কালাপাহাড়ের প্রকৃত নাম রাজচন্দ্র বা রাজকৃষ্ণ বা রাজনারায়ণ।
"তব মসজিদে মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি"- এ কথা বলতে কিছু ভণ্ড ব্যক্তির সেবকের মুখোশ পরে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করাকে বোঝানো হয়েছে।
স্রষ্টার কাছে মানুষে মানুষে কোনো প্রভেদ নেই। সব ধর্ম-বর্ণ পেশার মানুষই সমান। অথচ ভণ্ড ধার্মিকেরা এই সত্যটিকে ভুলে উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে। তারা সেখানে ধর্মচর্চা করলেও মানবতা সেখানে উপেক্ষিত থাকে। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়ার জন্য এরা ধর্মের মানদণ্ডে বিচার করে। ফলে অসহায় নিরন্ন পথিক তাদের কাছে ক্ষুধার জন্য অন্ন চেয়ে পায়নি। এই সত্যটিকে তুলে ধরতেই কবি আক্ষেপ করে বলেছেন যে, "তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।"
উদ্দীপকের সবুর সাহেবের সাথে 'মানুষ' কবিতায় বর্ণিত মোল্লা-পুরুতের হীন ও আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার সাদৃশ্য রয়েছে।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কারণ তারা সবাই একই স্রষ্ট্রার সৃষ্টি। স্রষ্ট্রার কাছে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র প্রভৃতি বিচারে মানুষের ভেদ নেই। সব ভেদ-বৈষম্য মানুষেরই সৃষ্টি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, বড় ভাই আনিস সাহেব বাবার কুলখানিতে গ্রামের গণ্যমান্যদের সঙ্গে গরিব অসহায়দের সমানভাবে আপ্যায়ন করিয়েছেন বলে সবুর সাহেব বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। সবুর সাহেব মনে করেন অভিজাত ব্যক্তিদের সঙ্গে গ্রামের গরিব মানুষদের একসঙ্গে খাওয়ানো ঠিক হয়নি। এখানে সবুর সাহেবের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। একইভাবে 'মানুষ' কবিতায়ও দেখা যায়, এক অসহায় নিরন্ন ভিখারি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের কাছে খাবার ভিক্ষা চায় বলে তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপর মসজিদের মোল্লা সাহেবও নামাজ পড়ে না বলে তাকে খেতে দেয়নি।
"উদ্দীপকের আনিস সাহেব ও 'মানুষ' কবিতার কবির দৃষ্টিভঙ্গি একই।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
কিছু মানুষ স্বার্থের দৌরাত্ম্যে হৃদয়হীন অমানবিক হয়ে ওঠে। তখন মানুষের প্রতি মানুষের দয়া-মায়া থাকে না। তারা শুধু নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য কপটতার আশ্রয় নেয়। আর যারা মানবিক তারা মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন, তাদের প্রতি সর্বদা সহানুভূতিশীল থাকেন।
'মানুষ' কবিতার কবি সাম্যবাদের কথা বলেছেন। যেসব ধর্মান্ধ, কপট, ভন্ড ধার্মিক উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করছে তাদেরকে কবি তিরস্কার করেছেন। ক্ষুধার্ত, নিরন্ন, অসহায় পথিককে যে মোল্লা-পুরুতেরা খাবার দেয় না কবি তাদের ভর্ৎসনা করেছেন। একইভাবে উদ্দীপকের আনিস সাহেব সাম্যবাদী মনোভাবের ধারক-বাহক। তিনি নিজের বাবার কুলখানিতে ধনী-দরিদ্র সবাইকে একসঙ্গে নিজ হাতে সমানভাবে আপ্যায়ন করিয়েছেন। তিনি ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।
উদ্দীপকের আনিস সাহেব গবির অসহায় মানুষদের নিমন্ত্রণ করে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জ্ঞাপন করেছেন। তার এ চেতনা 'মানুষ' কবিতার কবির চেতনার সমার্থক। কারণ কবিতায় কবিও বৈষম্যের প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে সাম্যবাদী সমাজ গড়তে চেয়েচেন। এসব বিচারে বলা যায়, উদ্দীপকের আনিস সাহেব ও 'মানুষ' কবিতার কবির দৃষ্টিভঙ্গি একই। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!