাখার ন্যায় যে ভূমিরূপের সৃষ্টি করে তাকে পললপাখা বলে। চীনের জিনজিয়াং-এ কুনলুন পর্বতের পাদদেশে এরূপ ভূমিরূপ দেখা যায়।

২. পললকোণ: পলিজকোণ স্বল্প দূর পর্যন্ত বিস্তৃত, যা পাদদেশের মৃত্তিকার কাঠিন্যের ওপর নির্ভর করে। নদীববাহিত অপেক্ষাকৃত বৃহৎ শিলাখণ্ড (coarse material) দ্বারা পললকোণ সৃষ্টি হয়। যেমন- নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে দেখা যায়।

৩. পাদদেশীয় পলল সমভূমি: পার্বত্য গতি নদীর পললকোণের বিস্তার বাড়তে বাড়তে পাদদেশের অব্যবহৃত অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত যে ভূমিরূপের সৃষ্টি করে তাকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে। বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলে পাদদেশীয় সমভূমি দেখা যায়।

খ. মধ্যগতিতে সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ:

১. প্লাবন সমভূমি: বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে নদী দুকূল উপচে বন্যার সৃষ্টি করে। বন্যা শেষে বন্যাকবলিত এলাকায় পলির স্তর লক্ষ করা যায়। এভাবে বহুকাল অতীত হলে বন্যাকবলিত এলাকায় এক সমভূমির সৃষ্টি হয়। একে প্লাবন সমভূমি বলে। যেমন- যমুনার প্লাবন সমভূমি।

২. প্রাকৃতিক বাঁধ : বন্যার সময় নদীর উভয়কূল প্লাবিত হলে নদীবাহিত ভারি পদার্থসমূহ নদীর তীরে সঞ্চিত হয়। এতে নদী তীরে উঁচু বাঁধের ন্যায় ভূমিরূপের সৃষ্টি করে। এরূপ ভূমিরূপকে প্রাকৃতিক বাঁধ বলে। যেমন-মহানন্দা নদীর তীরে দেখা যায়।

৩. পশ্চাৎ ঢাল: প্রাকৃতিক বাঁধের পরে এক ধীর ও শান্ত ঢাল লক্ষ করা যায়। এ ঢালকে পশ্চাৎ ঢাল বলে। যেমন-মৌলভীবাজারের মনু নদীর ঢাল।

৪. পশ্চাৎ জলাভূমি: প্রাকৃতিক বাঁধের পশ্চাতে নদীর পলি সঞ্চয় ক্রমশ কম হওয়ায় তা নিম্নভূমিরূপে অবস্থান করে। বর্ষার পরে বন্যার পানি সরে গেলে এ নিম্নভূমিতে জল আবদ্ধ অবস্থায় থেকে যায়। প্রাকৃতিক বাঁধের পশ্চাতে অবস্থিত এরূপ জলাবদ্ধ ভূমিকে পশ্চাৎ জলাভূমি বলে। বাংলাদেশের অধিকাংশ নদীর স্বাভাবিক বাঁধের পশ্চাৎ জলাভূমি রয়েছে। যেমন-ঢাকা জেলার ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম প্রান্তের প্রাকৃতিক বাঁধের পশ্চাৎ দিকে এক 'বৃহৎ পশ্চাৎ জলাভূমি দেখতে পাওয়া যায়।

৫. বাঁকের চর: আঁকাবাঁকা নদীর যে তীরে স্রোত আঘাত হানে ঠিক তার বিপরীত দিকে পলি সঞ্চয়ের মাধ্যমে এক চরভূমির সৃষ্টি করে। একে বাঁকের চর বলে। মহানন্দা নদীতে এরূপ চর রয়েছে।
বালুচর: নদীর তলদেশে বালি, নুড়ি, কাদা ইত্যাদি জমা হয়ে যে নতুন চর সৃষ্টি হয় তাকে বালুচর বলে। বাংলাদেশের প্রায় সব নদীতেই বালুচর রয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর কামরঙ্গীর চর, পদ্মা নদীর চিলমারী চর ও চর ভদ্রাসন, যমুনার চর কাজলা, মেঘনার চর দীঘলন্দ্র, চর আড়ালিয়া প্রভৃতি বৃহৎ চরের উদাহরণ।

৬. অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ: আঁকাবাঁকা নদীর মধ্যবর্তী সংকীর্ণ স্থানে কোনো এক প্লাবনের সময় ক্ষয়প্রাপ্ত হলে ঐ নদী তার পুরাতন বাঁকা পথটি পরিত্যাগ করে নতুন এক সোজাপথে প্রবাহিত হয়। ফলে পুরাতন খাতটি একটি হ্রদে পরিণত হয়। এরূপ হ্রদের আকৃতি অনেকটা অশ্বের ক্ষুরের ন্যায় বলে একে অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ বলে। মিসিসিপি নদীতে এরূপ হ্রদ রয়েছে।

৭. কর্দম ছিপি: অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদের মুখে প্রতিবছর পলি জমে জমে কোনো সময়ে হ্রদের উভয় মুখই বন্ধ হয়ে যায়। এ বন্ধ মুখকেই কর্দম ছিপি বলে। যেমন- মিসিসিপি নদীতে এরূপ ভূমিরূপ দেখা যায়।

৮. নদীমঞ্চ : শুষ্ক থেকে বর্ষাকাল পর্যন্ত নদীর পানির হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। ফলে নদীর পলিসমূহও ধাপে ধাপে সঞ্চিত হয়। একেই নদীধাপ বা নদীমঞ্চ বলে। যেমন- বাংলাদেশের পদ্মা, মেঘনা প্রভৃতি নদী।

গ. নিম্নগতিতে সঞ্চয়জাত ভূমিরূপ:

বদ্বীপ : নিম্নগতিতে নদীর স্রোতবেগ খুবই কমে যায়। ফলে নদীবাহিত পলি, বালি, কাঁকর প্রভৃতি তলানিরূপে নদীতে সঞ্চিত হতে থাকে। এ তলানি প্রথমে নদীর মোহনায় বিভিন্ন চরের সৃষ্টি করে। পরে চরসমূহের মধ্য দিয়ে নদীর স্রোতধারা বিচ্ছিন্ন হলে ত্রিকোণাকার এক নতুন ভূমিরূপের সৃষ্টি করে। এরূপ নতুন ভূমিরূপ মাত্রাহীন বাংলা 'Δ' অক্ষরের ন্যায় বলে একে বদ্বীপ বলে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গাঙ্গেয় বদ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।

ভূমিরূপ পরিবর্তন. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এর লেখা বই

Related Question

View All
  • ক
    বাজাদা
  • খ
    পলল পাখা
  • গ
    পলল কোণ
  • ঘ
    প্লাবনভূমি
25
  • ক
    ভারত
  • খ
    বাংলাদেশ
  • গ
    ইন্দোনেশিয়া
  • ঘ
    মালয়েশিয়া
30
  • ক
    পলল কোণ
  • খ
    প্রাকৃতিক বাঁধ
  • গ
    বদ্বীপ
  • ঘ
    ভি আকৃতির খাত
29
  • ক
    অশ্বক্ষুরাকৃতি হ্রদ
  • খ
    প্লাবন ভূমি
  • গ
    কর্দম ছিপি
  • ঘ
    বাঁকের চর
27
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই