আমিনুর সাহেব দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। প্রবাসের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষে তিনি নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। গ্রামের মানুষের অভাব-অনটন দেখে তিনি মর্মাহত হন। গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ প্রায়শই তার কাছে সাহায্য চাইতে আসেন। কিন্তু তিনি কাউকে সাহায্য করেন না। তিনি ভাবেন, দুই-চার হাজার টাকা সাহায্য করে কারো ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না। বরং তারা আমার কাছে ছোটো হবেন। একদিন তিনি এলাকার যুবক-যুবতীদের নিয়ে সভায় বসেন। সিদ্ধান্ত হয় এলাকার সমস্ত পুকুর লিজ নিয়ে সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ করবেন। গরু ও মুরগির ফার্ম গড়ে তুলবেন। অল্প দিনের মধ্যেই এলাকার দৃশ্যপট বদলে যায়। এলকার সমস্ত মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ আবুল ফজল রচিত 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধটি প্রথম 'সাঁকো' গ্রন্থে সংকলিত হয়।
Satt AI
Satt AI
6 days ago
উত্তরঃ

মানব-কল্যাণ স্বয়ম্বুস্থ, বিচ্ছিন্ন বা সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না। এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তির বা সমাজের প্রকৃত কল্যাণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় এককভাবে সাধিত হতে পারে না। বরং, তা পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সম্ভব হয়। একজন মানুষ বিচ্ছিন্নভাবে কখনোই সম্পূর্ণরূপে সুখে বা শান্তিতে থাকতে পারে না, কারণ তার অস্তিত্ব ও প্রয়োজন সামাজিক কাঠামোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

প্রকৃত মানব-কল্যাণ বলতে এমন একটি অবস্থা বোঝায় যেখানে সমাজের প্রতিটি সদস্য একে অপরের প্রতি দায়িত্বশীল এবং সমষ্টিগতভাবে সকলের উন্নতির জন্য কাজ করে। বিচ্ছিন্নভাবে কেবল অর্থ বা বস্তুগত সাহায্য দিয়ে কারো স্থায়ী কল্যাণ সাধন করা সম্ভব নয়। তাই, মানব-কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য সামাজিক বন্ধন, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টা অপরিহার্য, যেখানে একজন অপরের উন্নতিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
উত্তরঃ

মানস-পুত্র বলতে বোঝায় এমন এক ব্যক্তি বা চরিত্র, যিনি কোনো লেখক বা প্রাবন্ধিকের আদর্শ, চিন্তা ও দর্শনের বাস্তব প্রতিফলন ঘটান। প্রাবন্ধিকগণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন যুক্তি ও দর্শনের অবতারণা করেন, আর সেই দর্শনকে কর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন এমন ব্যক্তিকেই প্রাবন্ধিকের মানস-পুত্র হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উদ্দীপকের আমিনুর রহমান দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষ করে গ্রামে ফিরে এসে মানুষের অভাব-অনটন দেখে মর্মাহত হন। কিন্তু তিনি সাময়িক সাহায্য না করে একটি সুদূরপ্রসারী ও টেকসৈ সমাধানের পথ বেছে নেন। তিনি যুবক-যুবতীদের নিয়ে সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ, গরু ও মুরগির ফার্ম গড়ে তোলেন, যার ফলে অল্প দিনের মধ্যেই এলাকার মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে। এই কর্মপদ্ধতি একজন দূরদর্শী প্রাবন্ধিকের গভীর সামাজিক চিন্তা ও দর্শনেরই প্রতিচ্ছবি।

বস্তুত, আমিনুর রহমান তার কাজের মধ্যে প্রাবন্ধিকের সেই আদর্শেরই বাস্তবায়ন করেছেন, যেখানে ব্যক্তিগত সাহায্য নয় বরং সমষ্টিগত উদ্যোগ ও স্বাবলম্বিতাই একটি সমাজের মূল চালিকাশক্তি। তিনি মানুষের আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ণ না করে তাদের সক্ষমতা তৈরিতে সহায়তা করেছেন, যা একজন প্রাবন্ধিকের কাঙ্ক্ষিত মানবতাবাদী দর্শনেরই প্রতিচ্ছবি। তাই, উদ্দীপকের আমিনুর রহমানকে প্রাবন্ধিকের মানস-পুত্র বলা যথার্থ।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
উত্তরঃ

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধের মূলবক্তব্য হলো সাময়িক সাহায্য বা অনুদান প্রদানের মাধ্যমে মানব-কল্যাণ সম্ভব নয়। বরং মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাদের নিজস্ব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার মাধ্যমেই প্রকৃত ও টেকসই মানব-কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়। উদ্দীপকে আমিনুর সাহেবের গৃহীত পদক্ষেপসমূহ এই প্রবন্ধের মূলবক্তব্যকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিফলিত করেছে।

উদ্দীপকের আমিনুর সাহেব বিদেশে দীর্ঘদিন কর্মজীবন শেষে নিজ গ্রামে ফিরে এসে দেখেন গ্রামের মানুষের অভাব-অনটন নিত্যদিনের সঙ্গী। গ্রামের লোকজন তার কাছে সাহায্য চাইতে এলেও তিনি নগদ টাকা দিয়ে কাউকে সাহায্য করেননি। কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, সাময়িক আর্থিক সাহায্য কারো ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে না, বরং এতে সাহায্য গ্রহণকারী ব্যক্তির আত্মসম্মান ক্ষুণ্ন হয়। তাই তিনি এলাকার যুবক-যুবতীদের নিয়ে এক সভায় বসেন এবং সমবায় ভিত্তিতে মাছ চাষ, গরু ও মুরগির ফার্ম গড়ে তোলার মতো টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার এই দূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে অল্প দিনের মধ্যেই এলাকার দৃশ্যপট বদলে যায় এবং গ্রামের সমস্ত মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।

‘মানব-কল্যাণ’ প্রবন্ধে যেমন কেবল ভিক্ষা দেওয়া বা সাময়িক অনুদান দিয়ে মানুষকে নির্ভরশীল করে তোলার ধারণাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, ঠিক তেমনি উদ্দীপকের আমিনুর সাহেবও এই পথ পরিহার করেছেন। প্রবন্ধের মূল কথা হলো, মানুষকে শ্রমের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা, তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং তাদের মেধা ও শ্রমকে উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগিয়ে আত্মমর্যাদাশীল জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে তোলা। আমিনুর সাহেবের সমবায়ভিত্তিক মাছ চাষ ও পশুপালনের উদ্যোগ সরাসরি এই নীতির প্রতিফলন। তিনি গ্রামের মানুষকে কেবল জীবিকা অর্জনের পথই দেখাননি, বরং তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উৎপাদনশীল ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল ও সম্মানের জীবন নিশ্চিত করেছে।

আমার মতে, উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূলবক্তব্য অত্যন্ত সফলভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আমিনুর সাহেবের কর্মপদ্ধতি প্রমাণ করে যে, প্রকৃত মানব-কল্যাণ কেবল বস্তুগত সাহায্য প্রদানে নয়, বরং মানুষের সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার মধ্যেই নিহিত। তার গৃহীত উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক মুক্তিই আনেনি, বরং গ্রামবাসীদের মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার মানসিকতা এবং সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রবণতাও তৈরি করেছে, যা প্রবন্ধের মর্মবাণীকে যথার্থভাবে তুলে ধরেছে।

Satt AI
Satt AI
6 days ago
62

মানব-কল্যাণ— এ শিরোনাম আমার দেওয়া নয়। আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানব-কল্যাণ
কথাটা অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে । একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকেও আমরা মানব-কল্যাণ মনে করে থাকি । মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে এতে যে ক্ষুণ্ণ করা হয় তা সাধারণত উপলব্ধি করা হয় না ।
ইসলামের নবি বলেছেন, ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ। নিচের হাত মানে যে মানুষ হাত পেতে গ্রহণ করে, ওপরের হাত মানে দাতা- যে হাত তুলে ওপর থেকে অনুগ্রহ বর্ষণ করে। দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতা তার সর্ব অবয়বে কীভাবে প্রতিফলিত হয় তার বীভৎস দৃশ্য কার না নজরে পড়েছে? মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। এ কথা
ব্যক্তির বেলায় যেমন সত্য, তেমনি দেশ আর রাষ্ট্রের বেলায় বরং অধিকতর সত্য। কারণ, রাষ্ট্র জাতির যৌথ
জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু প্রশাসন চালানোই নয়, জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তর দায়িত্ব । যে রাষ্ট্র হাতপাতা আর চাটুকারিতাকে দেয় প্রশ্রয়, সে রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না ।
তাই মানব-কল্যাণ অর্থে আমি দয়া বা করুণার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাতকে মনে করি না। মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না। মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত। একদিন এক ব্যক্তি ইসলামের নবির কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল । নবি তাকে একখানা কুড়াল কিনে দিয়ে বলেছিলেন, এটি দিয়ে তুমি বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা রোজগার করো গে। এভাবে তিনি লোকটিতে শুধু স্বাবলম্বনের পথ দেখাননি, সে সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছিলেন মর্যাদাবান হওয়ার, মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের উপায়ও ।
মানুষকে মানুষ হিসেবে এবং মানবিক-বৃত্তির বিকাশের পথেই বেড়ে উঠতে হবে আর তার যথাযথ ক্ষেত্র রচনাই মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান। সে সোপান রচনাই সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমাজের ক্ষুদ্রতম অঙ্গ বা ইউনিট পরিবার— সে পরিবারকেও পালন করতে হয় এ দায়িত্ব। কারণ, মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা সেখান থেকেই। ধীরে ধীরে ব্যাপকতর পরিধিতে যখন মানুষের বিচরণ হয় শুরু, তখন সে পরিধিতে যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে— তা শিক্ষা কিংবা জীবিকা সংক্রান্ত যা হোক না তখন সে দায়িত্ব ঐসব প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তায়। তবে তা অনেকখানি নির্ভর করে অনুকূল পরিবেশ ও ক্ষেত্র গড়ে তোলার ওপর।
মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না । প্রতিটি মানুষ যেমন সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি তার কল্যাণও সামগ্রিকভাবে সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে সংযুক্ত। উপলব্ধি ছাড়া মানব-কল্যাণ স্রেফ দান-খয়রাত আর কাঙালি ভোজনের মতো মানব-মর্যাদার অবমাননাকর এক পদ্ধতি না হয়ে যায় না, যা আমাদের দেশ আর সমাজে হয়েছে। এসবকে বাহবা দেওয়ার এবং এসব করে বাহবা কুড়োবার লোকেরও অভাব নেই দেশে ।
আসল কথা, মানুষের মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে স্রেফ তার জৈব অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল এ ধরনের মানব-কল্যাণ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হতে পারে না। এ হেন মানব-কল্যাণের কুৎসিত ছবি দেখার জন্য দূরদূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের আশে-পাশে, চারদিকে তাকিয়ে দেখলেই তা দেখা যায় ।
বর্তমানে মানব-কল্যাণ অর্থে আমরা যা বুঝি তার প্রধানতম অন্তরায় রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত চেতনা— যা মানুষকে মেলায় না, করে বিভক্ত। বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না । করা যায় একমাত্র সমতা আর সহযোগ-সহযোগিতার পথে।
সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল। বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভারা সবাই মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। দুঃখের বিষয়, সে উত্তরাধিকারকে আমরা জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি। বিদ্যাপতি চীদাস থেকে লালন প্রমুখ কবি এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সবাইতো মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর। বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় সাহিত্যিক উক্তি : “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” এক গভীর মূল্যবোধেরই উৎসারণ।
এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিম্নলিখিত উক্তিটিও স্মরণীয় : “Relationship is the fundamental truth of the world of appearance.” কবি এ উক্তিটি করেছিলেন তাঁর হিবার্ট বক্তৃতামালায়। অন্তর-জগতের বাইরে যে জগৎকে আমরা অহরহ দেখতে পাই তার মৌলিক সত্য পারস্পরিক সংযোগ-সহযোগিতা, কবি যাকে Relationship বলেছেন। সে সংযোগ বা সম্পর্কের অভাব ঘটলে মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়।
মানব-কল্যাণ অলৌকিক কিছু নয়— এ এক জাগতিক মানবধর্ম। তাই এর সাথে মানব-মর্যাদার তথা Human dignity-র সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আজ পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখলে কী দেখতে পাই? দেখতে পাই দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ-বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বেড়ে চলেছে। সে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে রিলিফ, রিহেবিলিটেশন ইত্যাদি শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ। রেডক্রস ইত্যাদি সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধিই কি প্রমাণ করে না মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ মানব-অপমানে পরিণত হয়েছে? মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদার স্বীকৃতি আর প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত না হয়ে পারে না ।
কালের বিবর্তনে আমরা এখন আর tribe বা গোষ্ঠীবদ্ধ জীব নই— বৃহত্তর মানবতার অংশ। তাই Go of humanity-কে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিংবা খতিভাবে দেখা বা নেওয়া যায় না। তেমনি নেওয়া যায় না তার কল্যাণকর্মকেও খণ্ডিত করে। দেখতে মানুষও অন্য একটা প্রাণী মাত্র, কিন্তু ভেতরে মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অসীম ও অনন্ত সম্ভাবনার বীজ। যে সম্ভাবনার স্ফুরণ-স্ফুটনের সুযোগ দেওয়া, ক্ষেত্র রচনা আর তাতে সাহায্য করাই শ্রেষ্ঠতম মানব-কল্যাণ। সেটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা কোনো রকম অপমান-অবমাননার পথে হতে পারে না। হালে যে দর্শনকে অস্তিত্ববাদ নামে অভিহিত করা হয়, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Existentialism তারও মূল কথা ব্যক্তি মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দান ।
বল প্রয়োগ কিংবা সামরিক শাসন দিয়ে মানুষকে তাঁবেদার কিংবা চাটুকার বানাতে পারা যায় কিন্তু প্রতিষ্ঠা করা যায় না মানব-মর্যাদার আসনে। সব কর্মের সাথে শুধু যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে তা নয়, তার সামাজিক পরিণতি তথা Social consequence-ও অবিচ্ছিন্ন। যেহেতু সব মানুষই সমাজের অঙ্গ, তাই সব রকম কল্যাণ-কর্মেরও রয়েছে সামাজিক পরিণতি। এ সত্যটা অনেক সময় ভুলে থাকা হয়। বিশেষত যখন দৃষ্টি থাকে ঊর্ধ্ব দিকে তথা পরলোকের পানে ।
স্রেফ সদিচ্ছার দ্বারা মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না। সব ধর্ম আর ধর্ম-প্রবর্তকেরা বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের ভালো করো, মানুষের কল্যাণ করো, সুখ-শান্তি দান করো মানুষকে । এমনকি সর্বজীবে হিতের কথাও বলা হয়েছে। অতএব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে। নতুন পদ্ধতিতে— যা হবে বৈজ্ঞানিক, র‍্যাশনাল ও সুবুদ্ধি-নিয়ন্ত্রিত। সমস্যা যত বড় আর যত ব্যাপকই হোক না তার মোকাবেলা করতে হবে সাহস আর বুদ্ধিমত্তার সাথে। এড়িয়ে গিয়ে কিংবা জোড়াতালি দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায় না।
আমাদের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় সুপরিকল্পিত পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব। একমাত্র মুক্ত বিচারবুদ্ধির সাহায্যেই বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কারকে ধ্বংসের পরিবর্তে সৃজনশীল মানবিক কর্মে করা যায় নিয়োগ। তা করা হলেই মানব-কল্যাণ হয়ে উঠবে মানব-মর্যাদার সহায়ক।
[সংক্ষেপিত]
 

Related Question

View All
139
উত্তরঃ

আপনার উক্তিটি সঠিক, "ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।" কথাটি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন।

বিস্তারিত:

  • উপরের হাত এবং নিচের হাত এই উক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে সাহায্যকারী এবং সহায়তাপ্রাপ্তকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে। এখানে "উপরের হাত" বোঝায় সাহায্য প্রদানকারী এবং "নিচের হাত" বোঝায় সাহায্য গ্রহণকারী।
  • নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দান এবং সহায়তার গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। যারা সাহায্য করে তাদের মর্যাদা বেশি এবং তাদের সাহায্যের মানে বড় বলে উল্লেখ করেছেন।

এই উক্তিটি মানবিকতা ও দানের গুরুত্বকে নির্দেশ করে এবং সমাজে সাহায্য এবং সহানুভূতির মূল্য বৃদ্ধি করে।

127
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews