উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একমাত্র দিক নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকবর্গ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের চরমভাবে শোষণ করে। বাঙালি এর প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন। তারা গণহত্যায় মেতে ওঠে। ধ্বংস করে দিতে থাকে সমস্ত দেশ। বাঙালিরাও এক সময় জেগে ওঠে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালির সাহস আর শক্তির কাছে অবশেষে পাকিস্তানি হানাদাররা আত্মসমর্পণ করে।
উদ্দীপকের স্বৈরাচারী জমিদার মফিজ খাঁর দোসর হাসেম ব্যাপারী। সে সাধারণ প্রজার ওপর অত্যাচার চালায়। মানুষ তার ভয়ে কাঁপে। কারণ সে কারও পুকুরের মাছ, কারও গোয়ালের গরু, আবার কারও ঘরের টিন পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে এ রকম চরিত্রধারী হলো আহাদ মুন্সি। সে হানাদারদের দোসর। এই সুযোগে সে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালায়। গ্রামের মানুষকে ভয় দেখিয়ে হানাদারদের কাজ করতে বাধ্য করে। বাঙ্কার খোঁড়ার জন্য অনেক মানুষকে ধরে নিয়ে যায়।
'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে আহাদ মুন্সির চরিত্রই মূল বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো কিশোর বুধার চেতনায় দেশপ্রেম ও সাহসের রূপ। কারণ সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং দারুণ কৌশল অবলম্বন করে মুক্তিযুদ্ধ করে। এছাড়াও বুধার একাকী জীবন, কলেরার প্রকোপ, দারিদ্র্যের টানাপড়েন, হানাদারদের পৈশাচিকতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও সাফল্য ইত্যাদি দিক 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে প্রকাশ পেয়েছে। এসব দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একমাত্র দিক নয়।
সারকথা: উদ্দীপকের হাসেম ব্যাপারীর চরিত্রে যে স্বৈরাচারী দিক ফুটে উঠেছে তাতে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মাত্র একটি দিকের প্রকাশ ঘটেছে। এটি ছাড়াও 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে আরও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে। সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো কিশোর চেতনায় অকৃত্রিম দেশপ্রেম
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!