কালাপাহাড় অনেক দেবালয় ধ্বংস করেছেন।
কবি মানুষকে 'মহীয়ান' বলেছেন কারণ মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
'মানুষ' কবিতায় কবি সাম্যের গান গেয়েছেন। পৃথিবীতে নানা বর্ণ, ধর্ম, গোত্রের মানুষ বাস করে। ভিন্ন ভিন্ন ধর্মে বিভক্ত হলেও তাদের পরিচয় একটাই, তারা মানুষ। তাদের শরীরে একই রঙের রক্ত বইছে। মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। মানুষের জ্ঞান আছে, বুদ্ধি আছে। এক স্রষ্টাই তাদের সৃষ্টি করেছেন। তাই কবি মনে করেন এই পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে বড় অন্য কিছুই হতে পারে না। মানুষই মহীয়ান।
উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার অসাম্প্রদায়িক চেতনার দিকটিকে নির্দেশ করেছে।
সাম্যবাদের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সব মানুষ সমান। সবাই একই স্রষ্টার সৃষ্টি। একই চন্দ্র-সূর্যের আলোতে, ফুলে-ফসলে লালিত। তাদের সবার জন্ম-মৃত্যুও এক ও অভিন্ন। জগৎজুড়ে মানুষে মানুষে যে বিভেদ-বৈষম্য বিদ্যমান তা মানুষের স্বার্থের কারণে সৃষ্টি হয়েছে এবং মানুষই তা ধর্ম-বর্ণ-জাতির দোহাই দিয়ে তৈরি করেছে।
উদ্দীপকে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যসাধনের চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। এখানে দেবতার থানে বটের ঝুরিতে সুতা বাঁধা এবং পীরের দরগায় চেরাগ জ্বালানোকে এক করে দেখা হয়েছে। একজনের স্তোত্রপাঠ যেমন অন্যজনকে ডাকে, তেমনই অন্যজনের আজানের ধ্বনি ঐ একজনকে খুঁজে ফেরে। এভাবে হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যসাধনের যে চেতনা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে তা 'মানুষ' কবিতায় প্রতিফলিত সাম্যবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে নির্দেশ করে। 'মানুষ' কবিতায় কবি 'মানুষ' হিসেবে মানুষের মর্যাদা লাভের দিকটি তুলে ধরেছেন। ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার না দিয়ে তার সঙ্গে মসজিদের মোল্লা এবং মন্দিরের পূজারির অমানবিক আচরণকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। পৃথিবীর সব মানুষ যে অভিন্ন এক জাতি তিনি এই সত্য সবার সামনে তুলে ধরেছেন। উদ্দীপকের কবিতাংশেও এই বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের 'মূলভাব' এবং 'মানুষ' কবিতার মূলভাব একসূত্রে গাঁথা।- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীতে মানুষের মধ্যে ধর্ম-বর্ণের যে পার্থক্য দেখা যায় তা কৃত্রিম। তা মানুষের স্বার্থের জন্য তৈরি। স্রষ্টার কাছে কেউ ছোট কেউ বড় নয়। তাঁর কাছে সবাই সমান। সবাইকে তিনি একই রকম রক্ত, মাংস, অনুভূতি, প্রাণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই স্বার্থের কারণে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা উচিত নয়।
'মানুষ' কবিতায় কবি সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। এখানে কবি মানুষকে আত্মস্বার্থ ত্যাগ করে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসার আহ্বান করেছেন। সাম্যবাদী চেতনায় মানুষকে 'মানুষ' হিসেবে মর্যাদাদানের আহ্বান করেছেন। 'মানুষ' কবিতার এই চেতনা উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে মানুষের কান্না ও সুখের অনুভূতি এক ও অভিন্ন হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বটের ঝুরিতে সুতা বাঁধা আর দরগায় প্রদীপ জ্বালানোর মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে পার্থক্য দেখা গেলেও বিশেষ বিচারে তা এক স্রষ্টারই আরাধনা। কারণ যারা স্তোত্রপাঠ করেন এবং যারা আজানের ধ্বনি দেন তাঁরা সবাই এক স্রষ্টার সৃষ্টি।
'মানুষ' কবিতায় কবি মোল্লা ও পুরুতের অমানবিকতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি তাদেরকে নিজ স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার না করে মানবকল্যাণে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। উদ্দীপকেও অনুরূপ চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে হিন্দু-মুসলমানকে এক বৃত্তে দুই ফুল এবং এক মাঠে দুই ফসল বলে উল্লেখ করে তাদের মধ্যে ঐক্যসাধন করতে চেয়েছেন। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!