আবির সাধারণত কোনো জীবের ক্ষতি করে না। অসুখ-বিসুখের সময় সে তার আত্মীয়স্বজনের সেবা করে, গুরুজনের প্রতি তার প্রবল শ্রদ্ধাভক্তি। আবির ঈশ্বরের অসীম ক্ষমতার কথা জানে। সে জানে এ বিশাল বিশ্ব ব্রহ্মান্ড তারই সৃষ্টি এবং তিনিই পরিচালনা করেন। আবির জীবকে শিব জ্ঞানে সেবা করে। সে মনে করে জীবসেবাই ঈশ্বর সেবা।

Updated: 1 year ago
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

জীবের অস্তিত্ব ঈশ্বরের ওপর নির্ভরশীল।

উত্তরঃ

স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ। পৃথিবীতে স্রষ্টার ইচ্ছাতে সবকিছু সৃষ্টি হয়েছে। আবার সব সৃষ্টির ধ্বংসও হয় স্রষ্টার ইচ্ছাতেই। তিনি নিজের সব সৃষ্টিকে শৃঙ্খলার সাথে নিয়ন্ত্রণ করছেন। আবার স্রষ্টার সব সৃষ্টির মধ্যেও রয়েছে পারস্পরিক সম্পর্ক। স্রষ্টা না চাইলে কিছুই সৃষ্টি হতো না। তাই দেখা যাচ্ছে, স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।

উত্তরঃ

আবির জীবের সেবা করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর লাভের ধারণাটি লাভকরেছিল।

এ বিশ্বব্রহ্মান্ডের সবকিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি। তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং নিজে সব সৃষ্টির মাঝে অবস্থান করেন। ঈশ্বর জীব সৃষ্টি করেছেন। তিনি সব জীবের মাঝে আত্মারূপে অবস্থান করেন। তাই সব জীবের মাঝেই ঈশ্বরের অস্তিত্ব রয়েছে। এজন্যই বলা হয়, জীবকে পূজা করলে ঈশ্বরকে পূজা করা হয় এবং জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়। সুতরাং জীবসেবার মধ্যে দিয়েই ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভকরা যায়।

উদ্দীপকের আবির জীবের সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের সেবা করা যায়-এ ধারণাটি লাভ করেছিল। তাই সে মনে করে, প্রত্যক জীব ঈশ্বরেরই অংশ। জীবের সেবা করা মানে ঈশ্বরের সেবা করা। আর জীবের ক্ষতি করা মানে ঈশ্বরের ক্ষতি করা। এজন্য আবির কোনো জীবের ক্ষতি করে না। সব জীবকে সে শিবজ্ঞানে সেবা করে। সুতরাং বলা যায়, আবির জীবের সেবা করার মধ্য দিয়ে ঈশ্বর লাভের ধারণাটি উপলব্ধি করতে পেরেছিল।

উত্তরঃ

আবিরের অনুসৃত পথটি হলো জীবের সেবার মাধ্যমে ঈশ্বরের সেবা। আবিরের এ পথটির মাধ্যমে ঈশ্বর লাভ সম্ভব।

ঈশ্বর মানুষ ও জীবজন্তুর কল্যাণের জন্য এ সুন্দর প্রকৃতি সৃষ্টি করেছেন। ঈশ্বর নিরাকার বলে তাঁকে আমরা দেখতে পাই না। তবে ঈশ্বরের সৃষ্টির মধ্যে আমরা তাকে উপলব্ধি করতে পারি। সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করার মাধ্যমে আমরা ঈশ্বরকে অনুভব করতে পারি। তাই আমাদের সবার উচিত ঈশ্বরের সব সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, ভালোবাসা ও সম্মান করা। সব জীব ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাই জীবের সেবা করার মাধ্যমেও ঈশ্বরকে লাভ করা যায়। কেননা জীবের মাঝে ঈশ্বর আত্মারূপে অবস্থান করেন। এজন্য জীবের সেবা করলে ঈশ্বরের সেবা করা হয়।

আবির শিবজ্ঞানে জীবের সেবা করে। সে একনিষ্ঠভাবে ঈশ্বরসেবার পথ অনুসরণ করে চলে। কারণ জীবসেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করা যায়- এ কথাটি আবির মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। ঈশ্বর সন্তুষ্ট হলে আবির তার সান্নিধ্য লাভ করতে পারবে। তাই আবিরের অনুসৃত পথটি হচ্ছে সঠিক পথ। এ পথেই সে ঈশ্বর লাভ করতে পারবে।

175

কোনো কিছু সৃষ্টির জন্য একজন স্রষ্টার প্রয়োজন হয়। স্রষ্টা ছাড়া কোনো কিছুর সৃষ্টি হয় না। এ মহাবিশ্ব ও মহাবিশ্বের সবকিছু অর্থাৎ মানুষ, গাছপালা, জীবজন্তু, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, আকাশ-বাতাস প্রভৃতি এক-একটি সৃষ্টি। এ সকল সৃষ্টির একজন স্রষ্টা রয়েছেন। আমরা তাঁকে দেখতে পাই না কিন্তু তাঁর অস্তিত্ব অনুভব করি। আমরা তাঁকে ঈশ্বর নামে ডাকি। তাঁর অনেক নাম- ব্রহ্ম, পরমেশ্বর, পরমাত্মা, ভগবান, আত্মা ইত্যাদি। তিনি প্রতিটি জীবের মধ্যে আত্মারূপে বিরাজ করেন। তাই আমরা জীবের সেবা করব। জীবসেবাই আমাদের পরম ধর্ম। জীবসেবার মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতে পারি। এ অধ্যায়ে স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধারণা, স্রষ্টা ও সৃষ্টির সম্পর্ক, সকল জীবের মধ্যে স্রষ্টা বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব এবং ঈশ্বর সম্পর্কিত একটি সংস্কৃত মন্ত্র বা শ্লোক বাংলা অর্থসহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • স্রষ্টা ও সৃষ্টির ধারণা এবং তাদের মধ্যকার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সকল জীবের মধ্যে স্রষ্টা বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ঈশ্বর সম্পর্কিত একটি সহজ সংস্কৃত মন্ত্র বা শ্লোক সহজ অর্থসহ বলতে পারব এবং ব্যাখ্যা করতে পারব
  • সৃষ্টির মধ্যে স্রষ্টার অস্তিত্ব উপলব্ধি করে জীবসেবায় উদ্বুদ্ধ হতে পারবো।

Related Question

View All
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

হিন্দুধর্ম অনুসারে সৃষ্টিকর্তাকে ঈশ্বর নামে অভিহিত করা যায়।

345
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

জীবাত্মা হচ্ছে পরমাত্মার অংশ। সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বর হচ্ছেন পরমাত্মা। এ ঈশ্বর যখন জীবের হৃদয়ে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে বলে জীবাত্মা। অতিক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ থেকে শুরু করে 'সকল জীবের মধ্যে তিনি জীবাত্মারূপে অবস্থান করেন। দেহকে কেন্দ্র করে আত্মার আগমন ঘটে। দেহ ছাড়া আত্মা কখনও প্রকাশিত হয় না। তেমনি আত্মা ছাড়াও জীব হিসেবে পূর্ণতা পায় না। জীবের সকল বৈশিষ্ট্য ও বৈচিত্র্যতার মাঝে ঈশ্বরেরই রূপবৈচিত্র্য প্রতিফলিত হয়। জীবের মাঝে ঈশ্বর তথা পরমাত্মা অবস্থান করে। তাই জীবাত্মাকে পরমাত্মার অংশ বলা হয়।

618
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

উদ্দীপকের বর্ণনার আলোকে বলা যায়, সজীব তার জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে এক গভীর অন্ধবিশ্বাসের পথকে বেছে নিয়েছে। সে বিশ্বাস হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের বিশ্বাস। সজীব সবকিছুই ঈশ্বরের সৃষ্টি এবং ঈশ্বর সবকিছু পরিচালনা করছেন মনে করে। অন্যদিকে তুষারের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে বিজ্ঞানভিত্তিক। সে যা সৃষ্টি করতে পারে তাই বিশ্বাস করে। তার ভিতর অন্যবিশ্বাস নেই। সে ঈশ্বরকে বিশ্বাস করতে পারে না। তাই সজীব ও তুষারের মধ্যে মূল পার্থক্য হচ্ছে গভীর বিশ্বাসের ক্ষেত্রে।

541
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

সজীব বইপুস্তক ও বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পড়ে জানতে পেরেছে যে, এ বিশাল পৃথিবী ও পৃথিবীর সবকিছু ঈশ্বরের সৃষ্টি। তাছাড়া সজীব যখন এ পৃথিবীর মানুষ, গাছপালা, জীবজন্তু, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, আকাশ, বাতাস সবকিছু একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলতে দেখে এবং ঋতু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দেখে শীতের পর বসন্ত আসে, মানুষের ক্ষেত্রেও দেখে কেউ কালো, কেউ ফর্সা, কেউ বেঁটে এবং কেউ লম্বা। তখন তার মনে এক গভীর বিশ্বাসবোধের জন্ম হয়। এ গভীর বিশ্বাসবোধ থেকেই সে সবসময় মনে করে এ সবকিছুর একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন যিনি অত্যন্ত সুন্দরভাবে এগুলো সৃষ্টি করেছেন। তিনিই হচ্ছেন ঈশ্বর।

278
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

আমাদের এ বিশাল পৃথিবী ও সকল জীবের সৃষ্টিকর্তা হচ্ছেন ঈশ্বর।

325
হিন্দুধর্ম শিক্ষা স্রষ্টা ও সৃষ্টি ষষ্ঠ শ্রেণি
উত্তরঃ

সংস্কৃত মন্ত্র:

নমস্তে পরমং ব্রহ্ম

সর্বশক্তিমতে নমঃ।

নিরাকারোহপি সাকার:

স্বেচ্ছারূপং নমো নমঃ। (যজুর্বেদ, শান্তি পাঠ)

সরল অর্থ: যিনি পরম ব্রহ্ম, যিনি সর্বশক্তিমান, নিরাকার সাকার, ইচ্ছামতো রূপধারী, তাঁকে নমষ্কার করি।

296
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews