উক্ত শাসকের অর্থাৎ সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের আইন সংস্কার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
নেপোলিয়নের সংস্কারসমূহের মধ্যে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে তার আইন বিধি বা Code Napoleon। নেপোলিয়নকে দ্বিতীয় জাস্টিনিয়ান বলা হয়। প্রাক-বিপ্লব পূর্ব ফ্রান্সে কমপক্ষে ৪০০টি বিভিন্ন ধরনের আইন ছিল। বিপ্লবের পর ফ্রান্সে বহু আইন প্রণীত হয়। আবার বুরবোঁ শাসনামলের অসংখ্য আইন তখনও চালু ছিল। এছাড়াও প্রদেশের প্রথাগত আইনও ছিল। এজন্য বিচারকও সরকারি কর্মকারীদের আইন প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পতিত হয়। নেপোলিয়ন 'সাম্যভিত্তিক' সমাজ বিনির্মাণের উদ্দেশ্যে এ আইনগুলোকে সংকলন করার জন্য আইনজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজে এ-সংক্রান্ত ৩৬টি ও ৮৪টি অধিবেশনে মিলিত হয়ে আইনের মূল সূত্রগুলো লিপিবদ্ধ করেন। এ সংকলনে মোট ২২৮৭টি ধারা ছিল। আইনগুলো সরল ও স্পষ্ট ভাষায় লিখিত হয়। এ আইনের বিষয়বস্তুর মধ্যে ছিল-নাগরিকের সমান মর্যাদা ও সুযোগ লাভের অধিকার, সামন্ততন্ত্রের বিলুপ্তি ও সামন্তকর বাতিলকরণ, বিবাহ আইন মজবুতকরণ, বিচার ব্যবস্থায় জুরি প্রথা চালুকরণ, অভিজাত ও যাজকদের বিশেষ অধিকার ও সুযোগ রহিতকরণ, পৈতৃক সম্পত্তিতে প্রত্যেক সন্তানকে সমান সুবিধা দান প্রভৃতি। তিনি তার আইন বিধিতে ফরাসি ও রোমান আইনের সমন্বয় করেন। তার আইনে কিছু ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও পরে ইউরোপের অনেক দেশে তার এ আইন গৃহীত হয়।
সুতরাং বলা যায়, নেপোলিয়নের আইন সংকলন ছিল এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা তাকে বিশ্বের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দিয়েছে।
Related Question
View Allটেইলি (Taille) হলো সম্পত্তি কর।
বিপ্লবপূর্ব ফ্রান্সে সামাজিক স্থরবিন্যাসে তৃতীয় স্তরে থাকা শহুরে উচ্চ মধ্যবিত্তদের বুর্জোয়া বলা হতো। এদের মধ্যে ছিল সাধারণ দোকানদার, কারিগর, বুদ্ধিজীবী, চাকুরে ও ধনী বণিকসম্প্রদায়। তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বিরাজিত ছিল। আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও কোনো বংশ কৌলীন্য ছিল না। বুর্জোয়ারা তিন শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যথা- পাতি বুর্জোয়া, ধনী বুর্জোয়া ও মূলধনি বুর্জোয়া।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকের ফরাসি রাজা ষোড়শ লুইয়ের কার্যক্রমের মিল রয়েছে।
ফ্রান্সের রাজা ষোড়শ লুই ছিলেন চরম স্বেরাচারী। তিনি বিশ্বাস করতেন, ঈশ্বর রাজাকে নিযুক্ত করেছেন। রাজা তার কাজকর্মের জন্য ঈশ্বর ছাড়া অন্য কারোর নিকট দায়ী নন। এ বিশ্বাস থেকেই তিনি বলতেন, "What I Desire is decree." অর্থাৎ আমি যা ইচ্ছা করি তা-ই আইন। এ বিশ্বাসের কারণেই ষোড়শ লুই হয়ে উঠেছিলেন চরম স্বৈরাচারী।
স্বৈরাচারী মনোভাব দুর্বল চরিত্রের কারণে যখন ফ্রান্সের সংকটকাল শুরু হয়, তখন রাজা সাম্রাজ্যের জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতামত অগ্রাহ্য করেন, যা শেষ পর্যন্ত বুরবোঁ সাম্রাজ্যের পতন ডেকে নিয়ে আসে।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান নিজেকে ইউনিয়নের সর্বেসর্বা মনে করতেন। তিনি মনে করেন, তিনি যা করেন তাই আইন। ইউনিয়ন চালানোর সময় ইউনিয়নের মেম্বার ও অন্যান্য জ্ঞানী ব্যক্তিদের মতামত অগ্রাহ্য করতেন।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যানের সাথে পাঠ্যবইয়ের ষোড়শ লুইয়ের কার্যক্রমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত ব্যক্তি অর্থাৎ ফরাসি রাজা ষোড়শ লুইয়ের কার্যক্রম ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রেখেছিল।
১৭৭৪ সালে ষোড়শ লুই যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন, তখন ফ্রান্সে বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়ে ছিল। কারণ ইতোমধ্যে ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে ফ্রান্সকে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে রাজতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন ছিল অত্যন্ত দক্ষ শাসক। কিন্তু ষোড়শ লুইয়ের মধ্যে এমন দক্ষতা না থাকায় তার অসংলগ্ন কর্মকান্ড ফ্রান্সে বিপ্লবের সূচনা করে। তিনি তার আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেন, "রাজা হচ্ছেন সর্বময় প্রভু, প্রজাদের সব কিছুর ওপর কর্তৃত্ব করার সব প্রাকৃতিক অধিকার তার রয়েছে।” তার এমন মন্তব্য প্রমাণ হয় যে, তিনি অত্যন্ত স্বৈরাচারী মনোভাবাপন্ন শাসক ছিলেন। ক্ষমতা আরোহণ করে ষোড়শ লুই রাজকোষ প্রায় শূন্য দেখতে পান। কিন্তু অর্থ সংকট নিরসনে তিনি মন্ত্রীর যুক্তিযুক্ত সংস্কার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় ভুল করেন। অভিজাত সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং কর বিষয়ক প্রস্তাবে অভিজাতদের বিরোধিতা তার জন্য অসম্মানজনক ছিল। রাজা স্টেট জেনারেলের অধিবেশনে রাজকীয় আদব-কায়দা প্রথা নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করলে তৃতীয় সম্প্রদায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা অপমান বোধ করেন। পরবর্তীতে নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজা তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের অধিবেশনে প্রবেশের অনুমতি দেননি। এর ফলস্বরূপ তৃতীয় সম্প্রদায়ের টেনিস কোটে শপথ ও পরবর্তীতে অধিবেশন কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চেয়ারম্যান একজন স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি ছিলেন, যা ফরাসি রাজা ষোড়শ লুইয়ের প্রতিচ্ছবি। আর ষোড়শ লুইয়ের স্বেচ্ছাচারী কর্মকান্ডের ফলে ফরাসি বিপ্লবের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিল।
১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ১৪ জুলাই বাস্তিল দুর্গের পতন হয়।
গিলোটিন হলো অষ্টাদশ শতাব্দীতে প্রচলিত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার একটি যন্ত্র। মানুষ দোষী সাব্যস্ত হলে তার মুন্ডচ্ছেদ করাই ছিল গিলোটিনের কাজ। ডা. যোসেফ ইগনেস গিলোটিন এই যন্ত্রটির নকশা তৈরি করায় তার নামানুসারে এই যন্ত্রটিকে গিলোটিন নাম দেওয়া হয়। এককথায় বলতে গেলে, একসাথে অনেক মানুষকে হত্যা করার যন্ত্রের নাম গিলোটিন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!