ইংরেজি "Family" শব্দটি ল্যাটিন "Famulus” শব্দ থেকে গৃহীত হয়েছে।
বিবাহ হলো প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী ও পুরুষের একত্রে বসবাস করার সামাজিক স্বীকৃতি; যা সংশ্লিষ্ট সমাজ বা দেশের প্রচলিত রীতি-নীতি ও আইন দ্বারা স্বীকৃত।
পরিবার গঠনের বৈধ উপায় হলো বিবাহ। এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের মধ্যে একটি স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এটি মানব সমাজের একটি সর্বজনীন রীতি। সমাজ এর মাধ্যমে নারী-পুরুষের সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, সন্তান জন্মদান ও লালন-পালন রীতি প্রভৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত আব্দুল জলিলের বড় ছেলের পরিবারকে আকারের ভিত্তিতে অণু পরিবার হিসেবে চিহ্নিত করা যায়।
আকারের ভিত্তিতে পরিবার তিন প্রকার। যেমন: অণু পরিবার, বর্ধিত পরিবার ও যৌথ পরিবার। শাব্দিক অর্থে অণু পরিবার অর্থ ছোট পরিবার। এ ধরনের পরিবার স্বামী-স্ত্রী এবং তাদের সন্তান সন্ততি নিয়ে গঠিত হয়। অণু পরিবারের সদস্যসংখ্যা সাধারণত ৩/৪ জনের বেশি হয় না।
আব্দুল জলিলের বড় ছেলে স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। গ্রাম থেকে শহরে এসে তারা নতুন সংসার জীবন শুরু করেছেন। এক্ষেত্রে তাদের পরিবারটি বড় একটি পরিবারের অংশ থেকে ছোট পরিবারে রূপান্তরিত হয়েছে। তাদের পরিবার দুজন সদস্য নিয়ে গঠিত। তাদের কোনো সন্তান-সন্ততি এখনো হয়নি। সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে একটি অণু পরিবার। কিছু দিন আগেও আব্দুল জলিলের বড় ছেলে তার বাবা-মা ও ভাইদের সাথে বর্ধিত পরিবারে বসবাস করতেন, কিন্তু চাকরির সুবাদে তিনি শহরবাসী হয়েছেন। তাই বলা যায়, আকারের ভিত্তিতে আব্দুল জলিলের বড় ছেলের পরিবারটি অণু পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্নে উল্লিখিত পরিবার তথা অণু পরিবারের গুরুত্ব বাংলাদেশে দিন দিন বাড়ছে।
সমাজকাঠামো ও মানুষের জীবনব্যবস্থায় পরিবর্তন একটি অবশ্যম্ভাবী বিষয়। প্রাচীনযুগের সমাজব্যবস্থা যেমন ছিল এখন আর সেরকম নেই। এই পরিবর্তন সমাজকাঠামোর প্রতিটি স্তরেই ঘটেছে। ফলে সময়ের সাথে সাথে পরিবারের কাঠামোতেও পরিবর্তন এসেছে। এক সময়ের স্বাভাবিক চিত্র যৌথ পরিবারের জায়গায় এখন অণু বা একক পরিবার জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থায় পরিবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে এক সময় মা-বাবা, ভাই-বোন, দাদা-দাদি সবাইকে নিয়ে একসাথে বসবাসের রীতি ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। তবে শিল্পায়ন ও নগরায়ণসহ বিভিন্ন কারণে অণু বা একক পরিবার গঠনের হার দ্রুত বাড়তে থাকে। অণু পরিবারের সুবিধা হলো, এই পরিবার কাঠামোতে সন্তান-সন্ততির জন্য সহজেই সব ধরনের মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। পরিবারের আকার ছোট হওয়ায় সন্তানের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য, মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা করা যায়। এ কারণে দিন দিন অণু পরিবার জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে এ কথাও সত্যি যে, অতীতের মতো পারিবারিক সংযোগ বা মানসিক অনুভূতির আদান-প্রদান অণু পরিবারে অনেকাংশেই অনুপস্থিত।
সামগ্রিক আলোচনা থেকে বলা যায়, অণু বা একক পরিবারের উৎপত্তি তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক ঘটনা হলেও দিন দিন এর বিস্তার ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
Related Question
View Allরাজনৈতিক অস্থিরতা বেকারত্ব সৃষ্টির অন্যতম একটি কারণ।
রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল হলে মানুষের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দেয়। এর ফলে মানুষ কর্মবিমুখ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প, বিনিয়োগ, আমদানি-রপ্তানি প্রভৃতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি সম্ভব হয় না। এর ফলে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে পুষ্টিহীনতা সমস্যার চিত্র পাওয়া যায়।
মৌলিক চাহিদা পূরণের ব্যর্থতা থেকেই সৃষ্টি হয় পুষ্টিহীনতা। খাদ্য তালিকায় ছয়টি পুষ্টি উপাদানের যেকোনো একটি পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে স্বাভাবিক পুষ্টি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে অপুষ্টি দেখা দেয়। বাংলাদেশের পুষ্টিহীনতার চিত্র উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' ইউনিয়নের অনুরূপ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে ১১.৫ ভাগ শিশু স্বাভাবিক এবং ৮৮.৫ ভাগ শিশু অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট এর তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশে শতকরা ৩৬ ভাগ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে এবং ৯০ ভাগ শিশু রক্তশূন্যতার শিকার হয়। অপুষ্টির প্রভাবে শিশু মৃত্যু হার বৃদ্ধি, অন্ধত্ব, রাতকানা, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'ক' ইউনিয়নের শিশুদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো পাওয়া যায় তা পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যার লক্ষণ।
আমি মনে করি, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের উদ্যোগ পুষ্টিহীনতাজনিত সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
পুষ্টিহীনতা বাংলাদেশের একটি মৌলিক চাহিদার অপূরণজনিত সমস্যা। মানবদেহের স্বাভাবিক অবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের গুণগত ও পরিমাণগত অভাবজনিত অবস্থাকে অপুষ্টি বলে। খাদ্যের আমিষ, শর্করা, স্নেহ পদার্থ, পানি, খনিজ লবণ ও ভিটামিন এর অভাব হলে অপুষ্টি জনিত সমস্যা শুরু হয়। প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবে শিশুর কম ওজন, অন্ধত্ব, বিকলাঙ্গতা, স্বাস্থ্যহীনতা প্রভৃতি সমস্যা দেখা দেয়।
উদ্দীপকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে বাবা-মায়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে অভিভাবকদের সচেতনতা অপুষ্টি সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বাবা-মা শিশুর জন্য পুষ্টিকর বা সুষম খাদ্যের ব্যবস্থা করলে তারা কম ওজন, অন্ধত্ব প্রভৃতি সমস্যা থেকে রক্ষা পাবে। গর্ভাবস্থায় মাকে পুষ্টিকর খাদ্য তথা আয়োডিন, ক্যালসিয়াম, লৌহ ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। অপুষ্টিজনিত সমস্যা সমাধানে কমিউনিটি পর্যায়ে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করতে হবে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ও সন্তানের খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতন হবে।
সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, বাবা মার সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টিহীনতা হ্রাসে চেয়ারম্যানের উদ্যোগ কার্যকর
হবে।
বিবাহের প্রধান ভূমিকা পরিবার গঠন।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম।
সাম্প্রদায়িকতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, মুক্ত চিন্তা-চেতনা ও সুষ্ঠু
সামাজিকীকরণের অভাব জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্যতম কারণ। পরিবার মানুষকে সুষ্ঠু বিকাশ, ব্যক্তিত্ব গঠন, উদার আদর্শ, রীতি-নীতি, মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও সাংস্কৃতিক ধ্যান-ধারণা প্রদান করে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে ভূমিকা রাখে। পরিবার দায়িত্ব-কর্তব্য, শৃঙ্খলাবোধ, শিষ্টাচার, দেশপ্রেম, আইনের প্রতি আনুগত্য ইত্যাদি গুণ শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করে। আবার সামাজিক নিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!