'ভারতীয় মুসলমান' (The Indian Musalmans) গ্রন্থটি স্কটিশ ইতিহাসবিদ উইলিয়াম উইলসন হান্টারের (William Wilson Hunter) লেখা।
১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয় হাউজে ভারতের শাসনকার্যের জন্য একটা নতুন শাসনতন্ত্র গৃহীত হয় যা ইতিহাসে '১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন' নামে খ্যাত।
ভারতের শাসনতান্ত্রিক ইতিহাসে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে রয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির সময়, এমনকি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানের নিজস্ব সংবিধান তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এ আইনটি সংশোধিত আকারে কার্যকর ছিল। ভারত সরকার তিনটি গোলটেবিল বৈঠকে আলোচনা করেও শাসনতান্ত্রিক সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি। তাই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী রামজে ম্যাকডোনাল্ড আইনসভায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নে স্বীয় সিদ্ধান্তে এক সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষণা করেন।
ফিলিপাইনের ন্যাশনালিস্ট পার্টি গঠনের সাথে ভারত উপমহাদেশ তথা ভারতীয় জনগণের প্রথম রাজনৈতিক দল কংগ্রেস গঠনের মিল পাওয়া যায়।
ঔপনিবেশিক ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এটি ভারতীয়দের সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ নীতি ও শাসনের বিরুদ্ধে শিক্ষিত ভারতবাসীর মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ ও অসন্তোষ দানা বেঁধে উঠলে ১৮৫৭ সালের পূর্বে ও পরে কয়েকটি ছোট ছোট রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে। ১৮৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় 'ব্রিটিশ ইন্ডিয়া সোসাইটি', ১৮৫১ সালে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় 'ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন'। কিন্তু এসব সমিতি শিক্ষিত অভিজাত ও জমিদারদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকায় মধ্যবিত্ত বা সাধারণ জনগণের মধ্যে এগুলোর কোনো আবেদন ছিল না। শাসন সংস্কারের মাধ্যমে দেশ শাসনে ভারতীয়দের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি ও তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া আদায় করাই ছিল এসব প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, ঔপনিবেশিক অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে ফিলিপাইনের জনগণ ন্যাশনালিস্ট দল গঠন করে। সব শ্রেণির জনগণের দাবি-দাওয়া আদায়ের লক্ষ্যে এ দল গঠিত হলেও পরবর্তীকালে একপেশে নীতি গ্রহণ করে। যেমনটি জাতীয় কংগ্রেস দল গ্রহণ করেছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভারতের সকল জনগণের মুখপাত্র হিসেবে জন্মলাভকরলেও অতি অল্পদিনের মধ্যেই তা হিন্দুদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায় এবং হিন্দুদের স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করতে শুরু করে। বন্দে মাতারামকে কংগ্রেস দলীয় সংগীত হিসেবে গাওয়া শুরু করলে অন্যান্য সম্প্রদায় কংগ্রেসকে সন্দেহের চোখে দেখতে শুরু করে।
সুতরাং দেখা যায়, দল গঠনের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের দিক দিয়ে ন্যাশনালিস্ট পার্টি এবং কংগ্রেস একই সূত্রে গাঁথা
কংগ্রেসের একপেশে নীতি গ্রহণের ফলে ভারতীয় মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া এবং ফিলিপাইন মুসলমানদের প্রতিক্রিয়া একই সূত্রে গাঁথা বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফিলিপাইনে গঠিত ন্যাশনালিস্ট পার্টির সাথে ভারতে গঠিত জাতীয় কংগ্রেসের গঠন ও কর্মকাণ্ড। ন্যাশনালিস্ট পার্টির একপেশে নীতির কারণে বঞ্চিত হয়ে যেমন ফিলিপাইনের মুসলমানরা পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল, তেমনি ভারতীয় মুসলমানরাও নিজেদের দাবি ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় পৃথক রাজনৈতিক দল গঠন করেছিল।
কংগ্রেস ভারতের সকল সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও দলটির কর্মসূচি ও আচরণ ছিল হিন্দুঘেঁষা। তথা এ দলটি হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষাকেই প্রাধান্য দিত। কংগ্রেসের এ রকম একপেশে আচরণের কারণে ভারতীয় মুসলমান জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ভারতের মুসলমানগণ কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে কাজ করতে থাকেন। তারা কংগ্রেসকে একটি অসাম্প্রদায়িক মণ্য হিসেবে দেখেন। কিন্তু হিন্দু সদস্যদের উন্নাসিকতা ও কংগ্রেসের কার্যক্রম মুসলমানদের হতাশ করে। কংগ্রেসের বড় বড় নেতারা মুসলমানদের জাতীয়তাবোধ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এবং মুসলমান বিরোধী কার্যকলাপ শুরু করেন। ভারতের মুসলিম নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করেন যে, কংগ্রেসের মাধ্যমে তাদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হবে না। তাই কংগ্রেসের পাল্টা শক্তি ও প্লাটফর্ম হিসেবে ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগ গঠন করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ফিলিপাইনে মুসলমানদের অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া যেন ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতীয় মুসলমানদের অবস্থা ও প্রতিক্রিয়ারই প্রতিরূপ
Related Question
View Allভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান হয় ১৮৫৮ সালে।
ভারতে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্ধারিত তারিখে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভূমি নিলামে তুলে বকেয়া আদায়ের যে কঠোর আইন ছিল তাকে সূর্যাস্ত আইন বলে।
১৭৯৩ সালে সূর্যাস্ত আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুযায়ী জমিদারদের নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করতে হতো। যেসব জমিদার ঐ সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায়ে ব্যর্থ হতেন, তাদের জমিদারি নিলামে তোলা হতো। সূর্যাস্ত আইনের কবলে পড়ে বাংলার অসংখ্য জমিদার, বিশেষ করে মুসলমান ভূস্বামীরা তাদের জমিদারি হারান।
উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে। লর্ড রিপন মূলত সংস্কার কার্যক্রমের জন্যই অধিক পরিচিত। নিম্নে তার তিনটি সংস্কারমূলক কাজ তুলে ধরা হলো:
লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে তার পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন কর্তৃক প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন রহিত করে দেশীয় ভাষায় প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন। লর্ড রিপনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ১৮৮৫ সালের রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন। বাংলাদেশ ও অযোধ্যার রায়তদের অবস্থার উন্নতির জন্য তিনি এ প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করেন। লর্ড রিপনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কীর্তি হলো ইলবার্ট বিল প্রণয়ন। এ বিলের মাধ্যমে তিনি ভারতীয় এবং ইউরোপীয়দের মধ্যে জাতিগত বৈষম্য নিরসনে মাধ্যমে ভারতীয় বিচারকদের ইউরোপীয় অপরাধীদের বিচার করার ক্ষমতা প্রদান করেন, যা ইতিপূর্বে ছিল না। যদিও পরবর্তীতে এ বিল সংশোধিত হয়। কিন্তু এ বিল নিয়ে ভারত ও ইউরোপীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব ভারতবাসীর মাঝে জাতীয়তাবাদের সৃষ্টি করে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ভারতে একজন ভাইসরয় ছিলেন যিনি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন। Bengal Municiple Act প্রণয়ন তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। উদ্দীপকের এই ভাইসরয় মূলত লর্ড রিপনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা উদ্দীপকের তথ্য লর্ড রিপনের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ভাইসরয় লর্ড রিপনের কথা বলা হয়েছে।
লর্ড রিপন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী নীতির ঘোর বিরোধিতা করে ভারতীয়দের আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দেন।
উদ্দীপকে যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি সাম্রাজ্যবাদ নীতির বিরোধী ছিলেন। ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এই শাসক রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। লর্ড রিপনের ক্ষেত্রেও অনুরূপ দৃষ্টান্ত পরিলক্ষিত হয়।
লর্ড রিপন কলকাতা আসার পূর্বে ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী গ্লাডস্টোনের উদারনৈতিক দলের সদস্য ছিলেন ১৮৫২ থেকে ১৮৭৯ সাল পর্যন্ত। পরবর্তীতে লর্ড লিটনের পদত্যাগের পর তিনি ভারতের ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৮০ সালে। তিনি সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি ভারতবাসীর রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রাজনীতির ক্ষেত্রে উদারনীতি অবলম্বন করে জনসাধারণকে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনে উৎসাহিত করেন। এভাবে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই লর্ড রিপন একজন উদারপন্থি ও শান্তিপ্রিয় শাসক হিসেবে ভারতবাসীর নিকট পরিচিতি লাভকরেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, যেখানে লর্ড রিপনের পূর্ববর্তী শাসকরা সাম্রাজ্যবাদী নীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন সেখানে লর্ড রিপন এর ঘোর বিরোধী ছিলেন। তাই বলা যায়, তিনি ভারতীয়দের রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষার মর্যাদা দিয়েছেন।
১৯৪৬ সালে 'মন্ত্রিমিশন পরিকল্পনা' পেশ করা হয়।
বলর্ড রিপন তার উদারনৈতিক শাসনের জন্য 'Ripon the Good' নামে সুপরিচিত।
লর্ড বেন্টিংক মহীশূর রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেছিলেন। লর্ড রিপন পুনরায় এটি মহীশরের হিন্দু রাজবংশের নিকট হস্তান্তর করেন। ১৮৮২ সালে তিনি পূর্ববর্তী ভাইসরয় লর্ড লিটন প্রবর্তিত সংবাদপত্র আইন (Vernacular Press Act) রহিত করে সংবাদপত্রগুলোকে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ে মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দেন। ভারতবর্ষে শিক্ষা বিস্তারের জন্য লর্ড রিপন ১৮৮২ সালে হান্টার কমিশন (Hunter Commission) গঠন করেন। তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক আইন (Bengal Municipal Act) এবং রাজস্ব ও প্রজাস্বত্ব আইন করেন। এছাড়া তিনি লবণ ও অন্যান্য বাণিজ্য দ্রব্যের ওপর থেকে শুল্ক হ্রাস করে ভারতবাসীর প্রশংসা অর্জন করেন। তাই তিনি ভারতবাসীর জন্য ছিলেন 'Ripon the Good' |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!