বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমদানিতে শীর্ষে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
শিল্প উৎপাদনে কাঁচামালের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
সাধারণত যে অঞ্চলে যে ধরনের কাঁচামাল অবস্থিত ঐ অঞ্চলে ঐ ধরনের শিল্প গড়ে ওঠে। যেমন বাংলাদেশের পাবনা, ঈশ্বরদী, কুষ্টিয়া, নাটোর প্রভৃতি অঞ্চলে আখ ভালো জন্মায় বলে ঐসব অঞ্চলে চিনির কল গড়ে উঠেছে। আবার, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় বাঁশ বেশি জন্মায় বলে ঐ এলাকায় কর্ণফুলী কাগজ কল তৈরি করা হয়েছে। এ অর্থে যেকোনো অঞ্চলে শিল্প স্থাপনে কাঁচামালের, সহজপ্রাপ্যতায় যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
উদ্দীপকে আবির ও তার মতো অনেকেই দেশের বাইরে জনশক্তি হিসেবে রপ্তানি হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন দেশে জনশক্তি অধিক রপ্তানি হচ্ছে। বেশকিছু কারণে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি হয় তা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, জাতীয় আয় বৃদ্ধি, বেকার সমস্যার সমাধান প্রভৃতি।
জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে তাদের প্রেরিত অর্থ জাতীয় আয় ও জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। তাদের প্রেরিত অর্থ দ্বারা নিজেদের পারিবারিক প্রয়োজন মেটায়। ফলে বেকারত্ব হ্রাসের মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাস পায়। সর্বোপরি লেনদেনের ভারসাম্যের ক্ষেত্রে ও শিল্পের উন্নয়নে এদেশ থেকে প্রতিবছর অধিক হারে জনশক্তি রপ্তানি করা হচ্ছে যা দেশের উন্নয়নের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করছে।
উদ্দীপকে বাংলাদেশে জনশক্তি রপ্তানির ভূমিকার কথা বলা হয়েছে যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখছে।
বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী বাইরে পাড়ি জমাচ্ছে এবং বিদেশে বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। সেখান থেকে তাদের প্রেরিত অর্থ এদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যেকোনো দেশের জন্যই 'জনশক্তি' উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ জনবহুল একটি দেশ, এদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস হলো জনশক্তি রপ্তানি।
প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।
যেমন- কলকারখানা নির্মাণ, অবকাঠামো নির্মাণ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে তাদের এই অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে। এছড়া বিভিন্ন শিল্প নির্মাণেও তাদের অর্থ ব্যবহৃত হয়। এ শিল্পে বিভিন্ন লোক কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে বেকারত্ব দূর হচ্ছে। আবার, তাদের প্রেরিত অর্থ সামাজিক ক্ষেত্রে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। তাদের প্রেরিত অর্থ দিয়ে দেশের দারিদ্র্য দূরীভূত হচ্ছে। আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দরিদ্র দেশের জন্য জনশক্তি রপ্তানি একটি বিরাট সফলতা। জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশে জাতীয় আয়ের অগ্রগতি হচ্ছে। সর্বোপরি এটি এদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আশীর্বাদস্বরূপ।
Related Question
View AllWTO এর পূর্ণরূপ হলো World Trade Organization.
শিল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক।
যেকোনো দেশের শিল্প স্থাপিত হলে সেখানে প্রচুর জনবল নিয়োগ হয়। একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রচুর শ্রমিক কাজ করে। বিভিন্ন বিভাগে বিভিন্ন যোগ্যতার জনবল শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকে। অর্থাৎ যে অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেশি সে অঞ্চলে কাজের সুযোগও বেশি থাকে।
তাই বলা যায় শিল্প কর্মসংস্থানের সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানি দ্রব্যের মধ্যে বেশিরভাগই কৃষিজদ্রব্য, পাট, চা, চিংড়ি, তামাক প্রভৃতি। তবে বর্তমানে তৈরি পোশাক, কাগজ, রেয়ন প্রভৃতি দ্রব্যের মতো শিল্পজাত পণ্যও রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি বাণিজ্যের ৭৫ ভাগই শিল্প পণ্য, খনিজ তেল, ঘড়ি, ফ্রিজ, ক্যালকুলেটর প্রভৃতি। এদেশের রপ্তানির চেয়ে আমদানি পণ্যের আধিক্যই বেশি। তাই বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্য সর্বদাই প্রতিকূল অবস্থায় থাকে। এদেশের নিজস্ব বিমান ব্যবস্থা ও জাহাজ কম থাকায় বৈদেশিক বিমান কোম্পানি ও জাহাজের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়।
বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী দেশ বিশেষ করে চীন, মায়ানমার, ভারত, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। বৈদেশিক বাণিজ্য নীতি হিসেবে বাংলাদেশে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রতি নজর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনশক্তি রপ্তানি, বাণিজ্যের গতি, বাণিজ্য এলাকার বিস্তৃতি প্রভৃতি বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ফুটে ওঠে।
উদ্দীপকে 'ক' দেশটি হলো বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক বাণিজ্যের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা যেমন কম তেমনি উৎপাদনও আশানুরূপ নয়। বাংলাদেশের অপ্রচলিত পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে খ্যাতি লাভ করেছে। তৈরি পোশাকের আইটেমের সংখ্যা বাড়িয়ে নতুন নতুন ডিজাইনের সংযোজন ঘটিয়ে এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করে এর রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। চিংড়ি বাংলাদেশের আরেকটি রপ্তানি পণ্য। যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, থাইল্যান্ড, হংকং প্রভৃতি দেশে বাংলাদেশের চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। নিবিড় চাষ পদ্ধতি ও সঠিক ভূমিনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে এদেশে চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি বহুলাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যের কতিপয় দেশ, ভারত ও অন্যান্য দেশে বাংলাদেশের কাঁচা শাকসবজি, ফলমূল, পান, গোল আলু প্রভৃতি দ্রব্য রপ্তানি করা হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এসব দ্রব্যের রপ্তানি কাড়ানো সম্ভব। বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের হস্তশিল্পজাত পণ্যদ্রব্য ক্রমশ সুনাম অর্জন করে চলছে এবং এগুলোর বাজার প্রসারিত হচ্ছে। বাঁশ, বেত, রশি, পাট, বিভিন্ন প্রকার ধাতব পদার্থ, কাঠ প্রভৃতি দ্বারা তৈরি নানা প্রকার শৌখিন হস্তশিল্পজাত দ্রব্যের ব্যাপক চাহিদা বিশ্বের অনেক দেশে রয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, বিগত প্রায় দুই দশক যাবৎ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গঠন ও বিন্যাসের ক্ষেত্রে পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। অপ্রচলিত পণ্যদ্রব্যের প্রাধান্য ও রপ্তানি সম্ভাবনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৈদেশিক বাজার ও দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগিয়ে এসব রপ্তানি পণ্যদ্রব্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে রপ্তানি বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।
দুইটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের সীমানায় অবস্থিত অপেক্ষাকৃত দুর্বল ও ক্ষুদ্র রাষ্ট্রকে বাফার রাষ্ট্র বলে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিবহন ব্যয়বহুল।
পার্বত্য এলাকা ভূ-প্রকৃতি বন্ধুর। আর এ ধরনের ভূ-প্রকৃতিতে যেকোনো ধরনের পরিবহন পথ নির্মাণ অত্যন্ত ব্যয় বহুল। বাংলাদেশে স্থল পরিবহনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রেলপথ ও সড়কপথ। আর এ দুই ধরনের পথের জন্য সমতল ভূমি উপযোগী। পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা উঁচু-নিচু ও পর্বতময় হওয়ায় সেখানে পরিবহন ব্যয়বহুল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!