স্বজনের বিশ্বাসঘাতকতার চিত্র উপস্থাপনের সূত্রে উদ্দীপকটি 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার আংশিক রূপায়ণ বলেই আমি মনে করি।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় বিশ্বাসঘাতক পিতৃব্য বিভীষণের প্রতি অসহায় মেঘনাদের বক্তব্য উপস্থাপিত হয়েছে। বিভীষণের সঙ্গে ভ্রাতুষ্পুত্র মেঘনাদের আদর্শের দ্বন্দ্বই কবিতাটির মূল বিষয়। তাদের কথোপকথনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে, অন্যদিকে প্রকাশ পেয়েছে ধর্মবোধ ও নৈতিকতা।
উদ্দীপকে পলাশির যুদ্ধে নবাবের নির্ভরযোগ্য সেনাপতিসহ দায়িত্বশীল সেনা-কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার প্রসঙ্গটি বর্ণিত হয়েছে। এখানে প্রধান সেনাপতি মিরজাফর সিরাজউদ্দৌলার বিপক্ষে কাজ করেন। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার স্বাধীনতার সূর্যও অস্তমিত হয়। অন্যদিকে, 'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতায় শুধু স্বজনের বিশ্বাসঘাতকতাই চিত্রিত হয়নি; মেঘনাদের বীরত্ব, সাহসিকতা, ব্যক্তিত্ব এবং স্বজাতির প্রতি মমত্ববোধের প্রসজাও গুরুত্ব পেয়েছে।
'বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ' কবিতার বিষয়বস্তুর সঙ্গে উদ্দীপকের ভাবগত মিল থাকলেও কবিতাটিতে উপস্থাপিত হয়েছে ব্যাপকতর বিষয়। এখানে মেঘনাদকে উপস্থাপন করা হয়েছে এক অকুতোভয় বীরযোদ্ধা হিসেবে। দেশপ্রেম, স্বাজাত্যবোধ, ধৈর্য ও সংযম তার চরিত্রের বিশেষ দিক। পক্ষান্তরে, এ কবিতায় বিভীষণ দেশ ও জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার দোষে দুষ্ট। তবে বিভীষণের আত্মপক্ষ সমর্থনে ধর্ম ও নৈতিকতার যুক্তিও তুলে ধরা হয়েছে কবিতায়। কেননা, রাবণের দুরাচারের কারণেই লঙ্কার যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এ ধরনের কোনো আদর্শগত দ্বন্দ্ব উদ্দীপকে নেই। তাছাড়া কবিতায় উল্লিখিত গুরুজনের প্রতি বিনয় ও সংযমের দিকটিও সেখানে উপেক্ষিত রয়ে গেছে। এভাবে উদ্দীপকটিতে এ কবিতার মাত্র দুটি দিক- দেশাত্মবোধ ও বিশ্বাসঘাতকতার চিত্রই ফুটে উঠেছে, যা কবিতাটির আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে। এদিক বিবেচনায় প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View Allসৌমিত্রি হলেন রাম ও লক্ষ্মণের ভ্রাতা। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ও দক্ষ শাসক। তিনি রামচন্দ্রের রাজত্বকালে লঙ্কা বিজয়ের সময় রামের প্রধান সহযোগী ছিলেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!