আইনের শাসন বলতে আইনের যথাযথ প্রয়োগকে বোঝায়। অর্থাৎ যেখানে দোষী বা অপরাধীকে আইন মোতাবেক শাস্তি দেওয়া হয় এবং এক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা হয় তাই আইনের শাসন। এক কথায় আইনের শাসনের মাধ্যমে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করা হয়।
আদর্শ জীবন বলতে বোঝায় যে জীবন অনুসরণ করলে জীবন সুন্দর ও সুগঠিত হয়। পৃথিবীতে এমন অনেক মহৎ ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটেছে যাঁদের জীবনচরিত অন্যের জন্য আদর্শ। সুতরাং বাস্তব জীবনে এসব মনীষীর সমাজসেবামূলক কাজ, অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি, আত্মত্যাগ, ক্ষমা, পরমতসহিষ্ণুতা ও দেশপ্রেমসহ অন্যান্য গুণ অনুসরণ ও অনুকরণ করলে সুন্দর সুশৃঙ্খল ও সফল জীবন লাভ করা যায়।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- আদর্শ জীবনচরিতের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- মহানবি (স.)-এর পরিচয়, সততা, বিশ্বস্ততা, সমাজসেবা, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও তাঁর অন্যান্য চারিত্রিক গুণাবলি বর্ণনা করতে পারব।
- পরিচয়সহ হযরত আবু বকর (রা.)-এর দানশীলতা, ত্যাগ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বর্ণনা করতে পারব।
- সাম্য, গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ, দেশপ্রেম ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হযরত উমর ফারুক (রা.)-এর অবদান উল্লেখ করতে পারব।
- হযরত খাদিজা (রা.)-এর পরিচয়, দানশীলতা, সহমর্মিতাসহ তাঁর চারিত্রিক মাধুর্য ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে পারব।
- হযরত ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর পরিচয়, ফিকাহশাস্ত্রে তাঁর আবদান বর্ণনা করতে পারব।
- হযরত আব্দুল কাদির জিলানী (র.)-এর পরিচয়, মানবপ্রেমসহ তাঁর চরিত্রের মহৎ গুণাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allসত্যবাদী, পরোপকারী, শান্তিকামী যুবক হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে আপনপর সকলে তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করল।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ 'মহামানব মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শের সাথে উদ্দীপকের সাঈদের কাজের আংশিক মিল রয়েছে। মহানবি (স.) শুধু একজন দীন প্রচারকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মানবীয় গুণের অধিকারী। মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ কামনাই ছিল রাসুল (স.)-এর সাধনা। তিনি আরববাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কুরাইশ গোত্রের সমমনা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' নামের একটি মানব কল্যাণমূলক সংগঠন গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেব মহানবি (স.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কুরআনের শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে এলাকায় মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। গরিব-দুঃখীদের অবস্থা চিন্তা চিন্তা করে করে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত আফরোজা বেগমের কার্যক্রম মহানবি (স.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে মিল রয়েছে।
হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের একজন বিখ্যাত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি মহানবির সুন্দর চরিত্র, সততা দেখে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে খাদিজা (রা.)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। সব শুনে তিনি মহানবিকে সান্ত্বনা দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম প্রচারে মুহাম্মদ (স.)-কে সাহস ও উৎসাহ প্রদান করতেন।
জনাব মোস্তাফিজুর রহমান ইসলামের অনন্য সংগঠন হিলফুল ফুযুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে 'কসবা' সমাজ কল্যাণ সংঘ' গঠন করেছিলেন।
মহানবি (স.)-এর আবির্ভাবের পূর্বে আরব সমাজের লোকেরা নবি ও রাসুলের শিক্ষা ভুলে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। নরহত্যা, রাহাজানি, খুন-খারাবি, ডাকাতি, মারামারি, জুয়াখেলা, মদ্যপান, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দান এক. কথায়, অপরাধের এমন কোনো দিক ছিল না যা তারা করত না।
বর্বরতায় জর্জরিত আরব জাতিকে আলোকের পথে ফিরিয়ে আনার জন্য মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) আরবের কতিপয় শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' বা 'শান্তি সংঘ' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিল আর্তের সেবা করা, অত্যাচারীকে প্রতিরোধ করা, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। হিলফুল ফুযুল সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সদা সচেষ্ট ছিল।
জয়পুর গ্রামে চুরি, রাহাজানি, ডাকাতি, ইভটিজিং প্রভৃতি অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় অপরাধমূক্ত এলাকা গড়ে তুলতে মোস্তাফিজুর রহমান কয়েকজন যুবককে নিয়ে 'কসবা সমাজ কল্যাণ সংঘ' গঠন করেন।
তাই বলা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান তার সংগঠন প্রতিষ্ঠায় হিলফুল ফুফুলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!