উক্ত ঘটনা অর্থাৎ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি অনেক গভীর প্রোথিত ছিল।
১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপ্তি ধ্বংসযজ্ঞ, হতাহতের সংখ্যা অতীতের সকল যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণকে অনেক গুণ অতিক্রম করে গেছে। এই যুদ্ধ ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই থেকে অস্ট্রো-হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ার মধ্যে শুরু হয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে ইউরোপের প্রায় সকল দেশেই। যুদ্ধের আগুন আটলান্টিকের ওপারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং এশিয়ার - বেশ কিছু দেশেও ছড়িয়ে পড়ে।
দুটি শিবিরে বিভক্ত সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দ্বন্দ্ব ও প্রতিযোগিতা থেকেই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। এটিকে শুধু বসনিয়ার রাজধানী সারায়েভোতে সার্ব আততায়ী কর্তৃক অস্ট্রিয়ার 'যুবরাজ ফ্রান্সিস ফার্দিনান্ড এবং তার স্ত্রী সোফিয়ার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই। এ যুদ্ধের কারণ অনেক গভীরে প্রোথিত। শুধু শুধু এমনিতেই এতগুলো দেশ একটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েনি, এত মৃত্যু ও ধ্বংসকে বরণ করেনি। এ যুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদী চরিত্রের মধ্যেই এর।
প্রকৃত কারণ লুকিয়ে আছে। ১৯১২-১৯১৪ সময়কালে ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়লে ইউরোপীয় নেতাদের কূটনীতির ভাষা অস্ত্রের ভাষায় রূপান্তরের আশঙ্কা বেড়ে যায়। শিল্প বিপ্লব, জাতীয়তাবাদ, উগ্রজাতীয়তাবাদ, উপনিবেশবাদ এবং
সাম্রাজ্যবাদের উত্থান ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোকে নীতি বিবর্জিত বাজার দখলের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে ফেলে। ক্রমে
সামরিক শক্তি শিবিরে বিভক্ত করে এবং এর করুণ পরিণতি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি তৈরি করেছিল।
পরিশেষে বলা যায়, উগ্র জাতীয়তাবা, সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ, শিল্প বিপ্লব এবং ইউরোপীয় দেশ সমূহের সামরিক শক্তি জকানান দেওয়ার করুণ পরিণতি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পটভূমি বা ক্ষেত্র তৈরি করেছিল।
Related Question
View Allসম্মিলিত জাতিপুঞ্জ ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে গঠিত হয়।
'লিজিয়ন অব অনার' হচ্ছে এক ধরনের উপাধি, যা ১৮০২ সালের ১৯ মে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট প্রবর্তন করেন। এটি ফ্রান্সের সর্বোচ্চ সম্মাননা। লিজিয়ন অব অনার পাঁচ ভাগে বিভক্ত। যথা- ১. নাইট, ২. অফিসার, ৩. কমান্ডার, ৪. গ্র্যান্ড অফিসার ও ৫. গ্র্যান্ড ক্রস
উদ্দীপকের ঘটনাটি আমার পাঠ্যপুস্তকের ভার্সাই সন্ধির সাথে সংশ্লিষ্ট।
সারায়েভো হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয় এবং প্রায় পুরো বিশ্ব দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। তিনটি মহাদেশের ৩৪টি দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। চার বছরের অধিককাল স্থায়ী এ যুদ্ধে জার্মানি পরাজিত হলে বিজয়ী বিশ্বশক্তি জোট ১৯১৯ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানিকে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে বাধ্য করে। সন্ধি স্বাক্ষরের পূর্বে ভার্সাই সন্ধির খসড়া জার্মানিকে দেওয়া হয়নি। তাই পরবর্তীতে জার্মানিরা এ সন্ধিকে চাপিয়ে দেওয়া সন্ধি বলে অভিহিত করে এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একটি অনুষ্ঠান আয়োজনকে কেন্দ্র করে আড়পাড়া ও জামতৈল গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত অন্যান্য গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি মীমাংসার জন্য বসে একতরফাভাবে আড়পাড়াকে দায়ী করে এবং তার ওপর ক্ষয়ক্ষতির বোঝা চাপিয়ে দেয়, যা ভার্সাই সন্ধির ঘটনাকে ইঙ্গিত করে।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে ভার্সাই সন্ধির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
উক্ত ঘটনার অর্থাৎ ভার্সাই সন্ধির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী-উক্তিটি যথার্থ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে মিত্রশক্তি ১৯১৯ সালের ২৮ জুন জার্মানির কাঁধে ভার্সাই সন্ধি চাপিয়ে দেয়। এ সন্ধিতে প্রথম। বিশ্বযুদ্ধের যাবতীয় ক্ষতিপূরণ জার্মানিকে দিতে বাধ্য করা হয়।। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে জার্মানির নিকট থেকে ১৩২ বিলিয়ন স্বর্ণমুদ্রা আদায় করা হয়। জার্মানির সৈন্য সংখ্যা এক লাখে সীমিত করা হয়। যুদ্ধের সরঞ্জাম উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি নিষিদ্ধ করা
হয়। রাইন নদীর ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে সকল জার্মান দূর্গ। সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়। সন্ধি অনুযায়ী জার্মানি তার আলসাস
লোরেন ও খনিসমৃদ্ধ সার অঞ্চল ১৫ বছরের জন্য ফ্রান্সকে ছেড়ে দেয়। জার্মানি ভার্সাই সন্ধির কঠোরতায় ন্যুব্জ হয়ে পড়েছি জার্মানবাসী ভেতরে ভেতরে ফুসছিল এ সন্ধির নাগপাশ থেকে মুরি পাওয়ার জন্য। এ সময় উগ্র জাতীয়তাবাদী হিটলাটের আবির্ভাব ঘটে হিটলার ভার্সাই সন্ধির নিষ্ঠুরতা থেকে জার্মানবাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য এবং জার্মানির আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য মিত্রশক্তির বিরূদ্দে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এভাবেই ১৯৩৯ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয় এবং বিশ্ব আবার বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ভার্সাই সন্ধির ক্ষতিকর প্রভাবই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে অনিবার্য করে তুলেছিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণ হলো সারায়েভো হত্যাকান্ড।
উনবিংশ শতাব্দীর শেষে এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে জার্মান দার্শনিক, পণ্ডিত ও ঐতিহাসিকগণ এ কথা প্রচার করতে থাকেন যে জার্মানগণ হচ্ছে বিশুদ্ধ আর্য এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ জাতি। ক্রমে এ জাতীয়তাবাদী ধারণা ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, রাশিয়া প্রভৃতি দেশে ছড়িয়ে পড়ে। জার্মান জাতিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্য অস্ত্রের ভাষা প্রয়োগ করে। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার জাতিগত বিদ্বেষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ অবস্থাকে উগ্র জাতীয়তাবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!