আর্দ্রতা হচ্ছে বায়ুতে উপস্থিত জলীয় বাষ্পের পরিমাণ।
তুষারপাত হলো কৃষি জলবায়ুর অন্যতম উপাদান। যদি ভূ-পৃষ্ঠ ও তার নিকটস্থ বস্তুসমূহের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের নিচে নেমে যায় তবে বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প আর বৃষ্টি আকারে নামতে পারে না। তখন বাতাসের জলকণা জমে যায় ও বরফ কুচির মতো ভূ-পৃষ্ঠে পড়তে থাকে যাকে তুষারপাত বলে। শস্যের অঙ্কুরোদগম, পুষ্পায়ন এমনকি ফল ধরার ক্ষেত্রেও তুষারপাত প্রভাব বিস্তার করে।
উদ্দীপকে জলবায়ুর পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। এটি গবাদিপশু ও পাখির ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
কৃষি জলবায়ু অনুকূল হলে গবাদিপশুর খাদ্যের উৎপাদন ও ফলন -ভালো হয়। ফলে গবাদিপশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, কৃষকের অবস্থার উন্নতি ঘটে। কিন্তু বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, জলাবদ্ধতা বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে গবাদিপশু ও পাখির স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়, রোগব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হয়; ফলে উৎপাদন কমে যায়। অতিরিক্ত তাপে পশুর বহিঃদেশে পরজীবীর উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। তাপ পীড়নে খামারে ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির মৃত্যু হয়। ঠান্ডা ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় হাঁস ও মুরগির ডিম উৎপাদন কমে যায়। বর্ষাকালে অধিক বৃষ্টিপাত হলে পশুপাখির রোগাক্রমণ বেড়ে যায়। খাদ্যের অভাব হয়। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় হাঁস মুরগির রানীক্ষেত রোগ ও গবাদিপশুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। শীতকালে তাপমাত্রা অত্যধিক কমে গেলে গবাদিপশু ও পাখির ক্ষুধামন্দা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন রোগ দেখা দেয়। যেমন- নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, তড়কা, গলাফুলা ইত্যাদি।
তাই বলা যায়, জলবায়ুর পরিবর্তন পশুপাখির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।
ইমনের মা কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনের কথা বললেন। বিভিন্ন ধরনের ফসলের জন্য জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান যেমন- বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতার প্রভাব রয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ফসল ধান, পাট, লিচু, পেঁপে, আনারস ইত্যাদির জন্য ৩১-৩৭০ সে. তাপমাত্রা প্রয়োজন। আবার, শীতকালীন ফসলের জন্য সর্বোত্তম গড় তাপমাত্রা হচ্ছে ১৬-৩০° সে.। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই তাপমাত্রার তারতম্য হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। বীজের অঙ্কুরোদগম ও ফুল ধরার জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা প্রয়োজন। তাপমাত্রা ৩৫° সে. এর বেশি হলে ধানে চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়। আমের পুষ্পমঞ্জরি গঠনের সময় তাপমাত্রা কম থাকলে পুরুষ ফুল বেশি হয়, আবার তাপমাত্রা বেশি হলে উভলিঙ্গ ফুল বেশি হয়। শাকসবজির ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ১০° সে. এর নিচে হলে গাছ ঠাণ্ডাজনিত ক্ষতে আক্রান্ত হয়, যার ফলে ফলন কম হয়।
অধিকাংশ ফসল বীজ গজানোর জন্য পরিমিত বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন হয়। বেশি বৃষ্টিপাত হলে বপনকৃত বীজ পচে যায়। জলবায়ুর পরিবর্তনের মাধ্যমে ফসল পাকার সময় বেশি বৃষ্টিপাত হলে ফলন কম হয়। বেশ কিছুদিন খরা থাকার পর প্রচুর বৃষ্টিপাত হলে আম, কলা, টমেটো, লিচু প্রভৃতিতে ফাটল দেখা যায়। তুষারপাত হলে সরিষার জাব পোকা ও আলুর ব্লাইট রোগ বৃদ্ধি পায়। সকল মাঠ ফসলই অতিরিক্ত কুয়াশা, শিলাবৃষ্টি ও তুষারপাত সহ্য করতে পারে না। শিশির ও কুয়াশা বেড়ে গেলে আলুর মড়ক রোগ বেড়ে যায়।
ফসলের দানা গঠন পর্যায়ে আর্দ্রতা কম থাকলে দানার সংকোচন ঘটে। শীতকালে অর্দ্রতা ৭৫-৮৫% এর বেশি হলে ফসলে জাব পোকা ও বিভিন্ন রোগের আক্রমণ ঘটে। গ্রীষ্মকালে আর্দ্রতা ৭৮- ৮৮% এর কম হলে বীজ গজানো ও ফসলের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশির ও কুয়াশা ফসলের রোগ ও পোকার বিস্তার ঘটায়। অতএব বলা যায় যে, জলবায়ুর পরিবর্তন কৃষিক্ষেত্রে অনেক বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।
Related Question
View Allজিটিআই বা গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান।
কৃষি ডাইরি কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরি যেখানে আধুনিক কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকে।
বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও আধুনিক কৃষির তথ্য উপাত্ত, যেমন- বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত, বীজ, সারের মাত্রা, সেচ, বালাইনাশক, সর্বশেষ প্রযুক্তি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ইত্যাদি তথ্য এ ডাইরিতে পাওয়া যায়। এ ডাইরিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি, সমিতি, সংগঠন ইত্যাদির ফোন/ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল, ওয়েবসাইটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।
উদ্দীপকের আয়োজনটি হলো উঠোন বৈঠক। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনো একজন কৃষকের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে আশেপাশে বসবাসরত ৫০-৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এখানে কৃষকেরা তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মূলত এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। একটি এলাকার কৃষকদের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন কৃষি সমস্যা সমাধান করে থাকে উঠোন বৈঠক। উঠোন বৈঠকে কোনো কৃষক যদি তার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা উত্থাপন করেন তবে অন্যান্য কৃষক তাকে সেই সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকেন। মাঝেমাঝে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এমন সব সমস্যার উদ্ভব হয়, যা এলাকার সব কৃষক একসাথে মিলে সমাধান করেন। যেমন- খরাকালীন সময়ে সেচ সমস্যা, ফসলে রোগ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা, মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা সহজেই কোনো এলাকার কৃষি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।
তাই বলা যায়, কৃষি সেবা প্রাপ্তিতে উঠোন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল চাষ করতে পরামর্শ দেন। দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ফসলকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
i. স্বল্প দিবস ফসল
ii. দীর্ঘ দিবস ফসল ও
iii. দিবস নিরপেক্ষ ফসল।
যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য স্বল্পকালীন সময়ব্যাপী দিবালোক প্রয়োজন হয়, সেসব ফসলকে স্বল্প দিবস ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, সরিষা, আমন ধান ইত্যাদি। সাধারণত এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম অর্থাৎ, গড়ে ৯-১১ ঘণ্টা দিবালোকের প্রয়োজন হয়। যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য দীর্ঘ দিবালোকের প্রয়োজন হয় সেসব ফসলকে দীর্ঘ দিবস ফসল বলে। যেমন- মুলা, আলু ইত্যাদি। এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য ও অল্প সময়ের অন্ধকারের প্রয়োজন পড়ে। আবার, যেসব ফসলের পুষ্পায়নের উপর দিবা দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব পড়ে না তাদের দিবস নিরপেক্ষ ফসল বলে। যেমন- আউশ ধান, আমন ধান, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। কারণ এগুলোর ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব কম থাকায় এগুলো আলোক স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
অর্থাৎ, ফসলের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের প্রভাব বিবেচনা করে চাষ করলে সব ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। অতএব, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠেছে তাকে সামাজিক বন বলে।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!