'নিশা' শব্দের অর্থ রাত বা রাত্রি।
কপোতাক্ষ নদের সাথে আর কোনোদিন দেখা হবে কিনা সেই বিষয় নিয়ে কবির মনে সংশয়।
শৈশবে কবি কপোতাক্ষ নদের তীরে প্রাকৃতিক পরিবেশে বড় হয়েছেন। যখন তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন, তখন জন্মভূমির শৈশব- কৈশোরের বেদনা-বিধুর স্মৃতি তাঁর মনে জাগিয়ে তোলে কাতরতা। দূরে বসেও তিনি কপোতাক্ষ নদের কলকল ধ্বনি শুনতে পান। তিনি আবার ফিরে আসতে চান কপোতাক্ষের কাছে। কিন্তু তাঁর মনে সংশয় জাগে আর কি দেখা হবে প্রিয় কপোতাক্ষের সাথে?
স্বদেশানুরাগের দিক থেকে উদ্দীপকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জন্মভূমির প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা মানুষকে মহত্ত্ব ও গৌরব দান করে। স্বদেশের মাটির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করে মানুষ ধন্য হয়। কারণ স্বদেশের মাটির কাছে মানুষের ঋণের শেষ নেই। তাই মানুষ স্বদেশ ছেড়ে অন্য যেখানেই যায়, সেখানেই জন্মভূমির নানা অনুষঙ্গ, নানা স্মৃতি তাকে ঘিরে থাকে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে স্বদেশের প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। প্রতিদিনের জীবনাচরণে স্বদেশের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। প্রিয় স্বদেশের মাটি আমাদের জীবনের সঙ্গে মিশে আছে। এখানে প্রকৃতির অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় পরিবেশেই মানুষ টিকে থাকে। স্বদেশের দানে তারা মুগ্ধ এবং গৌরবময় জীবনের অধিকারী। উদ্দীপকের কবিতাংশের কবির এই স্বদেশানুরাগ 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় প্রতিফলিত কবির স্বদেশানুরাগের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি প্রবাসজীবনে প্রিয় কপোতাক্ষ নদকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করেছেন। কারণ এ নদকে কেন্দ্র করে তাঁর শৈশব ও কৈশোর জীবনের নানা স্মৃতি তাঁকে তাড়িত করেছে।
"মিল থাকলেও উদ্দীপক ও কবিতার মূলভাব সম্পূর্ণ এক নয়।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা মানুষকে মর্যাদাবান করে। স্বদেশের দানে মানুষ সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। স্বদেশের মাটির সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেই মানুষ ধন্য হয়। স্বদেশকে অবজ্ঞা করে যারা প্রবাসে গিয়ে নিজেদের তুলে ধরতে চায় তারা ভুল করে এবং ব্যর্থ হয়ে প্রকৃত মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়।
উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি গভীর ভালোবাসার দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেশের মাটিতে প্রাণের স্পন্দন, জীবনের সন্ধানের কথা বলা হয়েছে। স্বদেশে মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনায় মিলেমিশে একাকার। এখানে জীবনে ঝড়-ঝঞ্ঝা যেমন আছে তেমনই আছে শান্তি-সুখের খবর। উদ্দীপকে স্বদেশের প্রতি মানুষের এই সম্পৃক্ততার দিকটি 'কপোতাক্ষ নদ' কবিতার স্বদেশের প্রতি কবির অনুরাগ ও ভালোবাসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু কবিতায় প্রকাশিত তাঁর হৃদয়বেদনা অন্যান্য প্রসঙ্গের পূর্ণ প্রতিফলন নয়। কারণ সেখানে কবি তাঁর শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা স্মরণ করে ব্যথিত হয়েছেন।
'কপোতাক্ষ নদ' কবিতায় কবির ব্যক্তিগত আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। কবি প্রবাসজীবনে তাঁর জন্মভূমির কপোতাক্ষ নদকে স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হয়েছেন। এই বিষয়টি উদ্দীপকে নেই। কবি কপোতাক্ষ নদের জলকে মাতৃদুগ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন। এ ধরনের অনুভূতি উদ্দীপকে অনুপস্থিত। এসব দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!