স্ফুটনাঙ্কের উচ্চক্রম অনুসারে HF,H2O,NH3  এবং  CH4 যৌগসমূহকে তালিকাভূক্ত করলে নিচের কোনটি সঠিক হবে?

Updated: 11 months ago
  •  CH4<NH3<H2O<HF
  • NH3<CH4<H2O<HF
  • HF<CH4<NH3<H2O
  • CH4<NH3<HF<H2O
2.2k
ব্যাখ্যাঃ

যৌগসমূহের স্ফুটনাঙ্ক তাদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের (Intermolecular attractive forces) উপর নির্ভর করে। আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল যত বেশি শক্তিশালী হয়, অণুগুলোকে বিচ্ছিন্ন করতে তত বেশি শক্তির প্রয়োজন হয়, ফলে স্ফুটনাঙ্ক তত বেশি হয়।

প্রদত্ত যৌগগুলো হলো \(HF\), \(H_2O\), \(NH_3\) এবং \(CH_4\)। এদের স্ফুটনাঙ্ক তুলনা করার জন্য আমরা আন্তঃআণবিক বলগুলো বিবেচনা করব:

        
  1. \(CH_4\) (মিথেন): এটি একটি অধ্রুবীয় অণু। এর অণুগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র দুর্বল লন্ডন ডিসপারশন বল (London Dispersion Force) বিদ্যমান। এই বল অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় এর স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন। \(CH_4\) এর স্ফুটনাঙ্ক প্রায় \(-161.5^\circ C\)।
  2.     
  3. \(NH_3\) (অ্যামোনিয়া), \(H_2O\) (জল) এবং \(HF\) (হাইড্রোজেন ফ্লোরাইড): এই যৌগগুলোতে হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen bond) বিদ্যমান, কারণ এগুলোতে উচ্চ তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল (N, O, F) এর সাথে সরাসরি হাইড্রোজেন পরমাণু যুক্ত আছে। হাইড্রোজেন বন্ধন লন্ডন ডিসপারশন বলের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।

এখন আমরা \(NH_3\), \(H_2O\), এবং \(HF\)-এর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনের আপেক্ষিক শক্তি এবং এর বিস্তৃতি তুলনা করব:

        
  • \(H_2O\): অক্সিজেনের তড়িৎ ঋণাত্মকতা বেশি এবং এর দুটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় (lone pair) এবং দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকায় প্রতিটি \(H_2O\) অণু গড়ে চারটি হাইড্রোজেন বন্ধন তৈরি করতে পারে। এটি একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত ত্রিমাত্রিক (3D) হাইড্রোজেন বন্ধনের জালিকা তৈরি করে, যা এটিকে অত্যন্ত শক্তিশালী আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল প্রদান করে। তাই এর স্ফুটনাঙ্ক তুলনামূলকভাবে বেশি (\(100^\circ C\))।
  •     
  • \(HF\): ফ্লোরিনের তড়িৎ ঋণাত্মকতা সবচেয়ে বেশি হওয়ায় \(H-F\) বন্ধনটি অত্যন্ত পোলার এবং এতে গঠিত হাইড্রোজেন বন্ধন এককভাবে (per bond) সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু প্রতিটি \(HF\) অণুতে একটি মাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু থাকায় এটি শুধুমাত্র একটি হাইড্রোজেন বন্ধনে ডোনার (donor) হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে \(HF\) অণুগুলো সাধারণত সরল বা জিগজ্যাগ চেইন তৈরি করে, যা \(H_2O\)-এর মতো ত্রিমাত্রিক জালিকাবন্ধনের মতো বিস্তৃত নয়। তাই এর মোট আন্তঃআণবিক বল \(H_2O\) থেকে কম। এর স্ফুটনাঙ্ক প্রায় \(19.5^\circ C\)।
  •     
  • \(NH_3\): নাইট্রোজেনের তড়িৎ ঋণাত্মকতা অক্সিজেন ও ফ্লোরিন অপেক্ষা কম। ফলে \(N-H\) বন্ধনের পোলারিটি কম এবং এতে গঠিত হাইড্রোজেন বন্ধন \(H_2O\) ও \(HF\)-এর চেয়ে দুর্বল। এছাড়াও, নাইট্রোজেনের একটি নিঃসঙ্গ ইলেকট্রন জোড় এবং তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু থাকলেও, দুর্বল পোলারিটির কারণে এর হাইড্রোজেন বন্ধন \(H_2O\) এবং \(HF\) উভয়ের চেয়ে দুর্বল এবং কম বিস্তৃত। এর স্ফুটনাঙ্ক প্রায় \(-33.34^\circ C\)।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা স্ফুটনাঙ্কের নিম্নক্রম অনুসারে যৌগগুলোকে সাজাতে পারি:

\(CH_4\) (\(-161.5^\circ C\)) < \(NH_3\) (\(-33.34^\circ C\)) < \(HF\) (\(19.5^\circ C\)) < \(H_2O\) (\(100^\circ C\))

সুতরাং, স্ফুটনাঙ্কের উচ্চক্রম অনুসারে সঠিক তালিকাটি হলো:

\(CH_4 < NH_3 < HF < H_2O\)

এটি অপশন ৪ এ দেওয়া আছে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago

জৈব যৌগের বিশুদ্ধতা ও শনাক্তকরণে গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয়

গলনাঙ্ক নির্ণয়

গলনাঙ্ক (Melting Point) একটি কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, যেখানে এটি তরলে রূপান্তরিত হয়। এটি জৈব যৌগের বিশুদ্ধতা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।


গলনাঙ্ক নির্ণয়ের ভূমিকা

  1. বিশুদ্ধতা পরীক্ষা:
    বিশুদ্ধ যৌগের গলনাঙ্ক একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় হয়। যদি গলনাঙ্কের ব্যাপ্তি বড় হয় বা নির্ধারিত গলনাঙ্ক থেকে বিচ্যুতি ঘটে, তবে যৌগটি অপবিত্র বলে ধারণা করা হয়।
  2. সংজ্ঞায়ন:
    বিভিন্ন যৌগের গলনাঙ্ক আলাদা থাকে, যা তাদের শনাক্তকরণে সাহায্য করে।

স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয়

স্ফুটনাঙ্ক (Boiling Point) একটি তরলের সেই নির্দিষ্ট তাপমাত্রা, যেখানে এর বাষ্প চাপ বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমান হয়। এটি তরল জৈব যৌগের বিশুদ্ধতা ও শনাক্তকরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।


স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয়ের ভূমিকা

  1. বিশুদ্ধতা পরীক্ষা:
    একটি বিশুদ্ধ তরলের স্ফুটনাঙ্ক একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় থাকে। দূষিত তরলের স্ফুটনাঙ্ক বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে এবং ব্যাপ্তি বেড়ে যেতে পারে।
  2. সংজ্ঞায়ন:
    বিভিন্ন তরলের স্ফুটনাঙ্ক আলাদা, যা তাদের শনাক্তকরণে সহায়তা করে।

ব্যবহারিক পদ্ধতি

  1. গলনাঙ্ক নির্ণয় পদ্ধতি:
    ক্যাপিলারি টিউব ব্যবহার করে গলনাঙ্ক নির্ণয় করা হয়। পদার্থটি ক্যাপিলারির মধ্যে ঢুকিয়ে তাপ প্রয়োগ করা হয় এবং নির্ধারিত তাপমাত্রা নোট করা হয়।
  2. স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় পদ্ধতি:
    তরলকে একটি বন্ধ টিউবে রেখে গরম করা হয় এবং বাষ্পের প্রথম বুদ্বুদ তৈরি হওয়ার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

সারাংশ

গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক জৈব যৌগের বিশুদ্ধতা ও শনাক্তকরণের জন্য দুটি অত্যন্ত কার্যকরী পদ্ধতি। এগুলো বিশুদ্ধতার মান নির্ধারণ এবং যৌগগুলোর সঠিক শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Related Question

View All
  • হীরক কেলাস একটি বৃহৎ অণু।
  • হীরক অণুতে সমযোজী C - C বন্ধনগুলো দৃঢ়।
  • হীরকের মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল অত্যন্ত তীব্র।
  • হীরক গলানোর জন্য সমাযোজী বন্ধন ভাঙ্গা প্রয়োজন হয়।
  • হীরকে সকল র্কানগুলো sp3 সংকায়িত।
1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews

Question Analytics

মোট উত্তরদাতা

জন

সঠিক
ভুল
উত্তর নেই