উদ্দীপকে উক্ত দুর্যোগ বলতে নদীভাঙন সাজিদের পরিবারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
নদীভাঙন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানবসৃষ্ট কোনো দুর্যোগ নয় বিধায় এর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা মানুষের হাতে নেই। আমাদের দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে নদীভাঙন সংঘটিত হয়। নদীভাঙন মানুষের জীবনে নিয়ে আসে সীমাহীন দুঃখ-যন্ত্রণা। যা উদ্দীপকের সাজিদের পরিবারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। সাজিদের গ্রামটি ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত। সে মাঠে খেলতে গিয়ে লক্ষ করল গ্রামের লোকজনের ছোটাছুটি, গবাদিপশু ও মালামাল অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে বুঝতে পারল তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। এ দুর্যোগ সাজিদের দাদি ও ৩ বছরের ছোটো বোনের ওপর বেশি প্রভাব ফেলেছে। আর ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারানোর ভয় তো আছেই। এ ধরনের দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী নারী, প্রসূতি ও প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে বা আত্মীয়ের বাড়ি পাঠাতে হয়। বাড়ির হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়। ঘরের মূল্যবান সামগ্রী ও দলিলপত্র নিরাপদ স্থানে সরাতে হবে।
পরিশেষে বলা যায়, নদীভাঙন দুর্যোগটি অত্যন্ত ভয়াবহ, যার মাধ্যমে সাজিদের পরিবারটি সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে। যা সাজিদের পরিবারের ওপরে প্রভাব ফেলেছে।
Related Question
View Allকোনো জায়গার গড় জলবায়ুর দীর্ঘমেয়াদি ও অর্থপূর্ণ পরিবর্তন যার ব্যাপ্তিকাল কয়েক যুগ থেকে কয়েক লক্ষ বছর পর্যন্ত হতে পারে, তাকে জলবায়ুর পরিবর্তন বলে। ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা উষ্ণায়নের কারণে সারা পৃথিবীতেই জলবায়ুর পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে উষ্ণমণ্ডলীয় দেশে শুষ্ক মৌসুমে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুষ্ক মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও অত্যধিক খরা, শিলাবৃষ্টি, সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। এছাড়া শীত মৌসুমে হঠাৎ শৈত্য ও উষ্ণ প্রবাহ এবং ঘন কুয়াশা লক্ষ করা যায়।
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটনের কারণ। বাংলাদেশের জীবন ও অর্থনীতির ওপর এসব দুর্যোগের প্রভাব লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলো- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন প্রভৃতি।
বিজ্ঞানের বিস্ময়কর অগ্রগতির মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষ একদিকে যেমন তার জীবনকে করেছে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় অন্যদিকে তেমনি পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে করেছে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন। জনসংখ্যার বিস্ফোরণ, বৃক্ষনিধন ও ইঞ্জিনচালিত যানবাহনসহ বড়ো বড়ো শিল্প-কারখানার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয় নানা সমস্যার। এসবের ফলে পৃথিবীতে তাপমাত্রা বাড়ছে। একেই বলা হয় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন।
বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর একটি হলো 'গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া'। এটি একটি জটিল সমস্যা। গ্রিনহাউস মূলত কতকগুলো গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি আচ্ছাদন। গ্রিনহাউস গ্যাসকে তাপ বৃদ্ধিকারক গ্যাসও বলে। এই গ্যাস পৃথিবীর চারপাশে বায়ুমন্ডলে চাদরের মতো আচ্ছাদন তৈরি করে আছে।
গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীকে ঘিরে চাদরের মতো একটি আচ্ছাদন তৈরি করেছে। সূর্যের তাপ এই চাদর শোষণ করে এবং তা পৃথিবীপৃষ্ঠে ছড়িয়ে দেয়। পৃথিবীপৃষ্ঠ দ্বারা গৃহীত এ তাপমাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাতের বেলা প্রতিফলিত হয়ে, মহাশূন্যে মিলিয়ে যায় এবং এভাবেই পৃথিবী ঠান্ডা হয়। কিন্তু বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিফলিত তাপ সম্পূর্ণভাবে মহাশূন্যে মিলিয়ে 'না যেয়ে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!