মুদু গাফললতে শুধু খেয়ালকের ভুলে. দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে পঙক্তি দুটি কোন কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে?

Updated: 1 year ago
  • ক
    জন্মভূমি
  • খ
    পাঞ্জেরী
  • গ
    খেয়াপারের তরনী
  • ঘ
    শ্রবাণ শবরী
437
ব্যাখ্যাঃ

প্রদত্ত পঙক্তি দুটি কবি ফররুখ আহমদ রচিত 'পাঞ্জেরী' কবিতা থেকে গৃহীত হয়েছে।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

কবি ফররুখ আহমদ বাংলা সাহিত্যের একজন প্রথিতযশা কবি, যিনি 'মুসলিম রেনেসাঁসের কবি' হিসেবে পরিচিত। তার কবিতায় বাংলার মুসলিম ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং মুসলিম উম্মাহর জাগরণের সুর সুস্পষ্ট। 'পাঞ্জেরী' কবিতাটি তার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিগুলোর মধ্যে একটি।

'পাঞ্জেরী' কবিতার মূলভাব: এই কবিতায় কবি একটি গভীর প্রতীকী চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন। 'পাঞ্জেরী' অর্থ হলো জাহাজের নাবিক বা কর্ণধার, যিনি সমুদ্রপথে জাহাজকে দিকনির্দেশনা দেন। এখানে 'জাহাজ' বা 'তরী' প্রতীকী অর্থে বাংলার মুসলিম সমাজ বা সামগ্রিক মানবসমাজকে বোঝানো হয়েছে, যা দিকভ্রান্ত অবস্থায় অথই সমুদ্রে ভাসছে। কবি এই কবিতায় সেই পাঞ্জেরীর বা দিকনির্দেশকের আহ্বান করেছেন, যিনি বিপদসংকুল পরিস্থিতি থেকে সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন।

উদ্ধৃত পঙক্তির তাৎপর্য:

প্রদত্ত পঙক্তি দুটি –
"মুদু গাফললতে শুধু খেয়ালকের ভুলে।
দরিয়া অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে।"
– 'পাঞ্জেরী' কবিতার গভীর বার্তা বহন করে। এই লাইনগুলোতে কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে, কর্ণধার বা নেতৃত্বের সামান্য উদাসীনতা, অনবধানতা বা ভুল পথে চালনার কারণে পুরো সমাজ বা জাতি একটি অথৈ ভ্রান্তির সাগরে নিমজ্জিত হতে পারে। এখানে 'দরিয়া অথই ভ্রান্তি' দ্বারা সমাজের সামগ্রিক অধঃপতন, বিভ্রান্তি এবং সঠিক পথ থেকে বিচ্যুতিকে নির্দেশ করা হয়েছে। কবি সমাজের এই ঘুমন্ত কর্ণধারদের সজাগ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সামান্য ভুলের কারণে বৃহৎ ক্ষতি সাধিত না হয়।

অন্যান্য বিকল্পের ভুল:

        
  • জন্মভূমি: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশাত্মবোধক কবিতা, যার মূল বিষয়বস্তু দেশের প্রতি প্রেম ও আত্মনিবেদন। এর সাথে প্রদত্ত পঙক্তির কোনো সম্পর্ক নেই।
  •     
  • খেয়াপারের তরনী: এটিও ফররুখ আহমদেরই একটি কবিতা, যেখানে মুসলিম ঐতিহ্য ও জাগরণের আহ্বান আছে। তবে, এই নির্দিষ্ট পঙক্তি দুটি 'খেয়াপারের তরনী' নয়, বরং 'পাঞ্জেরী' থেকে নেওয়া। অনেক সময় ফররুখ আহমদের দুটি বিখ্যাত কবিতার মধ্যে পঙক্তি নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।
  •     
  • শ্রাবণী শবরী: এটি একটি অপ্রচলিত বা কম পরিচিত কবিতা এবং এই পঙক্তি দুটির সাথে এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
Satt AI
Satt AI
4 months ago
সৈয়দ ফররুখ আহমদ
ফররুখ আহমদ (১৯১৮-১৯৭৪)

চল্লিশের দশকে আবির্ভূত শক্তিমান কবিদের অন্যতম ফরুখ আহমদ ছিলেন ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি। তাঁর রচিত কবিতায় পাকিস্তানবাদ, ইসলামি আদর্শ বিশেষত মুসলিম জাগরণ এবং আরব-ইরানের ঐতিহ্য উজ্জ্বলভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগ নৈপুণ্য, বিষয়বস্তু ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর রচিত কবিতা বিশিষ্ট স্থান দখল করে আছে।

  • ফররুখ আহমদ ১০ জুন, ১৯১৮ [১০ জুলাই, ১৯১৮: বাংলা একাডেমি চরিতাভিধান] সালে মাগুরা জেলার (তৎকালীন যশোর) শ্রীপুর উপজেলার মাঝআইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
    প্রকৃত নাম সৈয়দ ফরুখ আহমদ। দাদী ডাকতেন রমজান নামে।
  • তাঁকে ইসলামি স্বাতন্ত্র্যবাদী কবি, ইসলামি রেনেসাঁর কবি বলা হয়।
  • তাঁর উপাধি: মুসলিম রেনেসাঁর কবি।
  • তিনি 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং ঢাকা বেতারের 'স্টাফ রাইটার' হিসেবে কাজ করেছেন।
  • ১৯৩৭ সালে 'বুলবুল' পত্রিকায় তাঁর প্রথম কবিতা 'রাত্রি' এবং 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকায় 'পাপজন্ম' কবিতাটি প্রকাশিত হয়।
  • তিনি ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে বাংলার পক্ষে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বক্তব্য, বিবৃতি প্রদান করেন এবং কবিতা রচনা করেন।
  • ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার রেডিও ও টেলিভিশনে রবীন্দ্র সংগীত প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে তিনি এ সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
  • তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬০), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৬), ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬৬), একুশে পদক (১৯৭৭), স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৮০) পান।
  • তিনি ১৯ অক্টোবর, ১৯৭৪ সালে ঢাকায় মারা যান।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহঃ

কাব্যগ্রন্থ:

'সাত সাগরের মাঝি' (১৯৪৪): ১৯টি কবিতার সমন্বয়ে এটি কবির প্রথম প্রকাশিত ও শ্রেষ্ঠ কাব্য। মুসলিম জাগরণের লক্ষ্যে এ কাব্যের কবিতাগুলি লিখিত। সেজন্য কবি বঙ্গীয় শব্দ ও অনুষঙ্গ ত্যাগ করে গ্রহণ করেছেন আরব্য উপন্যাস, ইরান-আরবের সংস্কৃতি ও পুরাণকথা। বাংলা প্রচলিত শব্দ পরিত্যাগ করে কবি বহু অপ্রচলিত আরবি-ফারসি শব্দ গ্রহণ করেছেন। ইসলামের ইতিহাস ও ঐতিহ্য কাব্যটির মূল সুর। বিখ্যাত উর্দু কবি আল্লামা ইকবালকে তিনি কাব্যটি উৎসর্গ করেন। এ কাব্যটি প্রকাশে অর্থায়ন করেন কবি বেনজির আহমেদ।
'সাত সাগরের মাঝি' ও 'পাঞ্জেরি' এ কাব্যের কবিতা।

'নৌফেল ও হাতেম' (১৯৬১): এটি কাব্যনাট্য।

'হাতেমতায়ী' (১৯৬৬): এটি কাহিনিকাব্য, এর জন্য তিনি ১৯৬৬ সালে আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।

'মুহূর্তের কবিতা (১৯৬৩): এটি তাঁর সনেট সংকলন। এ সনেটের অন্তর্ভুক্ত কবিতা 'বৃষ্টি'।

'কাফেলা' (১৯৮০): এ কাব্যের কবিতা ‘পদ্মা’

'নতুন কবিতা' (১৯৫০), 'সিরাজাম মুনীরা' (১৯৫২), 'ধোলাই কাব্য' (১৯৬৩), 'হাবেদা মরুর কাহিনী' (১৯৮১), 'সিন্দাবাদ' (১৯৮৩), 'দিলরুবা' (১৯৯৪)।

'হরফের ছড়া' (১৯৬৯): এটি শিশুতোষ বিষয়ক গ্রন্থ। হরফ বা বর্ণ দিয়েই ভাষার শুরু। যারা ভাষা লিখতে ও পড়তে শিখবে হরফ তাদের জন্য। ভাষা যত সহজ, সুরেলা ও বৈচিত্র্যময় হবে, ততই শিশুদের ভাষা শিক্ষার আগ্রহ তৈরি হবে। ফলে অল্পদিনেই তারা বর্ণ শেখার মাধ্যমে ভাষা আয়ত্ত করতে পারবে। সে লক্ষ্যে কবি প্রতিটি হরফ বা বর্ণ দিয়ে ছড়া রচনা করেছেন। এ ছড়াগুলোর সামষ্টিক রূপায়ণ 'হরফের ছড়া'।

'নতুন লেখা' (১৯৬৯), 'চাঁদের আসর' (১৯৭০), 'ছড়ার আসর' (১৯৭০), 'ফুলের জলসা' (১৯৮৫)।

কবিতা:
'উপহার': এ কবিতাটি তিনি নিজের বিয়ে উপলক্ষে লিখেন। এটি পরবর্তীতে 'সওগাত' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

'স্মরণী': এ কবিতাটি তিনি আল্লামা ইকবালের স্মরণে লিখেন।

'পাঞ্জেরী': পাঞ্জেরী ফারসি শব্দ। এর বাংলা অর্থ জাহাজের অগ্রভাগে রক্ষিত পথনির্দেশক আলোকবর্তিকা বা আলোকবর্তিকাধারী ব্যক্তি। এটি তিনি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন। ইংরেজ শাসনের যাতাকলে পিষ্ট ভারতবর্ষের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নেতাকে পাঞ্জেরী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। 'পাঞ্জেরী' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

Related Question

View All
  • ক
    কায়কোবাদ
  • খ
    গোলাম মোস্তফা
  • গ
    ফরুখ আহমদ
  • ঘ
    বন্দে আলী মিয়া
11
Updated: 2 weeks ago
  • ক
    আলোকবর্তিকা
  • খ
    নির্দেশক
  • গ
    ফরুখ আহমেদ
  • ঘ
    ভবিষ্যৎ
18
Updated: 1 month ago
  • ক
    কাজী নজরুল ইসলাম
  • খ
    আল মাহমুদ
  • গ
    ফররুখ আহমদ
  • ঘ
    মুহাম্মদ আবদুল হাই
58
Updated: 1 month ago
  • ক
    কাজী নজরুল ইসলাম
  • খ
    আল মাহমুদ
  • গ
    ফররুখ আহমদ
  • ঘ
    মুহাম্মদ আবদুল হাই
29
Updated: 1 month ago
  • ক
    কাজী নজরুল ইসলাম
  • খ
    আল মাহমুদ
  • গ
    ফররুখ আহমদ
  • ঘ
    মুহাম্মদ আবদুল হাই
27
Updated: 1 month ago
  • ক
    কাজী নজরুল ইসলাম
  • খ
    আল মাহমুদ
  • গ
    ফররুখ আহমদ
  • ঘ
    মুহাম্মদ আবদুল হাই
42
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই