উত্তরঃ
'কুরআন' আরবি শব্দ, কারউন ধাতু থেকে এসেছে। শাব্দিক অর্থ পড়া, তিলাওয়াত করা। কুরআনের অপর নাম আল ফুরকান অর্থাৎ সত্য-মিথ্যার প্রভেদকারী। আর এতে সর্বপ্রকার জ্ঞান-বিজ্ঞানের রহস্যাবলি সন্নিবেশিত আছে বলে একে আল-হাকীম বা জ্ঞানভাণ্ডার বলেও আখ্যায়িত করা হয়।
কুরআন মহান আল্লাহর কালাম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স) যেমন বিশ্বের সকল মানুষের নিকট আল্লাহর প্রেরিত মুক্তিদূত, তেমনি পবিত্র কুরআনও সর্বকালীন মানুষের মুক্তির মহাসনদ। পবিত্র কুরআনের শিক্ষা পূর্ণ পরিণত, যুক্তিসঙ্গত ও পরীক্ষিত, সত্য, অদ্বিতীয়, সকল যুগের উপযোগী এবং মানবজীবনের সকল সমস্যার সমাধানকারী। পবিত্র কুরআনের বিধান সর্বকালে গ্রহণীয় এবং সকলের জন্য একান্ত করণীয়। তাই পবিত্র কুরআন শুধু একখানা গ্রন্থ নয়; বরং কালজয়ী বিশ্বগ্রন্থ, এর আবেদনও বিশ্বজনীন। কুরআনের ভাষায় এটা বিশ্বমানবের জন্য বিবৃতি এবং মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ।
কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয়: কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে-
১. তাওহীদ, ২. রিসালাত, ৩. আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস, ৪. দুনিয়া ও আখিরাতের সুসংবাদ ও সতর্কবাণী, ৫. পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং যুদ্ধ ও সন্ধি সম্পর্কিত বিধান, ৬. হিদায়াত ও হিকমতের মূল্যবান উপদেশ, ৭. বুনিয়াদি ইবাদত, ৮. পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনি থেকে উপদেশ, ৯. পরকাল, হাশর, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্পর্কে বর্ণনা।
সুতরাং বলা যায়, কুরআনের মূল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে মানুষ। আর মানুষকে নিয়েই উপর্যুক্ত বিষয়গুলো আবর্তিত হয়।
কুরআনের বৈশিষ্ট্যসমূহ: নিম্নে কুরআনের কতিপয় বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:
১. আল কুরআন মহান আল্লাহ তা'আলার কালাম।
২. এটি অবতীর্ণ হয়েছে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবীর ওপর।
৩. এটি সত্য-মিথ্যার পার্থক্য সৃষ্টিকারী গ্রন্থ।
৪. আল কুরআন মূর্খতার পরিবর্তে জ্ঞান এবং অত্যাচারের পরিবর্তে সুবিচার শিক্ষা দেয়।
৫. এ গ্রন্থ সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং যাবতীয় মন্দ কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
৬. এর একটি শব্দও পরিবর্তন-পরিবর্ধন করার ক্ষমতা কারো নেই।
৭. এ গ্রন্থ ভাষার অলঙ্কারে, ভাবের উচ্ছ্বাসে, শব্দ চয়নে, এক কথায় সব ব্যাপারেই অদ্বিতীয়।
৮. পবিত্র কুরআন এমন এক গ্রন্থ, যার পূর্ণ ইতিহাস সংরক্ষিত।
৯. এটি সর্বাধিক পঠিত গ্রন্থ।
১০. পবিত্র কুরআন একমাত্র গ্রন্থ, যা নুকতাসহকারে মুখস্থ করে রাখা সম্ভব।
১১. কুরআন এমনই এক গ্রন্থ, যার অর্থ ও ব্যাখ্যা পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
১২. কুরআন যত পাঠ করা হয় তত ভালো লাগে।
১৩. এটি গবেষণালব্ধ ও তথ্যজ্ঞান সংবলিত এক মহাগ্রন্থ।
১৪. পবিত্র কুরআন হেফাজতের দায়িত্ব আল্লাহ স্বয়ং নিয়েছেন।
১৫. পবিত্র কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ, যাতে মানব জীবনের সকল অবস্থা ও সকল স্তরের সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান আছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, মানব জীবনের সার্বিক দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই মহাগ্রন্থে। এর প্রতিটি আয়াত ও সূরায় মানুষের সুন্দর, পবিত্র, সুশৃঙ্খল ও মঙ্গলময় ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনব্যবস্থার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।