বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন কে?
বাংলা ভাষায় যতিচিহ্নের প্রচলন করেন কে?
-
ক
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
-
খ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
গ
প্যারীচাঁদ মিত্র
-
ঘ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আগে বাংলা গদ্য বা কবিতার কোনো স্থানে যতিচিহ্ন ব্যবহার হতো না। শুধু পূর্ণচ্ছেদ বা দাঁড়িজ্ঞাপক চিহ্নটি (এক দাঁড়ি/ দুই দাঁড়ি) ছিল। তিনি গদ্য রচনাকালে বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হন। তখন তিনি গদ্যের মধ্যে শ্বাসপর্ব ও অর্থপূর্ব ভাগ করে ইংরেজি গদ্য থেকে সবগুলো যতি বা ছেদচিহ্ন বাংলায় ব্যবহার করেন। যেহেতু বাংলায় পূর্ণচ্ছেদ জ্ঞাপক দাঁড়ি (।) আগেই ছিল, তাই তিনি ইংরেজির ফুলস্টপ (.) গ্রহণ না করে বাংলার নিজস্ব সম্পদ দাঁড়ি (।) কেই রক্ষা করলেন। বিদ্যাসাগর যে যতিচিহ্নসমূহ বাংলায় ব্যবহার করেন আজও এর সবগুলোর বাংলা-নাম হয়নি। কোনোটির বাংলা নাম হলেও তা ইংরেজি নামেই বেশি পরিচিত।
সঠিক উত্তরটি হলো: ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে পরিচিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০–১৮৯১) বাংলা ভাষায় যতিচিহ্ন (Punctuation Marks) ব্যবহারের পদ্ধতি এবং সুষ্ঠু প্রয়োগের প্রচলন করেন।এর আগে বাংলা লেখায় বাক্য বিভাজন বা অর্থ স্পষ্ট করার জন্য যতিচিহ্নের তেমন কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যবহার ছিল না।তিনি তাঁর রচিত গ্রন্থ, বিশেষ করে 'বেতাল পঞ্চবিংশতি' (১৮৪৭)-এর মাধ্যমে ইংরেজি ভাষা থেকে এই যতিচিহ্নগুলোর (যেমন: কমা (,), দাড়ি (।), প্রশ্নবোধক (?), বিস্ময়সূচক (!) ইত্যাদি) ব্যবহার সার্থকভাবে বাংলায় প্রবর্তন করেন, যা বাংলা গদ্যকে আধুনিক রূপ দিতে অপরিহার্য ভূমিকা রাখে।
বাংলা সাহিত্যে অন্যান্যদের অবদান
১. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (Bankim Chandra Chatterjee)
বাংলা সাহিত্যের 'উপন্যাসের জনক'। প্রথম সফল ঔপন্যাসিক: তাঁর হাতেই বাংলা উপন্যাস শিল্পসম্মত ও জনপ্রিয় রূপ লাভ করে। তাঁর প্রথম বাংলা উপন্যাস হলো 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫)। তিনি রোমান্টিক, ঐতিহাসিক ও সামাজিক উপন্যাস রচনা করেন (যেমন: কপালকুণ্ডলা, বিষবৃক্ষ, কৃষ্ণকান্তের উইল, আনন্দমঠ)।'বন্দে মাতরম' গানটি তাঁর 'আনন্দমঠ' উপন্যাসের অংশ।১৮৭২ সালে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রকাশ করেন, যা আধুনিক বাংলা সাহিত্য-আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)
উপাধি: বিশ্বকবি, গুরুদেব।
প্রধান অবদান: বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ প্রতিভা: তিনি বাংলা সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে সফলভাবে অবদান রাখেননি—কবিতা, গান, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চিত্রকলা।
ছোটগল্পের জনক: তিনি আধুনিক বাংলা ছোটগল্পের জনক হিসেবে পরিচিত।
নোবেল জয়: ১৯১৩ সালে 'গীতাঞ্জলি' কাব্যের জন্য এশিয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
জাতীয় সঙ্গীত: ভারত ও বাংলাদেশের (এবং শ্রীলঙ্কার গানের অংশবিশেষে) জাতীয় সঙ্গীত তাঁর রচনা।
৩. প্যারীচাঁদ মিত্র (Peary Chand Mitra)
ছদ্মনাম: টেকচাঁদ ঠাকুর।
প্রধান অবদান: প্রথম চলিত গদ্যের প্রবর্তক: তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথম আলালী ভাষা বা চলিত রীতির গদ্য প্রচলন করেন। এটি তৎসম শব্দভারাক্রান্ত সাধু ভাষার বিকল্প ছিল।
প্রথম উপন্যাস: তাঁর রচিত 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮)-কে অনেকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস বা সার্থক উপন্যাসের প্রথম সোপান হিসেবে বিবেচনা করেন।
সামাজিক চিত্র: তাঁর লেখায় তৎকালীন সমাজের দৈনন্দিন জীবনের ভাষা, ব্যঙ্গ এবং বাস্তব সামাজিক চিত্র ফুটে ওঠে।
Related Question
View All-
ক
রামমোহন রায়
-
খ
কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
-
গ
দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
ঘ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
-
ক
অক্ষয় কুমার
-
খ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
-
গ
চন্ডীচরণ মুনশী
-
ঘ
কালীপ্রসন্ন সিংহ
-
ক
প্রমথ চৌধুরী
-
খ
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
-
গ
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
-
ঘ
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
ক
১৮২০
-
খ
১৮৯১
-
গ
১৮৯৯
-
ঘ
১৯৭৬
-
ক
বেতাল পঞ্চবিংশতি
-
খ
ব্যকরণ কৌমুদী
-
গ
শকুন্তলা
-
ঘ
ভুগোলখগোল বর্ণনম
-
ক
সংস্কৃত ভাষা বর্জিত বাংলা ভাষার প্রচলন
-
খ
সংস্কৃত ভাষাদর্শ ও বাংলা গদ্যরীতির সার্থক সমন্বয়
-
গ
বাংলা ভাষার সাধুরীতির ও চলিতরীতির স্বার্থক সমন্বয়
-
ঘ
চলিতরীতির প্রচলন
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
Related Question
Question Analytics
মোট উত্তরদাতা
জন
