একই রবি শশী আমাদের সবার সাথি।
'কৃত্রিম ভেদ' বলতে কবি আমাদের সমাজে মানুষে মানুষে বিদ্যমান বৈষম্যকে বুঝিয়েছেন।
বাইরের শারীরিক বৈশিষ্ট্য যাই হোক না কেন, সব মানুষের ভেতরের রং এক। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে একই রঙের রক্ত। কিন্তু এই পরিচয় ভুলে মানুষ আজ জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ ইত্যাদির ভিত্তিতে নিজ নিজ পরিচয় নির্ধারণ করেছে। যার ফলে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি হয়েছে। কবি একে কৃত্রিম ভেদ বলেছেন।
উদ্দীপকের বক্তব্যে 'মানুষ জাতি' কবিতায় যে বিভেদের কথা আছে তা ফুটে উঠেছে।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের এই পৃথিবীতে আগমন। অনুভব, অনুভূতি, অভ্যন্তরীণ গঠনে পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ সমান। তবে এ মানুষই নানা কৃত্রিম পরিচয়কে আশ্রয় করে নিজেদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করেছে।
'মানুষ জাতি' কবিতায় মানুষ যে আজ কৃত্রিম পরিচয়ে বিভাজিত সেকথা বলা হয়েছে। কবি বলছেন, একই ধরণির স্নেহচ্ছায়ায়, একই চন্দ্র-সূর্যের আলোয় লালিত সব মানুষ। সবার শরীরে যে রক্ত প্রবাহিত, তার রং লাল। এমনকি ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ-ব্যথার অনুভূতি সবার সমান হলেও মানুষ আজ ধর্ম, বংশ, জাতি এমনকি গাত্রবর্ণের পরিচয়ে নিজেদের মধ্যে তুলে দিয়েছে বিভেদের দেয়াল। উদ্দীপকে মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যে সমাজের এই ভেদাভেদের চিত্রই ফুটে উঠেছে। বর্ণবাদ যে সমাজে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সেই সমাজের নির্মমতাই আলোচ্য অংশে বর্ণিত হয়েছে।
“বৈষম্যহীন মানবসমাজই 'উদ্দীপক এবং 'মানুষ জাতি' কবিতায় প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রতিটি মানুষ সমাজে সমান মর্যাদার প্রত্যাশী। কিন্তু প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থায় মানুষের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে কৃত্রিম পরিচয়ের কাছে। তাই জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্রে বিভক্ত হয়ে মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিভেদকে বাড়িয়ে তুলেছে।
'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি প্রত্যাশা করেছেন সব বিভেদের প্রাচীর একদিন ভেঙে যাবে। তাই কবি সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থাপন করেছেন মানুষকে। উদ্দীপকেও এই বৈষম্যহীন মানবসমাজের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে এমন এক সমাজের প্রত্যাশা করা হয়েছে, যে সমাজে গায়ের বর্ণের ভিত্তিতে মানবমর্যাদা নির্ধারিত হবে না। সেই সমাজে উচ্চারিত হবে মুক্তি আর সুবিচারের কথা।
উদ্দীপক এবং 'মানুষ জাতি' কবিতায় এমন একটি সমাজের প্রত্যাশা করা হয়েছে যে সমাজে মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না। প্রতিটি মানুষই সমান মর্যাদায় বিবেচিত হবে। আর এ কারণেই বলা যায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All'মানুষ জাতি' কবিতাটি 'অভ্র আবীর' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
'দুনিয়া সবারি জনম-বেদি'- এ কথা দ্বারা বোঝানো হয়েছে-এ পৃথিবী সব মানুষেরই জন্মক্ষেত্র।
আমাদের এই পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষেরই বাসভূমি। একই মায়ের দুধ পান করে যেমন সন্তান বড় হয়ে ওঠে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ একই পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করে একই সূর্য ও চাঁদের আলোয় প্রতিপালিত হচ্ছে।
সারা পৃথিবীতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র পরিচয়ের ঊর্ধ্বে সমগ্র মানবসমাজ- রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বে 'মানুষ জাতি' কবিতার এই বক্তব্যটি ফুটে উঠেছে।
মানুষের সত্যিকার পরিচয় সে মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ দিয়ে মানুষকে আলাদা করা হয়েছে। এ পৃথিবী জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষেরই আবাসভূমি।
উদ্দীপকের রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন বন্ধু তিন ধর্মের অনুসারী। তারা আনন্দ-উৎসবে, সুখে-দুঃখে একে অন্যকে সাহায্য-সহযোগিতা করে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলেছেন, জগৎজুড়ে একটি জাতি আছে, সে জাতি হচ্ছে মানুষ জাতি। বাইরে যার রং যেমনই হোক, ভিতরে সবার রক্তের রং লাল। জাতি-ধর্ম-বর্ণের কৃত্রিম ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে বিচার করা উচিত। 'মানুষ জাতি' কবিতার এই ভাবনা রহিম, শ্যামল ও রোজারিওর বন্ধুত্বের মাঝে ফুটে উঠেছে।
"উদ্দীপকের রহিমের বাবার বক্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর।"- উক্তিটি যথার্থ।
এ পৃথিবীর একই আলো-ছায়ায় সবাই বেড়ে ওঠে। গরম বা শীতের অনুভূতি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা সবাই সমানভাবে অনুভব করে। এ পৃথিবীর কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য জাতি-ধর্ম-বর্ণের পার্থক্য করেছে।
উদ্দীপকে রহিম, শ্যামল ও রোজারিও তিন ধর্মের অনুসারী হলেও তারা সুখে-দুঃখে, আনন্দ-উৎসবে একে অন্যের পাশে থাকে। রহিমের বাবা বলেন, তোমাদের মতো সবাই বন্ধুসুলভ হলে এ পৃথিবী আরও সুন্দর বাসস্থান হবে। 'মানুষ জাতি' কবিতায় কবি বলতে চেয়েছেন, সারা পৃথিবীতে মানুষ নামে শুধু একটাই জাতি আছে। কবি এ কবিতায় মানুষের সেই পরিচয়কেই তুলে ধরেছেন।
উদ্দীপকের বন্ধুরা ধর্মের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখেনি। সবাই সবার সবকিছু ভাগাভাগি করে নিয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রহিমের বাবার মন্তব্যই যেন 'মানুষ জাতি' কবিতার মূল সুর মন্তব্যটি যথার্থ।
শীতাতপ, ক্ষুধা, তৃষ্ণার জ্বালা সবাই সমানভাবে বুঝি।
পৃথিবীতে সব মানুষের বাস। তাই চাঁদ, সূর্য, আলো, বাতাসও সব মানুষ একইভাবে পায়। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করা হয়েছে।
সব মানুষ একই পৃথিবীতে একই চাঁদ-সূর্যের আলো পেয়ে থাকে। তাহলে কেন মানুষে মানুষে এত ভেদাভেদ, বৈষম্য, হানাহানি? সব মানুষ একই সঙ্গে এক পৃথিবীর মাঝে থাকলে অবশ্যই তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যবোধ বিদ্যমান থাকা উচিত। মানুষের সঙ্গে মানুষের যেন কোনো পার্থক্য না থাকে সে কারণে কবিতায় এমন কথা বলা হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!