উত্তরঃ
খাদ্য সংরক্ষণ মানবজাতির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া যা খাদ্যের পচন রোধ করে এবং খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাদ বজায় রাখে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও রাসায়নিক পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়। উদ্দীপকে A ও B পাত্রে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত দুটি ভিন্ন রাসায়নিক যৌগকে নির্দেশ করা হয়েছে, যা দুটি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে খাদ্যদ্রব্যকে পচনের হাত থেকে রক্ষা করে।
A পাত্রে চিনির দ্রবণ (Sugar solution) রয়েছে। চিনি একটি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য সংরক্ষক যা অভিস্রবণ প্রক্রিয়া (osmosis) দ্বারা অণুজীবের বৃদ্ধি রোধ করে। যখন খাদ্যদ্রব্য উচ্চ ঘনত্বের চিনির দ্রবণে রাখা হয়, তখন খাদ্যের পৃষ্ঠে এবং অণুজীবের অভ্যন্তরে থাকা পানির মধ্যে অভিস্রবণ চাপ (osmotic pressure) তৈরি হয়। এর ফলে অণুজীবের কোষ থেকে পানি অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় বাইরে বেরিয়ে আসে। অণুজীব পানিশূন্য (dehydrated) হয়ে কার্যক্ষমতা হারায় বা মারা যায়, যা খাদ্য পচনে বাধা দেয়। এটি প্রধানত ফল, জ্যাম, জেলি, মোরব্বা ইত্যাদি সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
অন্যদিকে, B পাত্রে 6-10% CH₃COOH বা অ্যাসিটিক অ্যাসিডের দ্রবণ রয়েছে, যা সাধারণত ভিনেগার (Vinegar) নামে পরিচিত। অ্যাসিটিক অ্যাসিড একটি দুর্বল জৈব অ্যাসিড। এর অম্লীয় প্রকৃতি (acidic environment) অণুজীব, যেমন ব্যাকটেরিয়া (bacteria), ইষ্ট (yeast) এবং ছত্রাকের (fungi) বৃদ্ধিকে কার্যকরভাবে বাধা দেয়। বেশিরভাগ পচন সৃষ্টিকারী অণুজীব অম্লীয় পরিবেশে (pH ৪.৬ এর নিচে) বাঁচতে বা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না কারণ তাদের এনজাইম (enzymes) কার্যকলাপের জন্য একটি নির্দিষ্ট pH প্রয়োজন হয়। অ্যাসিটিক অ্যাসিড অণুজীবের প্রোটিনকে বিকৃত করে এবং তাদের বিপাকীয় প্রক্রিয়া ব্যাহত করে, যা খাদ্য পচনে বাধা দেয়। আচার, সস, কেচাপ, সালাদ ড্রেসিং ইত্যাদি সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
তুলনামূলকভাবে, চিনির দ্রবণ এবং অ্যাসিটিক অ্যাসিড উভয়ই খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হলেও তাদের কার্যপ্রণালী ভিন্ন। চিনি অভিস্রবণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে অণুজীবের পানিশূন্যতা ঘটায়, যা খাদ্যের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। অন্যদিকে, অ্যাসিটিক অ্যাসিড অম্লীয় পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে অণুজীবের বৃদ্ধিকে সরাসরি প্রতিরোধ করে। চিনির দ্রবণ মিষ্টিজাতীয় খাবার সংরক্ষণে উপযোগী, যা খাদ্যে মিষ্টি স্বাদ যোগ করে। অ্যাসিটিক অ্যাসিড মূলত টকজাতীয় বা মশলাদার খাবার সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয় এবং খাদ্যে টক স্বাদ প্রদান করে। উভয় পদ্ধতিই খাদ্যের নিরাপত্তা ও শেলফ লাইফ (shelf life) বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে খাদ্যের প্রকৃতি ও কাঙ্ক্ষিত স্বাদের উপর নির্ভর করে এদের ব্যবহার ভিন্ন হয়।