ফাল্গুন ও চৈত্র মাসকে বসন্তকাল ধরা হয়।
ভাদ্র ও আশ্বিন এই দুই মাস শরৎকাল। এ সময় সাদা ও স্বচ্ছ নীলের ছড়াছড়ি থাকে। সুন্দর নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মতো গুচ্ছমেঘ ভেসে বেড়ায়। গাছপালা নদীনালা প্রকৃতির সবকিছু এই ঋতুতে ঝকঝকে। নদীর ধারে ফুটে থাকে নরম সাদা কাশফুল। বিলে, পুকুরে শাপলা ফোটে। নদীতে পালতোলা নৌকা চলার দৃশ্য দেখে মন ভরে যায়।
উদ্দীপকের কবিতাংশের দৃশ্যপট 'ছবির রং' প্রবন্ধে বর্ণিত বাংলায় বসন্ত ঋতুর আগমনের বার্তা দেয়।
'ছবির রং' প্রবন্ধে লেখক বাংলার রূপবৈচিত্র্যে ভরপুর ষড়ঋতুর রং ও রূপের বর্ণনা দিয়েছেন। বসন্তকাল ষড়ঋতুর শেষ ঋতু। যার আগমনে প্রকৃতি মেতে ওঠে নতুন সাজে। গাছে গাছে সুন্দর ফুল ফোটাবার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নতুন পাতায় সাজে গাছ। হাজার লক্ষ রঙিন প্রজাপতি ফুলের মধু খেয়ে উড়ে বেড়ায়। নানা রঙের মোহনায় সেজে ওঠে ফাল্গুন, চৈত্র- এই দুই মাস।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি তাঁর লেখনীতে বসন্তঋতুর সৌন্দর্য তুলে ধরেছেন। এই ঋতুর আগমনে চারিদিক নতুন করে সাজে। গাছেরা নতুন পাতার সবুজ ছাতা মেলে ধরে প্রকৃতিতে। বিভিন্ন ফুলের কুঁড়িতে ভরে ওঠে গাছেরা। সেই রঙিন প্রকৃতিতে রঙিন ঘুড়ির মতো উড়ে-বেড়ায় প্রজাপতিরা। উদ্দীপকের ন্যায় বসন্তের আগমনে প্রকৃতির এই নতুন রূপ ও সাজের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে 'ছবির রং' প্রবন্ধে। শীতের রুক্ষতার পরে প্রকৃতি আবার নতুন সাজে সেজে ওঠে। যার আগমনে প্রকৃতি ভরে ওঠে বিভিন্ন রঙে। প্রজাপতির দল ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ায়। এমন রং ও রূপের ছটা কেবল বসন্তেই দেখা যায়। সুতরাং উদ্দীপকের কবিতাংশ 'ছবির রং' প্রবন্ধে বর্ণিত বসন্ত ঋতুর আগমনেরই বার্তা দেয়।
উদ্দীপকে কেবল বসন্তঋতুর বর্ণনা পাওয়া যায় যা 'ছবির রং' প্রবন্ধে বর্ণিত ষড়ঋতুর একটি মাত্র দিক।
'ছবির রং' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক বাংলাদেশের প্রকৃতির ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্য সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। একেক ঋতুতে প্রকৃতি একেক রং ও রূপে সাজে। গ্রীষ্মে প্রকৃতি শুষ্ক ও গরম থাকে। আবার বর্ষায় সতেজ হয়ে ওঠে। শরৎকালে নীল আর স্বচ্ছ মেঘের ছড়াছড়ি। হেমন্তে হলুদ ও গেরুয়া রঙের বাহার দেখা যায়। শীতের কুয়াশায় প্রকৃতিতে এক মায়াবী রং চোখে পড়ে। এর পরেই আসে বাহারি রঙের মেলা নিয়ে বসন্ত। প্রকৃতি আবার নতুন করে সেজে ওঠে। ষড়ঋতুর নিসর্গ রঙে বাঙালির মন প্রভাবিত হয়।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বসন্তঋতুতে প্রকৃতির রং-রূপে সেজে ওঠার বর্ণনা পাওয়া যায়। সবুজ পাতার ছাতা মেলে ধরে গাছেরা। শীতের আড়মোড়া ভেঙে একরাশ নতুন পাতা গজায়। গাছে গাছে রংবেরঙের ফুলের কুঁড়ি আসে। ফুলে ফুলে রঙিন ঘুড়ির মতো প্রজাপতি ঘুরে বেড়ায়, যা বসন্তকালের বার্তা দেয়।
'ছবির রং' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক ষড়ঋতুতে বাংলার বিচিত্র রঙের বাহার ও পালাবদলের কথা তুলে ধরেছেন। চারপাশে প্রকৃতির এমন বিচিত্র রূপের মাধুরী বাঙালির জীবনে প্রভাব ফেলে। প্রকৃতি বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্নভাবে সাজে। প্রতি সাজেই সে অপরূপ হয়ে ওঠে। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত-এই ছয় ঋতুই বাংলার জীবনধারাকে অতুলনীয় সৌন্দর্য দান করে। তাই বাংলার চিত্রশিল্পীদের ছবির রং অনেক উজ্জ্বল, সাহসী ও প্রাণবন্ত। তবে উদ্দীপকে কেবল মাত্র বসন্ত ঋতুরই আলোচনা উঠে এসেছে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের কবিতাংশটি 'ছবির রং' প্রবন্ধের আলোচ্য ষড়ঋতুর রূপবৈচিত্র্যের অংশবিশেষ তুলে ধরে।
Related Question
View Allচাষিরা অগ্রহায়ণ মাসে দল বেঁধে ফসল কাটে।
আলোচ্য উক্তিটিতে মৌলিক রঙের কথা বলা হয়েছে।
লাল, হলুদ ও নীল- এই তিনটি হলো মৌলিক বা প্রাথমিক রং। এই রংগুলোর একটিকে অন্যের সাথে মিশিয়ে নানা ধরনের রং পাওয়া যায়। যেমন- হলুদ ও নীল মিশিয়ে সবুজ, নীল ও লাল মিশিয়ে বেগুনি, লাল ও হলুদ মিশিয়ে কমলা রং পাওয়া যায়। এমনি করে এই তিন রঙের সমন্বয়ে অনেক রং পাওয়া যায়।
উদ্দীপকে বিদ্যালয়ের দৃশ্যের যে বর্ণনা রয়েছে, তাতে বসন্ত ঋতুর পরিচয় পাওয়া যায়।
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। ঋতুর পালাবদলে এদেশের প্রকৃতির রং বদলায়, বদল ঘটে রূপের। বিশেষ করে বসন্তে এদেশের প্রকৃতি বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। প্রকৃতি ও পরিবেশের এরূপ পরিবর্তন মানুষের মনেও ছাপ রেখে যায়। উদ্দীপকের বিদ্যালয়ের দৃশ্যে 'ছবির রং' প্রবন্ধে উল্লিখিত বসন্ত ঋতুর রূপ-বৈচিত্র্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রিংকু তার মামার বাড়ি আলোকদিয়া বেড়াতে গেলে তার মা তাকে সেখানকার এক বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ফুল আর প্রজাপতির শোভা দেখে মুগ্ধ হয় সে। 'ছবির রং' প্রবন্ধেও বসন্তকে 'রঙের ঋতু' হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে। এসময় গাছে গাছে সুন্দর ও সতেজ ফুল ফোটার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। নানা রঙের পাখি কিচিরমিচির করে উড়ে বেড়ায়। বাসন্তী রঙের পোশাক পরে মানুষ উৎসবে মেতে ওঠে। বসন্তের এই বর্ণিল রূপ উদ্দীপকের রিংকুর দেখা বিদ্যালয়ের দৃশ্যপটেও একইভাবে পরিলক্ষিত হয়। সে বিবেচনায় রিংকুর দেখা বিদ্যালয়ের দৃশ্যটিতে মূলত বসন্ত প্রকৃতির পরিচয় পাওয়া যায়।
'ছবির রং' প্রবন্ধে চিত্রশিল্পের সাথে জড়িত নানা বিষয়ের আলোচনা থাকলেও উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে তার খণ্ডিত অংশ।
আলোচ্য রচনায় বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী হাশেম খান ছবি আঁকা সম্পর্কে একটি প্রাথমিক ধারণা দিতে চেয়েছেন। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে তিনি নানা রঙের পরিচয়ও তুলে ধরেছেন এখানে। তাছাড়া বাংলার ঋতুবৈচিত্র্য এবং এদেশের চিত্রশিল্পে তার প্রভাবের দিকটিও ফুটে উঠেছে রচনায়।
উদ্দীপকে রিংকু গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীদের তৈরি পুতুল ও আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়। সেসব পুতুল ও ছবি উজ্জ্বল রঙের উপস্থিতিতে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের স্কুলের শিশুরা প্রকৃতির কোলে মানুষ হয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাদের ছবিগুলো ছিল প্রকৃতি ঘেঁষা। 'ছবির রং' প্রবন্ধেও এদেশের শিশুদের আঁকা ছবিতে ও উজ্জ্বল রঙের উপস্থিতির কথা আছে।
আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি অনেকটা মৌলিক রং-ঘেঁষা এবং আলাদা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। রিংকুর দেখা স্কুলের শিশুরা গ্রামীণ পরিবেশের মানুষ। ফলে তাদের তৈরি পুতুল ও আঁকা সুন্দর ছবিগুলোতে বাংলার প্রকৃতি এবং উজ্জ্বল রঙের ছাপ রয়েছে। 'ছবির রং' প্রবন্ধেও এই প্রসঙ্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে উদ্দীপকে কেবল বসন্ত ঋতুর চিত্র ফুটে উঠলেও প্রবন্ধে ছয়টি ঋতুরই সৌন্দর্যের কথা বলা হয়েছে। প্রবন্ধে ছবি আঁকারে নানা রং সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলেও উদ্দীপকে তা নেই। এ দিকগুলো না থাকায় উদ্দীপকটিতে 'ছবির রং' প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন বলা যায়। অর্থাৎ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথাযথ।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকেরা রঙিন সুতার বুনটে তাঁতের পোশাক তৈরি করে।
হলুদ, নীল ও লাল- এই তিনটি রং মিলিয়ে-মিশিয়ে অনেক রকম রং পাওয়া যায় বলে এগুলোকে মৌলিক বা প্রাথমিক রং বলা হয়।
হলুদ, নীল ও লাল- এই তিনটি রং থাকলে নানা রঙে পরিপূর্ণ রঙিন ছবি আঁকা যায়। রঙের সাথে এক বা একাধিক রং মিশিয়ে অন্য রং তৈরি করা যায়। কিন্তু অন্যান্য রঙের মিশ্রণে এ তিনটি রং তৈরি করা যায় না। এ কারণে এগুলোকে মৌলিক বা প্রাথমিক রং বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
