উদ্ভিদ উৎস থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে একে অন্যকে খাওয়ার মাধ্যমে শক্তির যে স্থানান্তর ঘটে তাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
পরিবেশে যেসব অণুজীব মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের উপর ক্রিয়া করে তাদেরকে বিয়োজক বলে। বিয়োজকের ক্রিয়ার ফলে মৃতদেহ ক্রমেই বিয়োজিত হয়ে নানা রকম জৈব ও অজৈব দ্রব্যাদিতে রূপান্তরিত হয়। ছত্রাক এমন এক ধরনের অণুজীব যেটি মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণী দেহের উপর ক্রিয়া করে তাদের পচিয়ে ফেলে। এতে মৃতদেহ বিশ্লিষ্ট হয়ে বিভিন্ন দ্রব্যে রূপান্তরিত হয়। এজন্য ছত্রাককে বিয়োজক বলা হয়।
উদ্দীপকে দীপ্তির পর্যবেক্ষণকৃত উদ্ভিদগুলো হলো সুন্দরী, গরান, কেওড়া, গোলপাতা এবং প্রাণীগুলো হলো বন মোরগ, বানর ও হরিণ। এ উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদানগুলোকে উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক এ তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
উৎপাদক: সবুজ উদ্ভিদ যারা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে তারাই উৎপাদক। উৎপাদক সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করে।সুতরাং দীপ্তির দেখা উদ্ভিদগুলো উৎপাদক।
খাদক: যারা সবুজ উদ্ভিদ থেকে পাওয়া জৈব পদার্থ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বা অন্য কোনো প্রাণী খেয়ে জীবনধারণ করে তারা খাদক।
দীপ্তির দেখা প্রাণীগুলো হলো বাস্তুতন্ত্রের খাদক।
উদ্দীপকের উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো বাস্তুতন্ত্রে সম্পৃক্ত। বিষয়টি নিচে যাচাই করা হলো-
বাস্তুতন্ত্র গঠনে অজীব ও জীব এই দুটি উপাদানের প্রয়োজন হয়। উদ্দীপকের উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো বাস্তুতন্ত্রের জীব উপাদান। উল্লিখিত উদ্ভিদগুলো হলো উৎপাদক। এরা সূর্যের আলোর সহায়তায় নিজের খাদ্য নিজেরা তৈরি করে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রাণীগুলো সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভর করে। প্রাণীগুলো হলো খাদক। আবার যেসব খাদক উদ্ভিদভোজী বা উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত ফল ও বীজ খেয়ে বাঁচে তাদেরকে প্রথম স্তরের খাদক বলা হয়। বন মোরগ, বানর ও হরিণকে প্রথম স্তরের খাদক বলা যায়।
উৎপাদকের উৎপাদিত শক্তি এই প্রথম স্তরের খাদকগুলোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সর্বোচ্চ খাদক পর্যন্ত পৌঁছায়। তাই বলা যায়, এসব. উদ্ভিদ ও প্রাণীগুলো বাস্তুতন্ত্রে সম্পৃক্ত।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!