যে পদ্ধতিতে একজন উদ্যোক্তা নিজের সক্ষমতা যাচাই করেন, তাকে আত্মবিশ্লেষণ পদ্ধতি বলা হয়।
ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাফল্য সহজতর হয় এবং ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা কমে আসে। অনেকে উৎসাহের সাথে ব্যবসায় শুরু করলেও সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় সফল হতে পারে না। এ অধ্যায়ে আমরা মূলত ব্যবসায় পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- ব্যবসায় পরিকল্পনার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রকল্প পরিকল্পনার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রকল্প প্রণয়নের ধাপগুলো বর্ণনা করতে পারব।
- ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণের বাছাই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সঠিক ব্যবসায়টি নির্বাচন করতে পারব।
- প্রকল্প পরিকল্পনার কাঠামো ছক তৈরি করতে পারব।
- আত্ম-বিশ্লেষণের ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- আত্ম-বিশ্লেষণ পদ্ধতিটি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে পারব।
Related Question
View Allপণ্যের বাজার চাহিদা জানার উপায়কে বাজার জরিপ বলে।
ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক বলতে মূলত কারিগরি দিককে বোঝায়।
প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কীরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা হবে, কী ধরনের প্রযুক্তি নির্ধারণ করা হবে ও তার ব্যয় কেমন হবে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক আলোচনা করে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
জনাব আরিফদের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থায়ী ও চলতি মূলধন সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
স্থায়ীভাবে বা দীর্ঘদিন কোনো সম্পত্তি ব্যবহার করার জন্য স্থায়ী মূলধনের প্রয়োজন হয়। এ জাতীয় খরচ ব্যবসায় শুরুর সময়ে করতে হয়। আর চলতি মূলধনের মাধ্যমে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উভয় ধরনের মূলধন আবশ্যক।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রকল্প নেন। প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট অর্থ
না থাকায় তারা মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত জমি, দালান, আসবাবপত্র কেনার জন্য প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। প্রকল্প প্রণয়নের শুরুতেই এই ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। আবার প্রকল্প চালু
হওয়ার পর উৎপাদন কাজ চালু রাখার জন্য প্রতিনিয়ত কাঁচামাল ক্রয়, অফিস পরিচালনা ও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। এই ব্যয়গুলোর জন্য চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে জনাব আরিফদের স্থায়ী ও চলতি দুই ধরনের মূলধনই প্রয়োজন।
জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা ব্যবসায়ের প্রকল্প প্রণয়নে যথার্থ পথ অনুসরণ করেছেন-এ বিষয়ে আমি একমত।
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত পদ্ধতিতে কাজ করা হয়। ব্যবসায় প্রকল্প নেওয়ার প্রথমে পণ্য বা সেবা সামগ্রীর চাহিদা নির্ধারণ করতে হয়। এরপর এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, লাভ-ক্ষতির দিক নির্ণয় করতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা নির্মাণ ও হাউজিং শিল্পের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনা করে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রকল্প নেন। তারা প্রকল্প নেওয়ার আগে পুরো কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি একটি ছক তৈরি করেন। ছকে তারা প্রকল্পের পণ্যের বাজার চাহিদা, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক প্রভৃতি তুলে ধরেন। ছকটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়। তাই আমি মনে করি, জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা প্রকল্প প্রণয়নে যথাযথ পথ অনুসরণ করেছেন।
শিল্পের কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে।
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন হলো চলতি মূলধন।
এ ধরনের মূলধনের মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ মূলধনের সাহায্যে কোনো স্থায়ী সম্পত্তি অর্জন করা বা কেনা যায় না। সাধারণত ব্যবসায়িক কাজ চালু রাখার জন্য এ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল কেনা, মজুবি দেওয়া, ভাড়া ও পরিবহন খরচ প্রভৃতি হলো চলতি মূলধনের উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!