ঈমান ও ইহসান সম্পর্কে ব্যাখ্যা করুন।

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

ঈমান : 'ঈমান' শব্দের আভিধানিক অর্থ কারো প্রতি আস্থা স্থাপন করে তার কোনো কথাকে সত্য বলে মেনে নেওয়া। ইসলামি জীবন দর্শনের পরিভাষা অনুযায়ী 'ঈমান' অর্থ আল্লাহর রসুল আমাদের ইন্দ্রিয়াতীত নিগূঢ় সত্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণনা করেছেন এবং আল্লাহর নিকট থেকে যে জ্ঞান ও হেদায়াতের বাণী বিশ্ববাসীর নিকট পেশ করেছেন তা সবই সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং সর্বতোভাবে কবুল করা। বস্তুত, ইসলামি শরীয়ত অনুযায়ী ঈমানের আসল সম্পর্ক হচ্ছে সে সকল অদৃশ্য বিষয়ের সাথে, যা আমরা আমাদের ইন্দ্রিয় বা অন্য যন্ত্র দ্বারা প্রত্যক্ষ করতে পারি না।

ইসলামি পরিভাষায় ঈমানের অর্থ অত্যন্ত ব্যাপক। এর সাতটি অঙ্গ বা ভাগ রয়েছে। এগুলো হলো:

১. আল্লাহ এক, তিনি ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স) তাঁর বান্দা ও রসুল-এ কথায় বিশ্বাস;

২. ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস;

৩. সমস্ত ঐশী গ্রন্থের ওপর বিশ্বাস;

৪. সকল নবী ও রসুলের নবুওয়াতের প্রতি বিশ্বাস;

৫. পরকালে বিশ্বাস

৬. তদীর বা ভাগ্যে বিশ্বাস এবং

৭. মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও শেষ বিচারে বিশ্বাস।

এই সাতটি বিষয়ের ওপর দৃঢ় আস্থা স্থাপন একজন মুসলমানের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য। ঈমান ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের প্রথম স্তম্ভ।

হাদিসে জিব্রাইলে ঈমান সম্পর্কে রসুল (স) বলেন, ঈমান হচ্ছে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, কিতাবসমূহ, রসুলগণ, পরকাল ও তকদীরের প্রতি এভাবে বিশ্বাস করবে যে, ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়।

ইহসান: 'ইহসান' অর্থ অন্যের উপকার করা। ইসলামি পরিভাষায়, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি মানুষের যে সকল দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, সেগুলো উত্তমরূপে পালন করার নাম ইহসান।

ইহসান সম্পর্কে মহানবী (স) বলেন, ইহসান হচ্ছে আল্লাহ। তায়ালার ইবাদত এমনভাবে করা যে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। আর যদি তুমি দেখতে না পাও, তবে ধারণা করবে আল্লাহ তোমাকে দেখছেন।

তাৎপর্য: ইহসান আল্লাহতায়ালার একটি বড় গুণ। সকল সৃষ্টির প্রতি রয়েছে তাঁর অসীম দয়া ও করুণা। তিনি বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী সকলের প্রতিই দয়া করেন। তিনি সকল মানুষকে সমান যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে সৃষ্টি করেননি। এ কারণে মানুষ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। তাই মানুষকে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের উপকার করতে হবে।

ইহসান বা পরোপকারের সুফল:

ক. আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ: যে ব্যক্তির অন্যের উপকার করে আল্লাহতায়ালা তাকে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, 'তোমরা সৎকর্ম ও পরোপকার করো। নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীল ও পরোপকারীদের ভালোবাসেন।' (সূরা বাকারা ২: ১৯৫)

খ. শান্তি প্রতিষ্ঠা: ইহসান বা পরোপকার দ্বারা সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। ধন-সম্পদ ব্যয় করে এবং ভালো কথা বলেও অপরের উপকার করা যায়। এতে সমাজে ঝগড়া-ফাসাদ দূর হয়। এতে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

গ. বন্ধুত্ব অর্জন: ইহসান বা পরোপকার দ্বারা কঠোর হৃদয়বিশিষ্ট লোকের অন্তরকেও জয় করা যায়। পরম শত্রুকে আপন করা যায়।

ঘ. আল্লাহর রহমত লাভ: আল্লাহর কোনো সৃষ্টির প্রতি দয়া করলে তিনি দয়াকারী ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করেন। মহানবী (স) বলেন, 'যারা পৃথিবীতে আছে, তাঁদের প্রতি তোমরা দয়া করো। তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” (আবু দাউদ ও তিরমিযী)।

পরিশেষে বলা যায়, ঈমান একজন মানুষকে পরিপূর্ণ মুমিন হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত আর ইহসান হচ্ছে মু'মিনের অসংখ্য গুণাবলির মধ্যে অন্যতম। সুতরাং সামগ্রিক জীবনে পরিশুদ্ধতা ও উন্নয়নের জন্য ঈমান ও ইহসান হচ্ছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি ইসলামি বৈশিষ্ট্য।

128

Related Question

View All
উত্তরঃ

রোযা ইসলামের মৌল ইবাদতের মধ্যে এবং ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। ইবাদত হিসেবে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে রোযার স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ ধনী-গরিব প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য রোযা আবশ্যকীয় (ফরজ) একটি ইবাদত। প্রকৃত তাকওয়া অর্জন, আত্মসংযম, আত্মনিয়ন্ত্রণ, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনে রোযা একটি অপরিহার্য ইবাদত।

তাকওয়া অর্জনে রমযানের গুরুত্ব: কুরআন ও হাদিসের আলোকে তাকওয়া অর্জনে রমযানের গুরুত্ব নিম্নে আলোচনা করা হলো:

  • রোযার মাধ্যমে মানুষ তাকওয়া বা পরহেজগারী হাসিল করতে সক্ষম হয় এবং রোযার মাসে প্রতিটি লোক গুনাহ ও পাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করে। ফলে রোযার পূর্ণ এক মাস সমাজে বিরাজ করে তাকওয়ার পবিত্র পরিবেশ। কুরআন পাকে এরশাদ রয়েছে, "হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোযা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যেন তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।" মহানবী (স) বলেন, "রমযান মাসে অপবিত্র শয়তানদেরকে শৃঙ্খলিত করা হয়।"
  • রোজা মানুষকে সংযমী হতে শিক্ষা দেয়। কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা ইত্যাদি রিপুর তাড়নায় মানুষ বিগথগামী হয়। রোযা মানুষের এ সকল কুপ্রবৃত্তি দমন করে। এ কারণেই মহানবী (স) বলেন, 'রোযা ঢালস্বরূপ'।
  • রোযা বঞ্চিত ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর প্রতি দয়াপরবশ হওয়ার শিক্ষা দেয়। মহানবী (স) এ প্রসঙ্গে বলেন, "এ মাসে যারা দাসদাসীদের প্রতি সদয় ব্যবহার করে তথা তাদের বোঝা হালকা করে, আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করে দেন এবং দোযখের আগুন হতে রক্ষা করেন।"
  • রোযা মানুষকে সহিষ্ণুতা, একাগ্রতা এবং ইনসাফের শিক্ষা দেয়। মহানবী (স) বলেন, "রমযান সবরের মাস, আর সবরের প্রতিদান জান্নাত।"
  • রোযা রাখলে মানবমনে খোদাভীতি জাগ্রত হয়। রোযা সংযম ও আত্মশুদ্ধিতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে রোযা মানুষের সুকোমল চরিত্র গঠনে সাহায্য করে।

রোযা মানুষকে পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্তি দেয়, কুপ্রবৃত্তিকে ধুয়ে মুছে আত্মাকে দহন করে, সকল গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতের পথ প্রশস্ত করে সমাজজীবনে পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহানুভূতিশীলতা সৃষ্টি করে, ঐক্য ও সাম্য প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা যোগায়।

38
উত্তরঃ

প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্ক রক্ষার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে উক্ত হাদিসে। এ হাদিসটি বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফে সংকলিত আছে। একবার রসুল (স) বললেন, "সে মুমীন নয়। সে মুমীন নয়।" সবাই জিজ্ঞাসা করলো, হে রসুল! কে? রসুল (স) বললেন, "যার প্রতিবেশী তার অনিষ্টকর কাজ থেকে নিরাপদ নয়।" প্রতিবেশী তিন রকম। প্রথম মুসলিম আত্মীয় প্রতিবেশী। এ ধরনের প্রতিবেশী তিনটি অধিকার পায়: একটি আত্মীয় হিসেবে, একটি মুসলমান হিসেবে এবং একটি প্রতিবেশী হিসেবে। দ্বিতীয় মুসলিম অনাত্মীয় প্রতিবেশী। এ প্রতিবেশী দুটি অধিকার পাবে: একটি প্রতিবেশী হিসেবে ও একটি মুসলমান হিসেবে। তৃতীয় অমুসলিম প্রতিবেশী। এ ধরনের প্রতিবেশী স্রেফ প্রতিবেশীত্বের অধিকার পাবে।

রসুল (স) বলেছেন, "যে ব্যক্তি তৃপ্তিসহকারে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে, সে মুসলমান নয়।" রসুল (স) আরো বলেছেন: জিবরাইল (আ) আমাকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এত সতর্ক করে যে, কখনো কখনো ভাবি, প্রতিবেশীকে হয়তো আমার উত্তরাধিকারী বানানো হবে। (সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজা)

রসুল (স) আরো বলেছেন, দরিদ্র প্রতিবেশী কিয়ামতের দিন ধনী প্রতিবেশীকে জাপটে ধরে বলবে: 'হে প্রভু! আমার এই ভাইকে তুমি সচ্ছল বানিয়েছিলে এবং সে আমার নিকটেই থাকতো, কিন্তু আমি ভুখা থাকতাম আর সে পেট পুরে খেত। ওকে জিজ্ঞাসা করো, কেন আমার ওপর দরজা বন্ধ করে রাখতো এবং আমাকে বঞ্চিত করতো।' রসুল (স) বলেন, তিনটি গুনাহ সবচেয়ে ভয়াবহ 'আল্লাহর সাথে শিরক করা, সন্তানকে অভাবের ভয়ে হত্যা করা এবং প্রতিবেশীর স্ত্রীর শ্লীলতাহানি করা।' (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে নাসায়ী, জামে তিরমিযী)।

সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যে, আমার কোনো প্রতিবেশীই যেন ভুখা না থাকে, অভাবে কষ্ট না পায়।

51
উত্তরঃ

ইসলাম যে পাঁচটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত সেগুলোর মধ্যে যাকাত একটি অন্যতম স্তম্ভ। যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত। যাকাত দেওয়ার মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং পবিত্র হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণে, দারিদ্র্য নিরসনে যাকাতের ভূমিকা অপরিসীম। যাকাত সবার ওপর ফরজ নয় বরং শর্ত সাপেক্ষে তা ধনী মুসলমানদের উপর ফরজ হয়ে থাকে। খাতগুলো বর্ণনা করা হলো:

যাকাতের আভিধানিক অর্থ: 'যাকাত' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ- ১. বৃদ্ধি পাওয়া; ২. পবিত্র করা বা হওয়া; ৩. প্রাচুর্য; ৪. প্রশংসা ইত্যাদি।

যাকাতের পারিভাষিক অর্থ: ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায় যাকাত হলো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে বিনা স্বার্থে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত মালের নির্দিষ্ট অংশ কোনো মুসলিম দরিদ্রকে প্রদান করা।

ইবনে কুদামা বলেন- এটা এমন অধিকার যা সম্পদের ওপর ধার্য করা হয়।

মোটকথা, নিসাব পরিমাণ সম্পদ কোনো ব্যক্তির কাছে পূর্ণ একবছর থাকলে তাকে শরীয়ত কর্তৃক যে নির্ধারিত অংশ গরিব মুসলমানদের প্রদান করতে হয়, তা-ই যাকাত।

যাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ: যাকাত ব্যয়ের ৮টি খাত পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবায় বর্ণিত হয়েছে। যাকাতের সেই ৮টি খাত নিম্নে তুলে ধরা হলো:

১. ফকির: ফকির বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যার সামান্য সম্পদ থাকে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় নগণ্য।

২. মিসকিন: মিসকিন হলো এমন ব্যক্তি যার কোনো সম্পদ নেই, একেবারে নিঃস্ব।

৩. যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী: যারা যাকাত আদায় করার জন্য রাষ্ট্রপ্রধান কর্তৃক নিয়োজিত আছেন তাদেরকেও যাকাত প্রদান করা যাবে।

৪. যাদের মন জয় করা আবশ্যক: এ ধরনের লোকদের মধ্যে নও মুসলিম অন্যতম। তাদের মন জয় করার জন্য যাকাত প্রদান করা যাবে।

৫. দাসমুক্তির জন্য: কোনো ক্রীতদাসকে মুক্ত করার জন্য যাকাত দেওয়া যাবে।

৬. ঋণ মুক্তির জন্য: ঋণী ব্যক্তিকে তার ঋণ পরিশোধের জন্য যাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে।

৭. আল্লাহর রাস্তায়: অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধের জন্য মুজাহিদদের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য যাকাত প্রদান করা যাবে।

৮. নিঃস্ব মুসাফির: সফরে এসে কোনো মুসাফির নিঃস্ব হলে তাকেও যাকাতের অর্থ প্রদান করা যাবে।

দারিদ্র্য নিরসনে যাকাতের ভূমিকা: সমাজ ও দেশ থেকে দারিদ্র্য নিরসনের লক্ষ্যেই যাকাত ব্যবস্থার প্রবর্তন করা হয়েছে। দারিদ্র্য নিরসনে যাকাতের ভূমিকা নিম্নরূপ:

ক. দারিদ্র্য নিরসন: মহান আল্লাহতায়ালা যাকাত কোন খাতে ব্যয় করা হবে সে সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের সূরা তাওবায় ৬০ নং আয়াতে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, 'যাকাতের অর্থ কেবল ফকীর, মিসকিন, যাকাত সংগ্রহের কার্যে নিযুক্ত ব্যক্তি, যাদের মন আকৃষ্ট করা প্রয়োজন, দাস মুক্তি, ঋণ থেকে মুক্তি, আল্লাহর পথে এবং নিঃস্ব পথিকদের জন্য। এ আদেশ আল্লাহর পক্ষ থেকে।'

ওপরের আয়াতে যে আটটি খাতের কথা বলা হয়েছে সেগুলোর সবকটি সঠিকভাবে যাকাত প্রাপ্ত হলে সমাজে, দেশে অভাব-অনটন ও দারিদ্র্য থাকতে পারে না। যারা সাধারণত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে ওপরের বর্ণনায় তাদের সবার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমরা যদি ফকির, মিসকিনকে যাকাত প্রদান করি তবে তাদের দারিদ্য দূর হবে। ফকির বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যার সম্পদ কিছু পরিমাণ কিন্তু তা প্রয়োজন অপেক্ষা অতি নগণ্য। আর মিসকিন বলা হয় এমন ব্যক্তিকে যার কিছুই নেই। এরপর আমরা যদি কর্মচারীদের মধ্যেও যাকাত প্রদান করি তবে গরিবদের আরো একটি অংশ দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্ত হলো। আবার আমরা যদি ক্রীতদাসদের মুক্তির জন্য এবং যারা ঋণগ্রস্ত তাদেরকেও যাকাত প্রদান করি তবে দরিদ্রের সংখ্যা আরো কমে গেল। এরপর আমরা যদি নিঃস্ব পথিকদের যাকাত প্রদান করি তবে তো দরিদ্র ব্যক্তি থাকতে পারে না। সমাজে যে ধরনের দরিদ্র ব্যক্তিই থাকুক না কেন এই আটটি খাতের একটি পর্যায়ে পড়বেই। আর তা হলে তাদের দারিদ্র্য দূর হতে বাধ্য। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান হিসেবে এ বিধান করেছে যাতে সমাজ থেকে দারিদ্র্য নিরসন করা সম্ভব হয়।

খ . অর্থনৈতিক বৈষম্যদূরীকরণ: সমাজে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের মূল কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্য। সম্পদ গুটিকয়েক লোকের হাতে পুঞ্জীভূত থাকলে অপর লোকেরা দারিদ্র্যের শিকার হয়। আর তাই ইসলাম সম্পদ পুঞ্জীভূত করতে নিরুৎসাহিত করে যাকাতের ব্যবস্থা করেছে। যাতে সম্পদ সকলের মধ্যে সুষম বণ্টন হতে পারে। যাকাতের ফলে ধনী-গরিব সবার হাতে অর্থ-সম্পদ থাকে। এতে করে সমাজে বিদ্যমান অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়।

গ. ভ্রাতৃত্বের বন্ধন : যাকাত দিলে সমাজের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন গড়ে ওঠে। যাকাত দাতা ও গ্রহীতার। মধ্যে এ সম্পর্ক গাঢ় হয়ে উঠলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর হতে বাধ্য। কেননা কোনো ধনী ভাই চাইবে না তার অপর ভাই না খেয়ে থাকুক। সে দারিদ্র্যের কশাঘাতে জর্জরিত হোক। এভাবেই পরস্পরের মধ্যে মধুর সম্পর্কের মাধ্যমে যাকাত সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ঘ. জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি: যাকাত প্রদানের ফলে সম্পদ একজনের কাছে জমা না থেকে বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ বৃদ্ধি করে। যাকাত দেবার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন কাজে অনেকেই অংশগ্রহণ করতে পারে। যাকাত দেবার পূর্বে যখন যাকাত দাতারাই সম্পদের মালিক থাকত তখন সম্পদ পুঞ্জীভূত থাকত। কিন্তু যাকাত দেবার ফলে এ সম্পদ অনেক হাতে গেলে ক্রয়-বিক্রয়, লেন-দেন ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়। ফলে জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে আয়ও বৃদ্ধি পায়। ফলে সমাজের মধ্যে দারিদ্র্যের অবসান ঘটে।

ঙ. অর্থলিপ্সা দূরীকরণের মাধ্যমে : দুনিয়াবী সম্পদের প্রতি লিপ্সাই মানুষকে আল্লাহর পক্ষ থেকে দূরে সরিয়ে দুনিয়ায় অর্থ মোহে অন্ধ করে রাখে। ফলে মানুষ অর্থের পিছনে ছুটতে থাকে। এতে করে মানুষ তার মৌলিক গুণাবলি থেকে বিচ্যুত হয়ে যেভাবেই হোক সম্পদ পুঞ্জীভূত করে। ফলে কিছু লোক হয়ে ওঠে ধনী আবার কিছু লোক হয়ে পড়ে নিঃস্ব। তাই ইসলাম মানুষকে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে পরকালের পাথেয় জোগাড় করার প্রতি উৎসাহিত করে। যাকাত দেওয়ার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে অর্থের মোহ কেটে যায়। ফলে সম্পদ কুক্ষিগত না থেকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। যাকাত দাতার আত্মিক পবিত্রতা আসে আবার সম্পদও বৃদ্ধি পায়।

চ. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: যাকাতের অর্থ বাইতুল মালে জমা হয়। বাইতুল মাল জনগণের মৌলিক অধিকার পূরণের লক্ষ্যে ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কলকারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ফলে অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীভূত হয়।

পরিশেষে আমরা বলতে পারি, যাকাত একটি আর্থিক ইবাদত। যাকাত দেবার মাধ্যমে আত্মিক পবিত্রতাসহ সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং যাকাত প্রদানের ফলে সমাজ থেকে দারিদ্রের অবসান ঘটে। তাই আমরা বলব, দারিদ্র্য নিরসনে ইসলামে যাকাতের ভূমিকা অনস্বীকার্য ও অপরিসীম।

57
উত্তরঃ

শিরক: 'শিরক' শব্দের অর্থ অংশীদার অর্থাৎ একাধিক স্রষ্টা, একাধিক নিয়ন্ত্রণকারী ও একাধিক উপাস্যে বিশ্বাস করা। মহান আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা বা কাউকে তাঁর সমপর্যায়ের মনে করাকে শিরক বলে। আল্লাহর ইবাদাতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা শক্তিকে শামিল করাও শিরক।

শিরক দুই প্রকার। যথা: ১. শিরকে জলী ও ২. শিরকে খফী।

ঈমান ও শিরকের মধ্যে সম্পর্ক: শিরক তাওহীদের (একত্ববাদ) বিপরীত। ঈমানের মূলকথা হলো আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস। আর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসের মূলই হচ্ছে তাওহীদে বিশ্বাস। অথচ শিরক তাওহীদে বিশ্বাসকে অস্বীকার করে একাধিক স্রষ্টা ও একাধিক উপাস্যে বিশ্বাস বোঝায়। যে ব্যক্তি শিরক করে তাকে বলা হয় মুশরিক। শিরক মানুষের ঈমান ও আমলকে এমনভাবে ধ্বংস করে যেমনিভাবে আগুন সবকিছুকে পুড়িয়ে ধ্বংস করে। যেমন-'শিরকে খফী'। মানুষের ঈমান ও আমলকে এমনভাবে ধ্বংস করে যে, মানুষ টেরই পায় না। শিরক জঘন্যতম অপরাধ, ক্ষমার অযোগ্য পাপ। তবে আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে যে-কোনো গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। কিন্তু শিরক করার গুনাহ আল্লাহ মাফ করবেন না। এ সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন-

অর্থ: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করার গুনাহকে ক্ষমা করবেন না। তা ব্যতীত যে-কোনো গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।" (সূরা নিসা: ৪: ১১৬)

ইসলামপূর্ব যুগে যত প্রকার পাপাচার হতো তার মধ্যে শিরক ছিল প্রধান। তাই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স) তাঁর নবুওয়্যাতের প্রথম তেরোটি বছর শিরক দূরীভূতকরণ ও মানুষের মনে আল্লাহর একত্ববাদের ধারণা বদ্ধমূল করার জন্য কঠোর সাধনা করেছিলেন।

বিদায়াত: 'বিদায়াত'-এর শব্দগত অর্থ হলো পূর্বে যার নজির নেই। রসুলুল্লাহ (স) ও সাহাবায়ে কেরামগণের দ্বারা অনুসৃত হয়নি এমন কর্মকাণ্ড বা নিয়ম-কানুনকেই বলে বিদায়াত। বিদায়াত দু'প্রকার। যথা: বিদায়াতুল হাসানা (বা কল্যাণকর বিদায়াত) ও বিদায়াতুস সাইয়া (বা ক্ষতিকর বিদায়াত)। যেসব কর্মকাণ্ড বা নিয়ম-কানুন রসুলুল্লাহ (স) বা সাহাবায়ে কেরামদের আমলে প্রয়োজন হয়নি, কিন্তু পরবর্তীকালে প্রয়োজন হয়েছে, অথচ এসব কর্মকাণ্ড বা আইন-কানুন কুরআন সুন্নাহর কোনো অনুশাসনের বিরোধী নয়, এগুলোই হচ্ছে বিদায়াতুল হাসানা। অবশ্য বিদায়াতের ক্ষেত্রে হাসানা বলে কিছু নেই। কারণ দ্বীনের মধ্যে নতুন সংযোজনই বিদায়াত যা গ্রহণযোগ্য নয়। সমস্ত বিদায়াতই ভ্রষ্টতা।

ঈমান ও বিদায়াত সম্পর্ক: ঈমানের দাবি বা চাহিদা হলো মহান আল্লাহর হুকুমসমূহ তাঁর প্রিয় বান্দা হুজুর (স)-এর দেখানো পথে পুরা করা। আর মানুষের ফিতরাত বা বৈশিষ্ট্য হলো সে তার মনমতো, নতুনভাবে আমল তৈরি করা। আর এসবই বিদায়াত। আর এজন্য মানুষ যখন বিদায়াতে লিপ্ত হয় তখন সে বুঝতেই পারে না যে, সে বিদায়াত করছে। এজন্য তার তওবাও নসীব হয় না। বিদায়াত হচ্ছে গুমরাহী। আর গুমরাহীর পরিণাম জাহান্নাম। বিদায়াত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে 'বিদায়াতী ব্যক্তির নামাজ, রোজা, সদাকাহ, হজ, জিহাদ, ফরয এবং নফল ইবাদাত কিছুই আল্লাহ কবুল করেন না। সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যায়, যেমনি বেরিয়ে আসে আটার খামির হতে চুল।' (ইবনে মাজাহ, পৃ. ০৬)

98
উত্তরঃ

'আসর' শব্দের অর্থ হলো সময়, যুগ বা কাল। সূরার প্রথম 'ওয়াল আসর' শব্দটিকেই সূরার নাম হিসেবে নেওয়া হয়েছে। সূরা আসর নাযিলের সময় সম্পর্কে মতভেদ থাকলেও অধিকাংশের মতে সূরাটি মাক্কী যুগে অবতীর্ণ। মাক্কী যুগের প্রথম দিকের সূরায় যেসব বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা এ সূরায় স্পষ্ট। এ সূরায় ৩টি আয়াত রয়েছে। অর্থ: (১) সময়ের কসম (২) নিশ্চয়ই মানুষ বড় ক্ষতির মধ্যে রয়েছে (৩) ঐসব লোক ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, নেক আমল করেছে। একে অপরকে হক কথার উপদেশ দিয়েছে এবং একে অপরকে সবর করার উপদেশ দিয়েছে।

ব্যাখ্যা: সূরা আসরে মানুষের সফলতার পথ কোনটি এবং বিফলতা ও ধ্বংসের পথ কোনটি তা পরিষ্কার ভাষায় ঘোষিত হয়েছে। সময়ের কসম করে মানবজাতির অতীত ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হচ্ছে যে, মানুষ হিসেবে তাদের জীবন সাধারণভাবে ব্যর্থ এবং ক্ষতিগ্রস্ত। কারণ মানুষের বিবেক-বুদ্ধি যেসব বিষয়কে সঠিক বলে অকপটে স্বীকার করে এসেছে বাস্তব জীবনে মানুষ ঐসব কথাকে পালন করেনি।

ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে মানুষের ব্যর্থতা ও ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে একমাত্র ঐসব লোকই রক্ষা পাবে যাদের মধ্যে ৪টি গুণের সমাবেশ রয়েছে।

প্রথম গুণ হলো ঈমান। এর শাব্দিক অর্থ বিশ্বাস। মুখে স্বীকার এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করে কার্যে পরিণত করার নামই ঈমান।। প্রধানত তিনটি বিষয়- তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতে বিশ্বাস করাই ঈমানের মূলকথা।

দ্বিতীয় গুণ হলো আমলে সালেহ্ বা নেক আমল। আমলে সালেহ মানে হলো ঈমানের তাকীদে আল্লাহ ও রসুলের হিদায়াত ও তরীকা অনুযায়ী কাজ করা।

তৃতীয় গুণ হলো একে অপরকে হকের উপদেশ দেওয়া। হক মানে সত্য, ন্যায় ও অধিকার। হকের দাবি হলো ঈমানদারদের এমন সজাগ থাকতে হবে যাতে সমাজে যখনই কোথাও হকের বিপরীত কিছু দেখা যাবে তখনই তাঁরা এর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে এবং একে অপরকে এর জন্য উদ্বুদ্ধ করবে।

চতুর্থ গুণ হলো একে অপরকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ ও তাগিদ দেওয়া। যত বাধাই আসুক তার পরোয়া না করে হকের ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে বাঁচতে হলে ঈমান, আমলে সালেহ, ওয়াতাওয়া সাওবিল হক ও ওয়াতাওয়া সাওবিস সবর এ চারটি গুণ একসাথে থাকতে হবে।

40
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews