কালাপাহাড়ের প্রকৃত নাম রাজচন্দ্র বা রাজকৃষ্ণ অথবা রাজনারায়ণ।
প্রশ্নোক্ত লাইনটির মাধ্যমে মোল্লার ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ভণ্ডামির চিত্র উপস্থাপিত হয়েছে।
'মানুষ' কবিতায় ক্ষুধার্ত মুসাফির মোল্লার কাছে নিজের অসহায় অবস্থা বর্ণনা করে খাবার প্রার্থনা করে। সব কথা শুনে মোল্লা সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করে সে নামাজ পড়ে কিনা। মোল্লা সাহেবের এই জিজ্ঞাসায় ভুখা মুসাফিরের প্রতি চরম অমানবিকতা এবং তার ধর্মীয় আচারসর্বস্বতা প্রকাশ পেয়েছে। এতে ধর্মের মর্মবাণী থেকে মোল্লার বহুদূর চলে আসার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। এখানে মোল্লা সাহেব ধর্মের নামে ভন্ডামি এবং স্বার্থের জন্য অমানবিকতার পরিচয় দিয়েছে।
'মানুষ' কবিতায় কবি মানুষকে সবকিছুর উর্ধ্বে স্থাপন করেছেন- উদ্দীপকটি সেই দিকটিকেই নির্দেশ করেছে।
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ। এ পৃথিবীর প্রতিটি মানুষই সমান। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষের প্রকৃত পরিচয় হলো সে মানুষ। অর্থনৈতিক অবস্থা, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ভেদে মানুষের যে পরিচয় তা মিথ্যে। প্রকৃত পরিচয়ে এ পৃথিবীর সব মানুষ একে অন্যের জ্ঞাতি। এই বোধটি প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষে মানুষে সাম্য গড়ে উঠবে।
'মানুষ' কবিতায় কবির সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয় পাওয়া যায়। কবির মতে মানুষের চেয়ে বড় কিছু নেই। দেশ-কাল-পাত্র, ধর্ম-জাতি সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষ। তিনি মানুষের প্রকৃত পরিচয়ে বিশ্বাসী। এ জন্য তিনি এমন একটি সমাজ চান, যে সমাজে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা সমান হবে, যেখানে ধর্মের মুখোশধারীদের কাছে মানবতা ভূলুণ্ঠিত হবে না। উদ্দীপকেও এই দৃষ্টিভঙ্গিরই পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্দীপকের কবিও ব্রাহ্মণ-শূদ্র, ছোট-বড় প্রভৃতিকে আশ্রয় করে মানুষের যে পরিচয় তাকে কৃত্রিম বলেছেন। রাগ, অনুরাগ, অনুভূতি প্রতিটি মানুষেরই আছে। তাঁর মতে, বর্ণে বর্ণে কোনো তফাত নেই, এ সবই মনুষ্যসৃষ্ট। তিনিও মানুষে মানুষে সাম্যের প্রত্যাশী।
উদ্দীপক ও 'মানুষ' কবিতায় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষকে স্থান দেওয়া হয়েছে।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। সব মানুষ একই পৃথিবীর আলো-বাতাসে লালিত-পালিত। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, দুঃখ-সুখের অনুভূতিও এক ও অভিন্ন। সবার শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে যে রক্ত, তার রংও একই রকম লাল। এসব সত্ত্বেও ধর্ম-বর্ণ-গোত্র, অর্থনৈতিক অবস্থার মানদণ্ডে মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য বিরাজমান। এই বিভেদ মানুষের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
'মানুষ' কবিতায় কবি একজন ক্ষুধার্ত ব্যক্তির খাবারের আশায় মন্দিরের পুরোহিত, মসজিদের মোল্লার কাছে গিয়ে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ফিরে আসাকে দেখিয়েছেন। প্রতিটি ধর্মেই মানুষকে শ্রেষ্ঠ বলা হয়েছে। অথচ মন্দির বা মসজিদের পুরোহিত বা মোল্লারা তা স্বার্থের কারণে ভুলে যায়। তাই ধনীরা উপাসনালয়ে প্রবেশ করতে পারলেও দরিদ্র, ক্ষুধার্ত মানুষেরা সেক্ষেত্রে বঞ্চিত হয়। কবি এই বিভেদের প্রাচীর ভেঙ্গে দিতে চান। তাঁর কাছে মানুষই বড়, তার অন্য কোনো পরিচয় বড় নয়। উদ্দীপকেও মানুষকেই শ্রেষ্ঠ বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। কবির কাছে মানুষ প্রকৃত পরিচয়ের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-জাত।
মানুষের 'মানুষ' পরিচয়ই শ্রেষ্ঠ। মানুষ যদি তার প্রকৃত পরিচয়ে পরিচিত হতো, তা হলে মানুষে মানুষে এত বিভেদ থাকত না। এই পৃথিবীতে মানুষই সবকিছুর উর্ধ্বে। উদ্দীপক ও 'মানুষ' কবিতায় এভাবেই মানুষের জয়গান গাওয়া হয়েছে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!