রন্তিদেব একনাগাড়ে আট চল্লিশ দিন অনাহারে ছিলেন।
কারো কষ্টে মন কাঁদলে, তার কষ্ট দূর করে দিতে ইচ্ছা করলে মনের ভেতর যে ভাবের উদয় হয়, তাই দয়া। দয়ার দ্বারা সমাজের মঙ্গল হয়। দয়ার দ্বারা আমাদের মন কোমল ও সহানুভূতিশীল হয়। দয়া একটি নৈতিক গুণ। তাছাড়া দয়া ধর্মেরও অঙ্গ।
আরাধ্য ও অনুভবের মধ্যে আমাদের পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত রাজা রন্তিদেবের সেবাগুণটি পরিলক্ষিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত রাজা তাঁর ইচ্ছায় অযাচক ব্রত পালন অবস্থায় ছিলেন। আটচল্লিশ দিন একটানা না খাবার পর ঊনপঞ্চাশতম দিনে একজন কিছু খাবার দিয়ে যান। খেতে বসার পরে তাঁর সামনে এল এক লোক তার এক কুকুর। দুইই অনাহারে জিরজিরে। লোকটি রন্তিদেবের কাছে খাবার প্রার্থনা করলে রাজা তাঁর পুরো খাবারই দিয়ে দেন তাদের।
উদ্দীপকের' আরাধ্য ও অনুভবও অনাহারী বৃদ্ধ ভিক্ষুককে তাদের সব খাবার দিয়ে দেয়। এ যেন রাজা রন্তিদেবের আদর্শের বাস্তব প্রতিফলন।
জীবসেবাই ঈশ্বর সেবা-আরাধ্যের মায়ের এ শিক্ষাটির সাথে আমি সম্পূর্ণ একমত পোষণ করি।
হিন্দুধর্মের একটি বিশ্বাস হলো ঈশ্বর আত্মারূপে জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। আমরা যে খাদ্য গ্রহণ করি তার সাহায্যে আমাদের ভেতর আত্মারূপে যে ঈশ্বর বাস করেন, তাঁর সেবা করি। এভাবে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার শুশ্রুষা ঈশ্বরসেবা। কোনো অতিথির সেবা, তাও ঈশ্বরসেবা। এভাবে যেকোনোভাবে জীবের সেবা করাই ঈশ্বরসেবা।
কিছু কাজ আমরা অন্যের মঙ্গল বা আনন্দের জন্য করি। এসব কাজই সেবা। সেবার একটি অর্থ উপাসনা 'করা। আমরা রোগীর সেবা, অতিথির সেবা, ঠাকুরের সেবা ইত্যাদির মাধ্যমে ঈশ্বররেই সেবা করি। জীবসেবায় সমাজের কল্যাণ হয় এবং ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। ফলে সমাজের এবং রাষ্ট্রে সর্বত্র শান্তি বিরাজ করে।
Related Question
View Allধর্মগ্রন্থের বর্ণনানুযায়ী যা ধারণ করে, তাই ধর্ম। অর্থাৎ যে বিশেষ গুণ, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয় এবং নিজের মোক্ষ লাভ হয়, তাই ধর্ম।
নৈতিকতা বলতে বোঝায় ভালো কাজ ও মন্দ কাজের পার্থক্য বুঝে ভালো কাজ করার এবং মন্দ কাজ না করার মানসিকতা। নৈতিকতা একটি চারিত্রিক গুণ। নৈতিকতা একটি মূল্যবোধ।
কর্তব্যনিষ্ঠা মানুষের একটি নৈতিক গুণ। সবাইকেই কিছু না কিছু কর্ম বা কাজ করতে হয়। কৃতকগুলো অবশ্য পালনীয় কর্ম রয়েছে যেটিকে বলা হয় কর্তব্য। এ কর্তব্য পালন করা আমাদের প্রত্যেকের উচিত। এটিই করতে হবে নিষ্ঠার সাথে, শ্রদ্ধার সাথে। তবেই কাজটি সম্পূর্ণভাবে করা সম্ভব হবে, এটিই হলো কর্তব্যনিষ্ঠা; যেমন- বীরবল তার কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য নিজের পুত্রকে পর্যন্ত বিসর্জন দিয়েছিলেন।
পূজনীয় শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তির প্রতি আমাদের প্রাণের যে টান বা অনুরাগ তার নাম ভক্তি। এ শব্দটি আমরা বিভিন্ন জায়গায়, কথায় প্রয়োগ করি; যেমন- মায়ের প্রতি যে ভক্তি, তার নাম মাতৃভক্তি। এ রকম পিতৃভক্তি, গুরুভক্তি ঈশ্বরভক্তি ইত্যাদি। ভগবানের প্রতি ঐকান্তিক ভালোবাসাও ভক্তি।
আমরা জানি, যা ধারণ করে, তাকে ধর্ম বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যা আমাদের ধারণ করে, যার অনুশীলন দ্বারা জীবের কল্যাণ হয়-এবং নিজের মোক্ষলাভ হয়, তার নাম ধর্ম। মানুষের ধর্ম মনুষ্যত্ব, ঠিক যেভাবে আগুনের ধর্ম দহন করা।
'মনুসংহিতা' নায়ক হিন্দুধর্ম গ্রন্থে বলা হয়েছে-মানুষের ধর্মের বা মনুষ্যত্বের পাঁচটি বিশেষ লক্ষণ রয়েছে। যথা- অহিংসা, চুরি না করা, সংযমী হওয়া, দেহ ও মনে শুচি বা পবিত্র থাকা সৎপথে থাকা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!