অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী।
শৈশবের নদীতীর এবং তার সৌন্দর্যকে কবি সমস্ত সত্তা দিয়ে ভালোবেসেছেন এবং প্রতিনিয়ত তাকে অনুভব করেন- এ ভাবটি কবি প্রশ্নোক্ত চরণে প্রকাশ করেছেন।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি জন্মভূমির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। কবি গ্রামবাংলার সন্তান; স্বদেশের প্রকৃতি, পরিবেশ, নদী, মাঠ তাঁর অস্তিত্বজুড়ে আছে। কবি পল্লিমায়ের কোলে শৈশব থেকে বেড়ে উঠেছেন। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তিনি নদীর কিনারে ঘুরে বেড়িয়েছেন। নদীর তীর ও নদীর সঙ্গে তাঁর আত্মার মিতালি। সেসব স্মৃতি কবিকে সুখানুভূতিতে সিক্ত করে। অনুভবে মিশে আছে ধু ধু নদীর কিনারের সৌন্দর্য। প্রশ্নোক্ত লাইনটিতে কবিমনের এমন ভাবই উঠে এসেছে।
উদ্দীপকটি আমার পাঠ্য 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। দেশের অতি ক্ষুদ্র বিষয়ও একজন দেশপ্রেমিকের কাছে অতি মূল্যবান। যে দেশকে সত্যিকারের ভালোবাসে সে দেশকে তার অস্তিত্বের অংশ মনে করে।
জন্মভূমির সঙ্গে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের যে সম্পর্ক তা তুলে ধরা হয়েছে। কবি এখানে এ দেশের বটের ছায়ায় তাঁর দাদার দাদার বাঁশি বাজানোর কথা বলেছেন। কবির দাদা আলে বসে পাকা ধানের হাসি দেখতেন, কবির বাবা লাঙল হাতে জমি চাষ করতেন; কবিও সেই লাঙলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলেছেন। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায়ও কবি এদেশের মাটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা বলতে চেয়েছেন। তিনি কোনো আগন্তুক নন। কারণ তাঁকে এদেশের বাঁশবাগান, পাখি, মাছরাঙা, ক্লান্ত বিকেলের মেঘ সবাই চেনে। তাঁর শরীরে স্নিগ্ধ মাটির সুবাসলেগে আছে। কবিতায় প্রকাশিত এ ভাবটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
'কবিতা এবং উদ্দীপক উভয়ের ভাবার্থ অভিন্ন।'- উক্তিটি যথার্থ।
মা-মাটি-মাতৃভাষা মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকে। জন্মভূমিকে ভালো না বেসে কেউ থাকতে পারে না। জন্মের পর থেকে মানুষ, ধীরে ধীরে মাকে যেমন চিনতে থাকে তেমনই জন্মভূমির প্রকৃতি ও পরিবেশকে আপন করে নেয়। দেশের প্রকৃতি ও মাটির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়।
উদ্দীপকে জন্মভূমির সঙ্গে চিরকালীন সম্পর্কের দিকটি কবি গভীর মমতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন। কবির পূর্বপুরুষরা এদেশকে গভীরভাবে ভালোবেসেছেন কবিও দেশের মাটির সঙ্গে টান অনুভব করেন। এ দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় অভিন্নভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর যে আত্মার সম্পর্ক রয়েছে সেই সত্য প্রকাশ করেছেন আলোচ্য কবিতায়।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের আজীবনের নিবিড় সম্পর্কের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। কবি এখানে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে তাঁর চিরচেনা পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানকে সাক্ষী মেনেছেন। তিনি কোনো আগন্তুক নন। এদেশের সবকিছুই কবির চেনা। তিনি যেমন আকাশ, ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙাকে চেনেন তেমনই তারাও তাঁকে চেনে। এই জনপদের মানুষও তাঁকে চেনে এবং ভালোবাসে। এ দেশের মাটির গন্ধ কবির শরীরে লেগে আছে। এই জনপদের সঙ্গে তাঁর জীবন বাঁধা। উদ্দীপকেও এ বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!