উদ্দীপকটি 'মানুষ' কবিতার কোন দিক নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

'মানুষ' কবিতায় কবি মানুষকে সবকিছুর উর্ধ্বে স্থাপন করেছেন- উদ্দীপকটি সেই দিকটিকেই নির্দেশ করেছে। 

সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ। এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই সমান। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষের প্রকৃত পরিচয় হলো সে মানুষ। অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ভেদে মানুষের যে পরিচয় তা মিথ্যে। প্রকৃত পরিচয়ে এ পৃথিবীর সব মানুষ একে অন্যের জ্ঞাতি। এই বোধটি প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষে মানুষে সাম্য গড়ে উঠবে।

'মানুষ' কবিতায় কবির সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। কবির মতে মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই। দেশ-কাল-পাত্র, ধর্ম-জাতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ। তিনি মানুষের প্রকৃত পরিচয়ে বিশ্বাসী। এ জন্য তিনি এমন একটি সমাজ চান, যে সমাজে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা সমান হবে, যেখানে ধর্মের মুখোশধারীদের কাছে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হবে না। উদ্দীপকেও এই দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্দীপকের কবিও ব্রাহ্মণ-শূদ্র, ছোট-বড় প্রভৃতিকে আশ্রয় করে মানুষের যে পরিচয় তাকে কৃত্রিম বলেছেন। রাগ, অনুরাগ, অনুভূতি প্রতিটি মানুষেরই আছে। তাঁর মতে, বর্ণে বর্ণে কোনো তফাত নেই, এ সবই মনুষ্যসৃষ্ট। তিনিও মানুষে মানুষে সাম্যের প্রত্যাশী।

254

                                         গাহি সাম্যের গান -

মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান

নাই দেশ-কাল-পাত্রের ভেদ, অভেদ ধর্মজাতি,

সব দেশে সব কালে ঘরে-ঘরে তিনি মানুষের জ্ঞাতি ।

                                     ‘পূজারী, দুয়ার খোলো,

ক্ষুধার ঠাকুর দাঁড়ায়ে দুয়ারে পূজার সময় হলো!”

স্বপন দেখিয়া আকুল পূজারী খুলিল ভজনালয়,

দেবতার বরে আজ রাজা-টাজা হয়ে যাবে নিশ্চয় !

জীর্ণ-বস্ত্র শীর্ণ-গাত্র, ক্ষুধায় কণ্ঠ ক্ষীণ—

ডাকিল পান্থ, ‘দ্বার খোলো বাবা, খাইনি তো সাত দিন!”

সহসা বন্ধ হলো মন্দির, ভুখারি ফিরিয়া চলে,

তিমিররাত্রি, পথ জুড়ে তার ক্ষুধার মানিক জ্বলে !

                                       ভুখারি ফুকারি' কয়,

‘ঐ মন্দির পূজারীর, হায় দেবতা, তোমার নয়!

মসজিদে কাল শিরনি আছিল, – অঢেল গোস্ত রুটি

বাঁচিয়া গিয়াছে, মোল্লা সাহেব হেসে তাই কুটি কুটি,

এমন সময় এলো মুসাফির গায়ে আজারির চিন

বলে, “বাবা, আমি ভুখা ফাকা আছি আজ নিয়ে সাত দিন!'

তেরিয়া হইয়া হাঁকিল মোল্লা-'ভ্যালা হলো দেখি লেঠা,

ভুখা আছ মর গো-ভাগাড়ে গিয়ে! নমাজ পড়িস বেটা?”

ভুখারি কহিল, 'না বাবা!' মোল্লা হাঁকিল-'তা হলে শালা

সোজা পথ দেখ!' গোস্ত-রুটি নিয়া মসজিদে দিল তালা ।

                     ভুখারি ফিরিয়া চলে,

                    চলিতে চলিতে বলে-

‘আশিটা বছর কেটে গেল, আমি ডাকিনি তোমায় কভু,

আমার ক্ষুধার অন্ন তা বলে বন্ধ করনি প্রভু ।

তব মসজিদ মন্দিরে প্রভু নাই মানুষের দাবি।

মোল্লা পুরুত লাগায়েছে তার সকল দুয়ারে চাবি !”

কোথা চেঙ্গিস, গজনি মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?

ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া দ্বার !

খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?

সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা!

                   হায় রে ভজনালয়,

তোমার মিনারে চড়িয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের জয় !
২০২১

Related Question

View All
265
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews