আনিস সাহেব তাঁর পিতার কুলখানিতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে গ্রামের গরিব অসহায় মানুষদের দাওয়াত করেন। তিনি নিজে উপস্থিত হয়ে সকলকে সমান আপ্যায়ন করান। তিনি ধনী-গরিবে কোনো পার্থক্য করেন না। তাঁর ভাই সবুর সাহেব বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি বলেন, 'অভিজাত ব্যক্তিদের সাথে গ্রামের গরিব মানুষকে একসাথে খাওয়ানো ঠিক হয়নি।'

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

কালাপাহাড়ের প্রকৃত নাম রাজচন্দ্র বা রাজকৃষ্ণ বা রাজনারায়ণ।

উত্তরঃ

"তব মসজিদে মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি"- এ কথা বলতে কিছু ভণ্ড ব্যক্তির সেবকের মুখোশ পরে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করাকে বোঝানো হয়েছে। 

স্রষ্টার কাছে মানুষে মানুষে কোনো প্রভেদ নেই। সব ধর্ম-বর্ণ পেশার মানুষই সমান। অথচ ভণ্ড ধার্মিকেরা এই সত্যটিকে ভুলে উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফেলে। তারা সেখানে ধর্মচর্চা করলেও মানবতা সেখানে উপেক্ষিত থাকে। ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়ার জন্য এরা ধর্মের মানদণ্ডে বিচার করে। ফলে অসহায় নিরন্ন পথিক তাদের কাছে ক্ষুধার জন্য অন্ন চেয়ে পায়নি। এই সত্যটিকে তুলে ধরতেই কবি আক্ষেপ করে বলেছেন যে, "তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।"

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সবুর সাহেবের সাথে 'মানুষ' কবিতায় বর্ণিত মোল্লা-পুরুতের হীন ও আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার সাদৃশ্য রয়েছে। 

সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। কারণ তারা সবাই একই স্রষ্ট্রার সৃষ্টি। স্রষ্ট্রার কাছে ধর্ম, বর্ণ, গোত্র প্রভৃতি বিচারে মানুষের ভেদ নেই। সব ভেদ-বৈষম্য মানুষেরই সৃষ্টি।

উদ্দীপকে দেখা যায়, বড় ভাই আনিস সাহেব বাবার কুলখানিতে গ্রামের গণ্যমান্যদের সঙ্গে গরিব অসহায়দের সমানভাবে আপ্যায়ন করিয়েছেন বলে সবুর সাহেব বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। সবুর সাহেব মনে করেন অভিজাত ব্যক্তিদের সঙ্গে গ্রামের গরিব মানুষদের একসঙ্গে খাওয়ানো ঠিক হয়নি। এখানে সবুর সাহেবের বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ ঘটেছে। একইভাবে 'মানুষ' কবিতায়ও দেখা যায়, এক অসহায় নিরন্ন ভিখারি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের কাছে খাবার ভিক্ষা চায় বলে তাকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। তারপর মসজিদের মোল্লা সাহেবও নামাজ পড়ে না বলে তাকে খেতে দেয়নি।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকের আনিস সাহেব ও 'মানুষ' কবিতার কবির দৃষ্টিভঙ্গি একই।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 

কিছু মানুষ স্বার্থের দৌরাত্ম্যে হৃদয়হীন অমানবিক হয়ে ওঠে। তখন মানুষের প্রতি মানুষের দয়া-মায়া থাকে না। তারা শুধু নিজেদের বৈষয়িক স্বার্থ উদ্ধারের জন্য কপটতার আশ্রয় নেয়। আর যারা মানবিক তারা মানুষের প্রতি সদয় আচরণ করেন, তাদের প্রতি সর্বদা সহানুভূতিশীল থাকেন।

'মানুষ' কবিতার কবি সাম্যবাদের কথা বলেছেন। যেসব ধর্মান্ধ, কপট, ভন্ড ধার্মিক উপাসনালয়গুলোকে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের কাজে ব্যবহার করছে তাদেরকে কবি তিরস্কার করেছেন। ক্ষুধার্ত, নিরন্ন, অসহায় পথিককে যে মোল্লা-পুরুতেরা খাবার দেয় না কবি তাদের ভর্ৎসনা করেছেন। একইভাবে উদ্দীপকের আনিস সাহেব সাম্যবাদী মনোভাবের ধারক-বাহক। তিনি নিজের বাবার কুলখানিতে ধনী-দরিদ্র সবাইকে একসঙ্গে নিজ হাতে সমানভাবে আপ্যায়ন করিয়েছেন। তিনি ধনী-দরিদ্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।

উদ্দীপকের আনিস সাহেব গবির অসহায় মানুষদের নিমন্ত্রণ করে তাদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জ্ঞাপন করেছেন। তার এ চেতনা 'মানুষ' কবিতার কবির চেতনার সমার্থক। কারণ কবিতায় কবিও বৈষম্যের প্রতি প্রতিবাদ জানিয়ে সাম্যবাদী সমাজ গড়তে চেয়েচেন। এসব বিচারে বলা যায়, উদ্দীপকের আনিস সাহেব ও 'মানুষ' কবিতার কবির দৃষ্টিভঙ্গি একই। সুতরাং মন্তব্যটি যথার্থ।

207

                                         গাহি সাম্যের গান -

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান

নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,

সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।

                                     ‘পূজারী, দুয়ার খোলো,

ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!”

স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,

দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !

জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কণ্ঠ ক্ষীণ—

ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনি তো সাত দিন!”

সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারি ফিরিয়া চলে,

তিমিররাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !

                                       ভুখারি ফুকারি' কয়,

‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!

মসজিদে কাল শিরনি আছিল, – অঢেল গোস্ত রুটি

বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,

এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন

বলে, “বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!'

তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-'ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,

ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নমাজ পড়িস বেটা?”

ভুখারি কহিল, 'না বাবা!' মোল্লা হাঁকিল-'তা হলে শালা

সোজা পথ দেখ!' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা ।

                     ভুখারি ফিরিয়া চলে,

                    চলিতে চলিতে বলে-

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,

আমার ক্ষুধার অন্ন তা বলে বন্ধ করনি প্রভু ।

তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।

মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি !”

কোথা চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?

ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার !

খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?

সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা!

                   হায় রে ভজনালয়,

তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয় !
২০২১

Related Question

View All
233
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews