অর্থনৈতিক কার্যাবলি ৩ প্রকার। যথা- প্রথম (কৃষি), দ্বিতীয় (শিল্প) ও তৃতীয় (সেবা) পর্যায়ের কার্যাবলি।
বাণিজ্য ভারসাম্যতা বলতে কোনো দেশের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যের মধ্যে সমতা বোঝায়।
বিশ্বের যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্যের উপর বাণিজ্যের ভারসাম্য নির্ভর করে। যেমন- বাংলাদেশের বাণিজ্য ভারসাম্য নেতিবাচক। অর্থাৎ দেশটির রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি। ২০১৮ সালে দেশটি ৩৬,৬৬৮.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি এবং ৫৪,৪৬৩.২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করে।
আবেদ যে দুগ্ধ খামার তৈরি করে তা প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কার্যাবলির অন্তর্ভুক্ত।
প্রথম পর্যায়ে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। যেমন- খনিজ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ভূঅভ্যন্তর থেকে তার সঞ্চিত ধনরত্ন (হীরা, স্বর্ণ) সংগ্রহ করে, কৃষিকার্যের ক্ষেত্রে মাটিতে বীজ বপন করে। পশু শিকার, মৎস্য শিকার, কাঠ চেরাই, পশু পালন, খনিজ উত্তোলন, কৃষিকাজ ইত্যাদি প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। উদ্দীপকে আবেদ ৮০টি বিদেশি গরু নিয়ে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলে।
সুতরাং আবেদের খামারটি প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্তর্ভুক্ত।
শাহেদের স্থাপিত শিল্পটি হচ্ছে পোশাক শিল্প।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে পোশাক শিল্পের ভূমিকা অপরিসীম। দেশের রপ্তানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। ফলে তা দেশের বাণিজ্যে ঘাটতি কমিয়ে আনতে সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৬ অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ সালে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে ২৮০৯৪.১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে যা মোট রপ্তানি আয়ের শতকরা ৮২.০১ ভাগ। প্রায় ৫০ লক্ষ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পোশাক শিল্পের সাথে জড়িত (সূত্র-BKMEA)। এদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগ নারী শ্রমিক। সস্তা শ্রম বাজার এবং সহজলভ্য শ্রমিক বিদ্যমান থাকায় বাংলাদেশে পোশাক শিল্প বিস্তার লাভ করেছে। ফলে দেশে অসংখ্য বেকারের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সুতরাং, উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে শাহেদের শিল্পটির ভূমিকা অপরিসীম।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!