সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনাই হচ্ছে সুশাসন।
সাধারণভাবে সুশাসন বলতে একটি আদর্শ শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যা একটি দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। সুশাসন না থাকলে কোনো দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। কেননা সুশাসনের অভাবে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যা দেশের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। সুশাসন রাষ্ট্রের সকল জনগণকে আইনের দৃষ্টিতে সমান চোখে দেখতে শেখায়। আর এভাবেই সুশাসন আইনের শাসন নিশ্চিত করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটিতে সুশাসনের যেসব বৈশিষ্ট্যের অভাব রয়েছে তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
আইনের শাসন: সুশাসনের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আইনের শাসন। কিন্তু উদ্দীপকের রাষ্ট্রটিতে আইনের শাসন না থাকায় সেখানে দুর্নীতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক বৈষম্য ও দরিদ্রতা লক্ষ করা যাচ্ছে। যদি উক্ত রাষ্ট্রটিতে আইনের শাসন থাকত তাহলে সকল ক্ষেত্রেই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা লক্ষ করা যেত।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা : একটি রাষ্ট্রে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা না থাকে, তাহলে সে রাষ্ট্রে কোনোভাবেই সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে না। উদ্দীপকের রাষ্ট্রে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই প্রমাণ করে যে, উক্ত রাষ্ট্রে সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব রয়েছে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি দেশে বিভিন্ন ধর্মের লোকদের মিলেমিশে বসবাস করতে শেখায়। কিন্তু উদ্দীপকের রাষ্ট্রে জাতিগত দাঙ্গার সমস্যা রয়েছে। যা প্রমাণ করে যে উক্ত রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অভাব রয়েছে।
উদ্দীপকে আব্দুল হালিম-এর রাষ্ট্রটিতে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নিচে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো-
দুর্নীতি প্রতিরোধ: দুর্নীতিকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আর এ সমস্যাটি উদ্দীপকের রাষ্ট্রটিতে বিদ্যমান। কাজেই দুর্নীতি প্রতিরোধ করে আব্দুল হালিমের রাষ্ট্রটিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
শিক্ষার বিস্তার: শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ সুশাসনের সুফল সম্পর্কে ধারণা লাভ করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী হয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। শিক্ষার বিস্তারের মাধ্যমে আব্দুল হালিমের রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে সচেতনতাবোধ জাগ্রত করে দুর্নীতি, বৈষম্য ও দরিদ্রতা দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
দারিদ্র্য দূরীকরণ: দারিদ্র্য যেকোনো নাগরিককেই যেকোনো অন্যায় করতে উদ্বুদ্ধ করে। যে কারণে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দারিদ্র্য বড় বাধা। এজন্য আব্দুল হালিমের দেশে দারিদ্র্য দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা: সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম একটি বাধাহলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকা। এজন্য আব্দুল হালিমের রাষ্ট্রটিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করে জাতিগত দাঙ্গা দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা: আইনের শাসন সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতমউপায়। উদ্দীপকে আব্দুল হালিমের রাষ্ট্রটিতেও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি বলতে পারি, সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আরও কিছু বিষয় থাকলেও উক্ত বিষয়গুলোর সুষ্ঠু চর্চার মাধ্যমে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!