না উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সম্পূর্ণ ভাব ধারণ করে না।
সমাজে নানা রকম মানুষ বাস করে। তাদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন যারা নিজেদের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে পরের হিতের জন্য কাজ করেন। আবার অন্যের জন্য অনেক কিছু করার পরও তারা অবহেলিত থাকেন। তারা সমাজে উপেক্ষিত হন। আমাদের সংসারের গৃহবধূরা এমনই উপেক্ষিত মানুষ।
'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের প্রতীকে গৃহকর্ম-নিপুণা এক লক্ষ্মীবউয়ের জীবন-যন্ত্রণাকে নির্দেশ করেছেন। সংসারে সবার অবহেলায় গৃহবধূর জীবনের সব সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে। সেই সংসারে তার গণ্ডিবদ্ধ জীবন উপেক্ষিত, অথচ তাকে ছাড়া সংসারের অন্যরা অচল। একদিন এক কবি সেই নিমগাছের সৌন্দর্য আবিষ্কার করে, সংসারের সঙ্গে তার শেকড় এমনভাবে জড়িয়ে গেছে যে, কবির ডাকে সাড়া দেওয়ার উপায় নেই। অনুরূপভাবে উদ্দীপকের গৃহবধূও ১৯ বছর বয়স থেকে সংসারের প্রয়োজনে নিয়োজিত ছিল। তার বিনিময়ে শেষ বয়সে সে চরম অবহেলার শিকার। শেষ জীবনে এসে অসুস্থতার জন্য সে সবার কাছে বোঝা হয়ে গেছে।
'নিমগাছ' গল্পে এক গৃহবধূর সংসারে অবদানের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। সেই সঙ্গে প্রকাশ পেয়েছে অবহেলিত হওয়ার দিকটি। 'নিমগাছ' গল্পে একজন কবি নিমগাছের সাধারণ উপকারী দিকের বাইরে গিয়ে তার সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছেন। উদ্দীপকের জরিনার ক্ষেত্রে তেমনটি ঘটেনি। সে আজীবন সংসারে সবার দ্বারা উপেক্ষিত হয়েছে। সংসারের মায়ায় সে সংসার ছেড়ে যেতেও পারেনি। অথচ আজ তাকে সবাই বোঝা মনে করে। এখানে তার সৌন্দর্য ও তা প্রকাশের কোনো বিষয় ফুটে ওঠেনি। এসব দিক বিচারে বলা যায়, মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'নিমগাছ' গল্পের সমগ্র ভাব ধারণ করে না।
Related Question
View Allনিমগাছের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবিরাজরা।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!