স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাকে বোঝায়।
মানুষের আচরণের মধ্যে বিভিন্ন বৈপরীত্যকে বিভিন্ন মান বা নীতি দ্বারা বিবেচনা করা যায়। এটাকে বলা হয় স্বাভাবিকতার নীতি। মানসিক স্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে মানব আচরণের এ বৈশিষ্ট্যকে স্বাভাবিক বলা হয়, যা মানুষের মনের অবস্থা ও স্বভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ বিধায় ব্যক্তির সামগ্রিক ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটে।
অমিত একজন প্রাণচঞ্চল ছাত্র। সে ক্লাসের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। কিন্তু হঠাৎ একদিন মাথা ব্যথা হওয়ায় টিফিনের সময় খেলতে না গিয়ে ক্লাসের ভেতরে চুপচাপ বসেছিল। অর্থাৎ সে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিল। সাধারণত মানসিক স্বাস্থ্য বলতে "Full and harmonious functioning of the whole personality" কে বুঝায়। অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের সুস্থতাকেই সুস্থতা বলে। খেলাধুলা যেমন আমাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে তেমনিভাবে মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের দেহ-মনের ভারসাম্য রৰায় সহায়তা করে। দেহের কোনো অঙ্গের ক্রিয়া সঠিকভাবে না হলে যেমন দৈহিক অসুস্থতা দেখা দেয়, তেমনি মানসিক প্রক্রিয়া সঠিকভাবে না হলে মানসিকভাবে অসুস্থতা সৃষ্টি হয়। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে আমরা বলতে পারি, অমিতের শরীরিক ও মানসিক অসুস্থতা একটি অপরটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
অমিতের মানসিক স্বাস্থ্যরৰায় খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। কারণ অমিত প্রতিদিন টিফিনের সময়টুকু তার সহপাঠীদের সাথে খেলাধুলা করে। এই খেলাধুলা একদিকে যেমন অমিতের শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখে, তেমনিভাবে তার মনের সুস্থতা রবায়ও সহায়তা করে। ক্রীড়াবেত্রে শিৰার্থীর জীবনে প্রতিযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মানসিক অসুস্থতা প্রত্যৰ করা যায়। খেলাধুলা শুধু শারীরিক কসরত নয়, এর সাথে আনন্দ ও পরাজয়ের বেদনাও জড়িত থাকে। একজন শিৰার্থী কোনো খেলায় জয়লাভ করলে আনন্দিত হয়, পরবর্তীতে আরও ভালো করার জন্য তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে। তবে এরু প জয়ের ফলে তার মধ্যে নেতিবাচক মনোভাবও গড়ে উঠতে পারে। যেমন: প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস, নিজকে বড় করে দেখা কিংবা অপরের দবতাকে ছোট করে দেখার প্রবণতার সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং খেলাধুলার বেত্রে অমিতের বিজয়ী মানসিকতার ভালো বা খারাপ দু'ধরনের ফলাফল আসতে পারে। আবার পরাজিত হলে অমিতের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হতে পারে। সে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করতে পারে। আবার হতাশায় মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে সে খেলাধুলা ছেড়ে দিতে পারে। জয়-পরাজয়ের এ স্বাভাবিক ঘটনাকে সহজভাবে নিতে না পারলে অমিতের মধ্যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হবে এবং তার কর্মকান্ডে নানা রকম অসংগতি পরিলৰিত হবে। এৰেত্রে তাকে ক্রীড়া শিৰক বা প্রশিৰকদের সাথে একত্রে কাজ করে তার মানসিক স্বাস্থ্য বা মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে হবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!