সংঘদানের জন্য অন্যূন পাঁচ জন ভিক্ষুর প্রয়োজন হয়।
ভিক্ষুসংঘকে দান করার কারণ বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে একজন ভিক্ষুকে দান করার চেয়ে সঙ্ঘকে দান করা খুবই ফলদায়ক। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় ততই ভালো। এজন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ দান করা হয়।
উদ্দীপকে সুনীল চাকমার দানটি শিবিরাজা বোধিসত্ত্বের দানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। দাতা হিসেবে তার যথেষ্ট সুখ্যাতি ছিল। দানশীলতা পরীক্ষা করার জন্য দেবরাজ ইন্দ্র অন্ধ ব্রাহ্মণের বেশ ধারণ করে শিবিরাজার নিকট তার চক্ষু চাইলেন। অন্ধের প্রতি করুণাবশত রাজা সকলের আপত্তি সত্ত্বেও চক্ষু দান করলেন। রাজার এ সিদ্ধান্তের সীবক তার ডান চোখ তুললে তা অন্ধ ব্রাহ্মণকে দান করেন। অন্ধ ব্রাহ্মণ চোখটি নিজের অক্ষিকোটরে স্থাপন করলেন। চোখটি নীল পদ্মের ন্যায় শোভা দিতে লাগল। এ দৃশ্য দেখার পর রাজা তার অন্য চোখটিও তাকে দান করলেন। এ দানকে রাজা পরম সার্থক তৃপ্তি লাভ করলেন।
উক্ত ঘটনার সাথে উদ্দীপকের সুনীল চাকমার দানটি সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি তার শরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিডনি যুবককে দিয়ে তার প্রাণ বাঁচিয়েছেন।
অনিল চাকমা এবং সুনীল চাকমার এ দানের ফলাফল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ও অতুলনীয়। সৎ উপায়ে উপার্জিত অর্থ দান করলে অধিক পুণ্য অর্জিত হয়। অন্যের বিপদে হাত বাড়িয়ে দিয়ে নিজের চিত্তের উদারতা বৃদ্ধির সাথে সাথে সমাজেরও উপকার হয়। শরীরের অঙ্গ দানের গুরুত্বও অপরিসীম। এ দানের ফলে অনেক মানুষ মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়। অর্থনৈতিক বা শারীরিক যেকোনো দানই মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে। হিংসা-বিদ্বেষ, অসমতা দূর করে সামাজিক শান্তি আনয়ন করে। এ ধরনের দান মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশে সহায়তা করে। উদারচিত্তে দান করলে তা উৎকৃষ্ট দানে বিবেচিত হয়। দান দেওয়া মানুষের এক মহৎ গুণ। আর এ মহৎ গুণের প্রকাশ মানুষের ইহকালীন এবং পরকালীন জীবনে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনে।
Related Question
View Allরৌদ্ধধর্ম তিন প্রকার কুশলকর্মের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত।
বৌদ্ধরা সাধারণত লোভ-দ্বেষ-মোহ ক্ষয়, 'পুণ্য অর্জন এবং নির্বাণ লাভের জন্য দান করে। পরলোকগত জ্ঞাতিদের সদৃগতি কামনায়ও দান করা হয়। মানুষের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশের জন্যও দান করা হয়।
উদ্দীপকে চম্পা যে দান করলেন তা সংঘদানের অন্তর্ভুক্ত। বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে সংঘদান অন্যতম'। ভিক্ষুসংঘকে উদ্দেশ্য করে যে দান করা হয় তাই সঙ্ঘদান। বৌদ্ধরা যেকোনো শুভকাজ শুরু করার পূর্বে সংঘদান করে থাকেন। সংঘদান করতে হলে অন্যূন পাঁচজন ভিক্ষুর উপস্থিতি প্রয়োজন হয়। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যতবেশি হবে তত ভালো। সংঘদান অনুষ্ঠানের পূর্বে ভিক্ষুসংঘকে নিমন্ত্রণ করতে হয়। সাধারণত ভিক্ষুদের নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দান করা হয়। সংঘদানের সময় ভিক্ষুসংঘের আসনের সামনে দানসামগ্রী সুন্দরভাবে সাজাতে হয়। ভিক্ষুসংঘ পরিপাটি হয়ে আসনে উপবেশন করলে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ভিক্ষুদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ একজন সভাপতি নির্বাচিত হন এবং গাথা তিনবার আবৃত্তি করেন।
বৌদ্ধধর্মে দানের সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। দান দেওয়া মানুষের মহৎ কর্ম। এ গুণটি বিকশিত করার ক্ষেত্রে দানানুষ্ঠান বড় ধরনের ভূমিকা রাখে। দানানুষ্ঠানের মাধ্যমে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে। অহংকার, কৃপণতা, লোভ-দ্বেষ-মোহ প্রভৃতি ভুলে পরোপকারী মনোভাব সৃষ্টি হয়। অন্যের বিপদে হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেরণা সৃষ্টি হয়। দয়া, নিঃস্বার্থপরতা, মৈত্রী, প্রেম প্রভৃতি মানবিক গুণের বিকাশ ঘটে। সৎ উপায়ে অর্জিত অর্থ দান করলে অধিক ফল অর্জন হয়। সামাজিক বন্ধন দৃঢ় হয়। পরস্পরের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি, হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে সমাজে শান্তি বিরাজ করে। দান দ্বারা সমাজে অনেক মহৎ কাজ করা যায়। দানের ফলে চিত্তের উদারতার বৃদ্ধি এবং মানুষের মানবিক গুণাবলির বিকাশ প্রস্ফুটিত হয়। দান বা দানানুষ্ঠান নৈতিক ও মানবিক গুণাবলির বিকাশ সাধন করে সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বলা হয়, চম্পার দানের সামাজিক গুরুত্ব অনেক।
সংঘদানের জন্য অন্যূন পাঁচ জন ভিক্ষুর প্রয়োজন হয়।
ভিক্ষুসংঘকে দান করার কারণ বৌদ্ধরা বিশ্বাস করে একজন ভিক্ষুকে দান করার চেয়ে সঙ্ঘকে দান করা খুবই ফলদায়ক। সংঘদানে ভিক্ষুর সংখ্যা যত বেশি হয় ততই ভালো। এজন্য ভিক্ষুসঙ্ঘ দান করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!