আসগর আলীর অবস্থা বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা বেকারত্বের প্রতিফলন।
কোনো ব্যক্তি যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও আয় ও উপার্জনমূলক কাজে নিয়োজিত হতে না পারলে তাকে বেকার বলে। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশে বেকারত্বের পিছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান। বেকারত্বের প্রধান কারণ হলো অতিরিক্ত জনসংখ্যা। এদেশে যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে সেই হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। এছাড়া এদেশের কৃষি ব্যবস্থা আধুনিক না হওয়ায় বছরেএকসময় ফসল হলে অন্য সময় জমি পতিত অবস্থায় থাকে। ফলে মৌসুমি বেকারত্ব সৃষ্টি হয়। একই সাথে এদেশে পর্যাপ্ত শিল্পায়ন না হওয়ায় কর্মসংস্থানের তেমন সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ফলে বেকারত্ব বাড়ছে।
এছাড়া প্রচলিত সনাতন পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা বেকারত্বের অন্যতম কারণ। একদিকে কর্মসংস্থান না থাকা, অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাবে শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুসারে কাজ পায় না। ফলে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পায়। আবার ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে অনেকেই জমি-জমা হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ে। এতে বেকারত্ব বাড়ে। এছাড়াও সামাজিক মূল্যবোধ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রভৃতি কারণেও এদেশে বেকারত্ব সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকের আসগর আলী অন্যের জমিতে কাজ করলেও বছরের একটা নির্দিষ্ট সময় কোনো কাজ পান না। তার এ অবস্থার মাধ্যমে এদেশে বিরাজমান বেকার পরিস্থিতিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর এদেশে বেকারত্ব সৃষ্টির পিছনে ওপরে বর্ণিত কারণগুলো দায়ী।
Related Question
View Allগ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
বিবাহ সমাজে বংশের ধারা বজায় রাখে।
বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বংশ সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তানের পরিচয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা করে এবং পিতৃ পরিচয় দান করে। সন্তানের সামাজিক পরিচিতির নিয়ামক হলো বিবাহ। বিবাহ সমাজে সন্তানের পিতৃত্ব তথা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করে।
রঞ্জ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমান যুগে মানুষকে সভ্য সমাজে সমাজে টিকে থাকতে হয় সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা পূরণ করাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে বলা হয় মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ ব্যতীত পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
রঞ্জুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে প্রায়ই খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকে এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এগুলো সবই মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রঞ্জু মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত এনজিওটি হচ্ছে ইউসেপ। ইউসেপের সকল কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করে এর সফলতা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
সমাজকর্ম একটি স্বীকৃত পেশা। এ পেশায় একজন সমাজকর্মী তার কর্মক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। ইউসেপ বাংলাদেশে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। এটি দরিদ্র ও দুস্থ ছেলে-মেয়েদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এজন্য নানা ধরনের কর্মসূচি এখানে পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউসেপে এর কার্যক্ষেত্রে সমাজকর্মের প্রায় সব কয়টি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথমত এখানে দল সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কেননা সাধারণ স্কুল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দলগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দলীয় গতিশীলতা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের মনো-সামাজিক অনুধ্যানের প্রক্রিয়ায় এটি করাহয়ে থাকে। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ইউসেপে এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা শহরের বিশেষ একটি গোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাগ্য উন্নয়নে ইউসেপে কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউসেপের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশলও ইউসেপে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশার প্রতিটি পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে সাহায্যার্থীর কল্যাণে। এ জন্য মানবকল্যাণধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনোভাবে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ হয়ে থাকে। ইউসেপের কার্যক্রমেও তাই সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করা যেতে পারে।
The History of Human Marriage' গ্রন্থের লেখক ফিনল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এডভার্ড ওয়েস্টারমার্ক (Edvard Westermarck) |
পুলিশ সমাজকর্ম সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখা।
সমাজকর্মের এ শাখা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশদের বিভিন্ন মনো-সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশ সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!