NGO এর পূর্ণরূপ হচ্ছে- Non Government Organization.
বাংলাদেশের পল্লি উন্নয়নে সমবায়ের গুরুত্ব অপরিসীম।
সমবায়ের মূলনীতি হলো 'সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে'। সাধারণ অর্থে যখন কিছু সংখ্যক লোক একত্রিত হয়ে একই উদ্দেশ্যে নিজেদের কল্যাণের লক্ষ্যে একটি নিবন্ধিত সংগঠনের আওতায় সংগঠিত হয় তখন তাকে সমবায় বলে।
উদ্দীপকে নির্দেশিত কার্যক্রম সরকারি কুমিল্লা সমবায় সমিতি সংস্থার কার্যক্রমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বাংলাদেশে বেশ কিছু সংখ্যক সরকারি সংস্থা গ্রামীণ আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লার সমবায় সমিতি উল্লেখযোগ্য। এ সংস্থাটি দু স্তর বিশিষ্ট সমবায় সংগঠন। প্রাথমিক স্তর গ্রাম ও দ্বিতীয় স্তর থানা পর্যায়ে বিস্তৃত। গ্রাম এর কেন্দ্রবিন্দু।
কুমিল্লা সমবায় সমিতির কার্যাবলিগুলো হলো- দ্বিস্তর বিশিষ্ট সমবায় সংগঠন, কৃষকদের নিজস্ব সংগঠন, উৎপাদনমুখিতা, যৌথ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, মূলধন গঠন, প্রশিক্ষণ ও কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি পণ্যের তদারক, সাপ্তাহিক বৈঠক এবং পল্লি অঞ্চলে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি। কুমিল্লা সমবায় সমিতি নানা প্রতিকূল ও জটিলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে পল্লি উন্নয়নে বিশেষ সফলতা অর্জন করেছে।
উদ্দীপকের আশিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে গ্রামে এসে দেখে একদল যুবক বিভিন্ন প্রকার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, ঋণ কার্যক্রম, কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প ইত্যাদি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে। যা উল্লিখিত সরকারি সংস্থা কুমিল্লা সমবায় সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সরকারি কার্যক্রমের পাশাপাশি আশিকের মতো যুবকদের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সুসমণ্ডিত হলেই সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন ঘটবে। আমি এ মতের সাথে একমত। কেননা উচ্চ শিক্ষিত যুবকরা আগামীর ভবিষ্যৎ কর্ণধার। তারা যে গ্রামের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের কাজে এগিয়ে আসবে এটা জাতির কাম্য।
সরকার সরকারি সংস্থার মাধ্যমে সমগ্র দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে এবং জনগণের সার্বিক চাহিদা ও সমস্যায় কথা বিবেচনায় এনে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করে। সরকারি সংস্থাগুলোর একার পক্ষে সমগ্র জনগণের জন্য সাহায্য সহযোগিতা কষ্টসাধ্য। এজন্য সরকারি কার্যক্রমের পাশপাশি উদ্দীপকের আশিকের মতো শিক্ষিত যুবকরা সরকারি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং সামাজিক উন্নয়ন ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু বেসরকারি সংস্থার সৃষ্টি হয়। এই বেসরকারি সংস্থাগুলো সহযোগি হিসেবে সামাজিক উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যেমন কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম, গ্রাম ও শহর উন্নয়ন, মানব সম্পদ-উন্নয়ন স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক কার্যক্রম, ঋণদান কার্যক্রম, দরিদ্র দূরীকরণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
উপরের আলোচনার পরিসমাপ্তিতে বোঝা যায় বেসরকারি সংস্থাগুলো সামাজিক উন্নয়নে সরকারি সংস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
Related Question
View Allবাংলাদেশের মুসলিম সমাজব্যবস্থায় বিধবা বিবাহের স্বীকৃতি রয়েছে।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।
'৬৯' এর গণ আন্দোলনের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এর আগে তিনি ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা তুলে নেন। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন দিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নতুন সামরিক সরকার বাধ্য হয়। গণঅভ্যুত্থানের ফলে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের 'আলোর দিশারী' সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বেসরকারি সংস্থা বলতে কোনো অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে বোঝায়, যা উন্নয়ন সহযোগিতা অথবা শিক্ষা ও নীতিগত কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকে। বাংলাদেশে বেসরকারি সংস্থাসমূহ বিভিন্ন আর্থ- সামাজিক কর্মকাণ্ড যেমন- দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষার বিস্তার, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ সুরক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে গ্রামীণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ সংস্থাসমূহ জামানতবিহীন ক্ষুদ্র ঋণ প্রদান, বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা, কৃষি উন্নয়নসহ নানা ফলপ্রসু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশে রেজিস্ট্রিকৃত প্রায় ২,৫০০ দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা প্রায় দুই কোটি উপকারভোগী তৈরি এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। যেমনটি উদ্দীপকেও দেখা যায়।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, নিরক্ষরতা, অনুর্বর জমি, মূলধনের অভাব ইত্যাদি কারণে নীলফামারী জেলার খানাবাড়ি গ্রামের মানুষ দারিদ্র্যের শিকার। এমতাবস্থায় 'আলোর দিশারী' নামক স্থানীয় একটি সংস্থা গ্রামের মানুষের মাঝে শিক্ষার বিস্তার, মূলধন যোগান, ফসলের চারা বিতাড়ন ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করে। ফলে কিছুদিন পর দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এটা স্পষ্ট যে, 'আলোর দিশারী' নামক সংস্থাটি একটি বেসরকারি সংস্থা।
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে উদ্দীপকে উল্লেখিত সংস্থা অর্থাৎ বেসরকারি সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
সমকালীন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনে অনেক বেসরকারি সংস্থা তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এসব সংস্থা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের মানসিক, দৈহিক, পারিবারিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালায়। পাশাপাশি এসব বেসরকারি সংস্থা গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও প্রচুর অর্থ ব্যয় করে। ফলে গ্রামে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এ কারণে সমকালীন বাংলাদেশের সমাজকাঠামো নানাভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ লাভ করছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা, দারিদ্র্য বিমোচন প্রতিটি ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যা বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখছে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনে বেসরকারি সংস্থাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজেকে বয়স্ক ভাবা একটি মানসিক রোগ।
স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রথম সোপান ইউনিয়ন পরিষদ। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থান করেন। এদের বেশিরভাগই ধনী লোক, প্রভাবশালী পরিবার থেকে আগত। এরা মূলত গ্রামীণ জনগণের সাথে রাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যবর্তী অবস্থান নেয়। গ্রামের নানা রকম উন্নয়নমূলক কাজ ক্ষমতাসীন সরকার এদের মাধ্যমেই সম্পন্ন করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!