কবি জমিলার মায়ের রান্নাঘরের শুকনো থালা সব চেনেন।
কবি তাঁর শৈশবকাল নদীর কিনারে কাটিয়েছেন বলে সেই নদীর কিনার গভীরভাবে কবির অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে।
কবি গ্রামবাংলার সন্তান। যেদিন থেকে তিনি একা চলতে শিখেছেন, সেদিন থেকে অসংখ্যবার নদীর পাড়ে গিয়েছেন। সেখানে মাছ ধরেছেন, খেলেছেন, গোসল করেছেন। এসব কারণে নদীর পাড়ের চিহ্ন কবির মনে পূর্ণ অবয়ব নিয়ে অঙ্কিত হয়ে আছে। এভাবেই নদীর কিনার কবির অস্থিমজ্জায় গ্রথিত হয়ে আছে।
উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির চিরচেনা পরিবেশের অম্লান দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর। কারণ জন্মভূমিতে শিকড় গেড়েই মানুষ সমগ্র দেশকে আপন করে নেয়। স্বদেশের দানে ও ঋণে মানুষ ধন্য হয়। তাই মানুষ জন্মভূমির মাটির টানে চিরচেনা জায়গাতেই ফিরে আসে।
উদ্দীপকে চেনাজানা প্রিয় পথঘাটের বিষয়ে বলা হয়েছে। এখানে কবির অনুভবে চিরচেনা পরিবেশটি মূর্ত হয়ে উঠেছে। কুমোরদের থাকার স্থান, ঘোষদের বাড়ি, বটের ছায়া- এসব পরিচিত জায়গা তাঁর সামনে ভেসে ওঠে। এসব পথঘাট ও পরিচিত পরিবেশের বর্ণনাটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির চিরচেনা পরিবেশের বর্ণনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কবিতায় কবি তাঁর নিজের পরিচয় ব্যক্ত করতে গিয়ে তার চারপাশের পরিচিত পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ও মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। এভাবে উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির চিরচেনা পরিবেশের অম্লান দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
"মিল থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব এবং কবিতার মূলভাব পুরোপুরি এক নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ।
স্বদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশ মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকে। স্বদেশ প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশেই মানুষ বেড়ে ওঠে। জন্মভূমির নানা উপাদানে মানুষের জীবন বাঁচে। এ কারণেই মানুষ জন্মভূমিকে নিয়ে গর্ববোধ করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি তাঁর চেনাজানা প্রিয় পথঘাট ও মানুষের পরিচয় দিয়েছেন। এখানে চিরপরিচিত পরিবেশের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে যা তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এ বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ ছাড়াও এ কবিতার কবি তাঁর চিরচেনা পরিবেশের জমিনের ফুল, জোনাকি, বাঁশবাগান, পুবের পুকুর, মাছরাঙা, ধানের মঞ্জরি, টলমল শিশির প্রভৃতির কথা বলেছেন। এসব উপাদানকে সাক্ষী রেখে কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিবিড় বন্ধনের কথা বলেছেন। এসব দিক উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় পল্লিপ্রকৃতির নানা অনুষঙ্গে কবির প্রাত্যহিক জীবনের সম্পৃক্ততার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। কবি এখানে বার্ধক্যে নত কদম আলী, অভাবী জমিলার মায়ের কথা বলেছেন। উদ্দীপকে এসব বিষয় প্রতিফলিত হয়নি। স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগের দিকটি উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!