অর্থনীতির যে শাখায় সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা (Public Finance) বলে।
সরকার করের মাধ্যমে যে আয় সংগ্রহ করে তাকে কর রাজস্ব (Tax Revenue) বলে।
কর রাজস্ব থেকে সরকার অধিক হারে আয় পেয়ে থাকে। কর বাধ্যতামূলক দেয় অর্থ। অর্থাৎ সরকার দেশে বসবাসরত দেশি ও বিদেশি নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের ওপর এ কর আরোপ করে। আয়কর ও মুনাফার উপর কর, মূল্য সংযোজন কর, আমদানি শুল্ক প্রভৃতি সরকারি আয়ের প্রধান উৎস।
আরমানের মালিক যে কর প্রদান করেছে তা হলো- আয়কর ও মুনাফার উপর কর (Tax on Income and Profit) |
সরকার কোনো ব্যক্তি বা কোম্পানির আয়ের ওপর যে কর ধার্য করে তাকে আয়কর বলে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন কোম্পানি ব্যতিত ব্যক্তিগত করদাতা যাদের বার্ষিক নিট আয় ২,৫০,০০০ টাকা (পুরুষদের ক্ষেত্রে); ৩,০০,০০০ টাকা (মহিলাদের ক্ষেত্রে); ৩,৭৫,০০০ টাকা (প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে)-এর অধিক তাদের আয়ের ওপর এ কর ধার্য করা হয়। এটি একটি প্রত্যক্ষ কর, যার সম্পূর্ণ ভার করদাতাকেই বহন করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফার ওপরও কর ধার্য করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব আয়ের একটি অন্যতম উৎস হলো আয়কর। ২০১৮-১৯ অর্থবছর আয় কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে সরকারের আয় হয়েছে ৯৫,১৬৭ কোটি টাকা, যা মোট রাজস্বের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
উদ্দীপকে আরমানের মালিক একটি বড় ডেভেলপার কোম্পানির উদ্যোক্তা। ■ তিনি তার কোম্পানির আয় ও মুনাফার উপর কর প্রদান করায় কর্মচারীদের ■ বেতন দিতে দুইদিন দেরি হয়েছে। যেহেতু তিনি কোম্পানির আয় ও অর্জিত - মুনাফার ওপর কর প্রদান করেছেন। সুতরাং বলা যায়, তার প্রদেয় কর - আয়কর ও মুনাফা করের অন্তর্ভুক্ত।
উদ্দীপকে আরমানের মালিক যে কর প্রদান করেছে সেটি হলো আয়কর ও মুনাফার উপর কর, যা কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস। তবে এটি ছাড়াও কর রাজস্বের অন্যান্য উৎসসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
মূল্য সংযোজন কর: উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত
দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয় তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে কর আরোপ করা হলে তাকে মূল্য সংযোজন কর বা VAT বলে। 8
আমদানি শুল্ক: আমদানিকৃত দ্রব্য ও সেবার ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে আমদানি শুল্ক বলে।
আবগারি শুল্ক: দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত ও ব্যবহৃত দ্রব্যের ওপর যে কর ধার্য করা হয়, তাকে বলা হয় আবগারি শুল্ক। চা, তামাক, চিনি, সিগারেট, কোরোসিন, ওষুধ, দিয়াশলাই প্রভৃতির ওপর আবগারি শুল্ক ধার্য করা হয়।
সম্পূরক শুল্ক: বিভিন্ন কারণে সরকার অনেক দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আবগারি শুল্ক বা মূল্যসংযোজন কর বা আমদানি শুল্ক আরোপের পরেও অতিরিক্ত যে শুল্ক আরোপ করে, তাকে সম্পূরক শুল্ক বলে। যেমন, সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক।
উপরের উৎসসমূহ ছাড়াও সরকার আরও অনেক উৎস হতে রাজস্ব সংগ্রহ করে থাকে। যেমন- সম্পত্তি কর, পেট্রোল ও গ্যাসের ওপর কর, ভ্রমণ কর, প্রমোদ কর ইত্যাদি। এছাড়াও মাদক শুল্ক, যানবাহন কর, ভূমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ইত্যাদি কর রাজস্বের উল্লেখযোগ্য উৎস।
Related Question
View Allভূমির মালিকানা অধিকার ভোগের জন্য ভূমির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয় তাকে ভূমি রাজস্ব বলে।
সম্পূরক শুল্ক হলো একটি পরোক্ষ কর। বিশেষ অবস্থায় এটি ধার্য করা হয়।
অনেক সময় কিছু দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপ করেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যায় না। তখন এসব কর ও শুল্কের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এটি সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পরিচিত। যেমন- সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক। সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎস।
ইসরাতের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ছিল মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি উৎস।
উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বলে।
এটি একটি পরোক্ষ কর। দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে (১৫%) এ কর ধার্য করা হয়। সাধারণত ফার্মের মোট বিক্রয়মূল্য থেকে বিভিন্ন উপকরণের ক্রয়মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার সাথে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করলে মূল্য সংযোজন কর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মূল্য সংযোজন কর = (মোট উৎপাদন মূল্য মোট উপকরণ মূল্য) VAT হার। VAT আরোপের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব আদায় করে থাকে যা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ইসরাত পণ্যের প্রকৃত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে, যা ছিল ভ্যাট। এটি তার কৃত পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ধার্য করা হয়েছে, যা সে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না। অর্থাৎ উক্ত অর্থ প্রদানে সে আইনগতভাবে বাধ্য। তাই বলা যায়, ইসরাতের প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ হলো কর বহির্ভূত রাজস্বের একটি উৎস এবং মূল্য সংযোজন কর হলো কর রাজস্বের উৎস। তবে উভয় উৎসই সরকারি আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) থেকে বছর শেষে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে, যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। লভ্যাংশ ও মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের আয় হলো ২,২৪১ কোটি টাকা, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ থেকে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হচ্ছে কর রাজস্বের প্রধান উৎস। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য যুক্ত হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে ১,০৪,৫৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দেশি-বিদেশি ৩০টি খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। কাজেই বলা যায়, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের লভ্যাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর অর্থ সংগ্রহের দুটি আলাদা উৎস হলেও উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণীকে বাজেট বলে।
অর্থনীতির যে শাখা সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
সরকার কোন কোন উৎস থেকে কীভাবে এবং কোন নীতিতে অর্থ সংগ্রহ করে সে অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সমস্যা ছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয় নীতি ও কার্যক্রম কীভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশ্লেষণ করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!