আমলাতন্ত্র হচ্ছে একটি স্থায়ী, বেতনভুক্ত এবং দক্ষ চাকরিজীবী শ্রেণি। অর্থাৎ আমলাতন্ত্র হচ্ছে স্থায়ী, বেতনভুক্ত ও দক্ষ কর্মচারীদের সংগঠন যারা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিযুক্ত এবং তারা নীতিনির্ধারণ থেকে আরম্ভ করে নীতিগুলোকে বাস্তবে কার্যকরী করে।
পদসোপান নীতি হচ্ছে জ্যেষ্ঠতা ও মর্যাদা অনুযায়ী পদের শ্রেণিবিন্যাস। পদসোপান নীতি অনুযায়ী বিভিন্ন পদের শ্রেণিবিন্যাস ও সংগঠন করা হয়। প্রত্যেক নিম্নতর পদই কোনো উচ্চতর পদ ও তদারকির অধীন। বিভিন্ন পদের মধ্যে কর্তৃত্বগত সম্পর্ক থাকে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ-নির্দেশ নিম্নতর কর্তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে থাকেন।
যেসব আমলা নিজেদের জনগণের সেবক না ভেবে প্রভু ভাবেন, তাদের যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণের জন্য যেসব পদ্ধতি রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে প্রশাসনিক আত্মত্মনিয়ন্ত্রণ অর্থাৎ আমলাগণ যদি নিজেরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করেন তাহলে সেটাই হবে সর্বাপেক্ষা কার্যকরী পদ্ধতি। কারণ প্রশাসকগণ যদি সঠিকভাবে ও আইনানুযায়ী কাজ করতে ইচ্ছুক হন তাহলেই তা সম্ভব। বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করার সামর্থ্য অধিকাংশ প্রশাসকেরই নেই। এজন্য তাদের রাজনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। রাজনৈতিক প্রশাসকদের কাছে আমলাদের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করতে হবে। বিচার বিভাগের মাধ্যমে আমলাদের কর্তৃত্বের বাড়াবাড়ি ও ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়। আমলাদের অসদাচরণের নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ আদালত গঠন করা যেতে পারে। তাছাড়া নাগরিকরাও তাদের চিন্তাধারা ও ইচ্ছা প্রশাসন ব্যবস্থায় নিঃসৃত করে দিলে তা প্রশাসনকে সদাজাগ্রত ও সংবেদনশীল করে রাখবে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ যেমন পদোন্নতি, বেতন বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে আমলাতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
উদ্দীপকে আহসান হাবীব একজন সৎ আমলা। দক্ষ ও কর্মঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তার সুনাম রয়েছে। অন্যদের মতো তিনি নিজেকে জনগণের প্রভু না ভেবে তাদের সেবক বা প্রজাতন্ত্রের অনুগত কর্মকর্তা মনে করেন। তাঁর টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে না। প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্তসমূহ তিনি যথাসময়ে বাস্তবায়ন করেন। জনগণের চাওয়া-পাওয়া, আবেদন-নিবেদন তার অফিসে ফাইলে লালফিতার বন্ধনে আটকা পড়ে না। তিনি নিজেকে সমাজের অন্য সবার থেকে আলাদা মনে করেন না। তাঁর জীবনপদ্ধতি, দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের অন্যসব সাধারণ মানুষের মতোই। তিনি পেশাগত ও নৈতিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলেন। তিনিও অন্যসব আমলার মতো উন্মুক্ত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমেই নিজের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ পেয়েছেন। কিন্তু তারপর তার মাঝে কোনো অহংকার নেই। তিনি নিজেকে সরকারের অনুগত কর্মকর্তা মনে করেন। তিনি তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ-নির্দেশ মেনে চলেন। জীবনযাপনের ক্ষেত্রেও তাঁর কোনো বিলাসিতা নেই। তিনি অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন। এজন্য সাধারণ জনগণের সাথেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। সৎ ও আদর্শ কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে।
Related Question
View AllBureaucracy' শব্দের প্রতিশব্দ 'আমলাতন্ত্র'।
আমলাতন্ত্রের এক বড় ত্রুটি হলো লালফিতায় দৌরাত্ম্য। কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পূর্বের নজিরকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে অতি আনুষ্ঠানিকতা পালনকে লালফিতার দৌরাত্ম্য বলা হয়। পদসোপান ভিত্তিতে কাগজপত্রের অনুমোদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ। এর ফলে প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়।
আমলাতন্ত্র একটি পেশাদার, দক্ষ ও নিরপেক্ষ বাহিনী। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রে তারা এই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে থাকেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের মমতাজ আলীর কার্যক্রমেও এরূপ দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব দেখা যায়। মমতাজ আলী তার কাজের ক্ষেত্রে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালন করেন এবং সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন অনুসারে তার কাজ করেন। এটি আমলাতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মমতাজ আলী সাহেব তার। দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আমলাতন্ত্রের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য অনুসারে তিনি তার কর্মকাণ্ডে যে সক্ষমতা প্রদর্শন। করেছেন, তা আমলাতন্ত্রের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আমলাতন্ত্রের পদের ধারাক্রম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। এখানে আমলাতন্ত্রের কার্যপ্রণালি এবং প্রক্রিয়া দেখা যায়।
আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় আমলাদেরকে বহুবিধ কার্যাবলি সম্পাদন করতে হয়। উন্নয়মূলক কাজেও মমতাজ আলীদের মতো আমলারা মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন। অনেক সময় তাদের ভূমিকা দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহকের ন্যায়। আবার ক্ষেত্রবিশেষে এর ব্যতিক্রমও দেখা যায়।
আমলারা রাষ্ট্রের জনগুরুত্বপূর্ণ সব কাজের তদারকিতে নিয়োজিত থাকেন। প্রশাসনিক নীতি নির্ধারণ, নীতির বাস্তবায়ন তথা কাজ সম্পন্ন করা, সরকারি সম্পদের হেফাজত করা, বিচারসংশ্লিষ্ট কাজ ইত্যাদি আমলাদের রুটিনওয়ার্ক। সরকারের যাবতীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা করা, সম্ভাব্যতা যাচাই করা, সমীক্ষা করা, বাজেট প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদনের সুপারিশ করা, কাজ বাস্তবায়ন করা, তদারকি করা ইত্যাদি আমলাদের মাধ্যমেই হয়ে থাকে। দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সূচনা ও বাস্তবায়ন করার মূল দায়িত্ব এ আমলাদের ওপরই ন্যস্ত থাকে।
আমলাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা যত বেশি হবে, এসব ক্ষেত্রে সফলতা তত দ্রুত আসবে। কৃষি, শিল্প, অবকাঠামো, শিক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকেন এ আমলারা। এছাড়া সামাজিক পরিবর্তন, অগ্রগতি, সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ইত্যাদি অবস্থাগত ক্ষেত্রেও আমলাদের ভূমিকা স্মরণযোগ্য। তবে আমলাতন্ত্রের অতি আনুষ্ঠানিকতা, লালফিতার দৌরাত্ম্য স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অদক্ষতা, অবহেলা এবং অ-পেশাদারি আচরণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে পারে। কিন্তু এটি আমলাতন্ত্রের নীতির পরিপন্থী। আমলাতন্ত্রে কখনো এরূপ প্রত্যাশা করা হয় না। কিন্তু জনাব আলী সাহেবের মতো দক্ষ, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ আমলারাই দেশের উন্নয়নের ধারক ও বাহক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।
অধ্যাপক অগ আমলাতন্ত্রকে পেশাদার দক্ষ বাহিনী বলে অভিহিত করেন।
কোনো সংগঠন পরিচালনার জন্য স্থায়ী বেতনভুক্ত দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে আমলা বলা হয়। আধুনিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় আমলাতন্ত্র বলতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী বেতনভুক্ত কর্মীবাহিনীকে বোঝায়। আমলারা সুশৃঙ্খলভাবে পরস্পর পদের ক্রম অনুযায়ী সংযুক্ত এবং রাজনীতি নিরপেক্ষ থেকে তাদের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। ম্যাক্স ওয়েবারকে আমলাতন্ত্রের জনক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!