জাতিবর্ণ একটি বদ্ধ ব্যবস্থা।
সাধারণত প্রবীণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচার-আচরণের কারণ হলো- তাদেরকে অনুৎপাদনশীল, অক্ষম, দুর্বল ও ব্যধিগ্রস্ত মনে করা।
বাংলাদেশের সমাজে প্রবীণের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বেশকিছু কারণ রয়েছে। যেমন- চিন্তা-চেতনায় সেকেলে, প্রবীণরা আজ আছেন- কাল নেই, তাই তাদের জন্য আর কি করার আছে- এমন মনোভাব পোষণ করা; তাদের থেকে আর কিছুই পাবার নেই, তারা কেবলই বোঝা এ ধরনের ভ্রান্ত বিশ্বাস পোষণ ইত্যাদি।
উদ্দীপকে যে সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে তা হলো ধর্ম। আর ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিটি ধর্মেরই সর্বজনীন আবেদন থাকে যা মানুষকে ন্যায়ের পথে এগিয়ে যেতে এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে উৎসাহ জোগায়। পৃথিবীতে প্রচলিত প্রায় সব ধর্মেই ইহজগতে সৎকর্মের মাধ্যমে পরজগতে অনন্ত সুখের ধারণা দেওয়া হয়েছে এবং সাথে সাথে অসৎ কর্মের শাস্তিও বর্ণিত রয়েছে। ফলে পরজগতে সুখের প্রত্যাশা ও শাস্তির ভয় মানুষকে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ন্ত্রিত আচরণ করতে অনুপ্রাণিত করে। উল্লেখ্য, আমাদের দেশে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চল নির্বিশেষে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উপরোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের বর্ণিত সামাজিক প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ ধর্ম সমাজ ও রাষ্ট্রের বিবর্তনে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। আমি এ বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণভাবে একমত।
পরিবার বর্ধিত হওয়ার ধারায় যখন বৃহত্তর সমাজের সৃষ্টি হয়, তখন আত্মীয়তার বন্ধন দুর্বল হতে থাকে এবং ধর্মীয় বন্ধন বেশি গুরুত্ব পায়। ধর্ম তখন সামাজিক সংগঠনের ভিত্তিতে পরিণত হয়। রাজনৈতিক সমাজের মৌলিক বিষয় আদেশ ও মান্যতা দুটোই ধর্মের মাধ্যমে জোরদার হয়। ফলে ধর্ম তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়ায়।
মানুষের আচার-আচরণ ধর্মীয় বিধি-নিষেধ দ্বারা প্রভাবিত হয়। যখন মানুষের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক শিথিল হয় তখন ধর্ম রক্তের বন্ধনের ভূমিকা গ্রহণ করে। শক্তিশালী কোনো কালজয়ী পুরুষের নামে পূজা-অর্চণা ও স্রষ্টার প্রতি গভীর বিশ্বাসবোধ একই প্রকার ধর্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। মোটকথা ধর্মীয় নেতা তখন সমাজের নেতা হিসেবে গণ্য হন। রাজা তখন হন পুরোহিত রাজা। তার নির্দেশই ধর্মীয় নির্দেশ হিসেবে পালিত হয়। ধর্মচর্চা ও ধর্মগুরুর বিধানাবলি রাষ্ট্রের অবকাঠামো গড়ে তোলে। এভাবেই ধর্ম রাষ্ট্রের বিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
উপরের আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, সমাজ ও রাষ্ট্রের বিবর্তনে ধর্মের ভূমিকা মোটেই তুচ্ছ করার মতো নয়; বরং এক্ষেত্রে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
Related Question
View All'Authority' শব্দের অর্থ কর্তৃত্ব।
সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।
অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।
উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।
ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।
মানবসৃষ্ট সবকিছুর সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!