শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিল আহাদ মুন্সি।
যে মানুষের দৃষ্টিতে ভাষা নেই, সেই মানুষকে বুধার মানুষ মনে না করার কারণ হলো- বুধা প্রাণহীন মানুষকে মানুষই মনে করে না। কারণ তারা দেশের শত্রু।
বুধা পেয়ারা নিয়ে মিলিটারি ক্যাম্পে যায় তথ্য সংগ্রহ করতে। মিলিটারির খুব কাছাকাছি গেলেও তার ভয় লাগে না। অথচ এসব মিলিটারিই অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। বুধা মিলিটারির দিকে তাকিয়ে ছিল। মিলিটারির সেই দৃষ্টি বড়ই নির্জীব। কোনো ভাষা নেই সেই দৃষ্টিতে। সাধারণত প্রাণহীন দৃষ্টি হিংস্র হয়, এই হিংস্রতা বুধা দেখেছে। তাই যে মানুষের দৃষ্টিতে ভাষা নেই, সে মানুষকে বুধা মানুষই মনে করে না।
সারকথা: ভাষাহীন দৃষ্টি সাধারণত নিষ্ঠুরতাকে ফুটিয়ে তোলে। নিষ্ঠুরতাকে বুধা ঘৃণা করে, তাই ভাষাহীন দৃষ্টিও তার কাছে ঘৃণ্য। এজন্যই যে মানুষের দৃষ্টিতে ভাষা নেই, বুধা তাকে মানুষ মনে করে না।
কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে আহাদ মুন্সি একটি দালাল ও নিষ্ঠুর চরিত্র এবং উদ্দীপকের হাসেম ব্যাপারী এ দালালি ও নিষ্ঠুরতায় বিশ্বাসী।
স্বাধীনতা যুদ্ধে এদেশের মানুষের ওপর হানাদাররা নির্মম নির্যাতন চালায়। তখন হানাদারদের সঙ্গে যোগ দেয় এদেশীয় কিছু স্বার্থপর লোক। তারা সম্পদ লুণ্ঠন করে, নারীদের জোর করে হানাদারদের হাতে তুলে দেয়; তখন হেন অপরাধ নেই যা তারা করেনি।
উদ্দীপকে মফিজ খাঁর নিষ্ঠুর আচরণের পরিচয় পাওয়া যায়। মফিজ খাঁ জমিদার। এ ক্ষমতার কারণে সে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালায়। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে হাসেম ব্যাপারী। জমিদারের কাছের লোক হওয়ায় সে মানুষের ওপর জুলুম করে। হালের বলদ, ঘরের টিন, পুকুরের মাছ সব জোর করে নিয়ে যায়। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের আহাদ মুন্সিও বর্বর হানাদার বাহিনীর সহযোগী। হানাদারদের দোসর সেজে সে গ্রামের মানুষের ওপর নির্যাতন চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে নানা তথ্য সরবরাহ করে তাদের সাহায্য করে। গ্রামের মানুষদের জোর করে সেনাদের বাঙ্কার নির্মাণ করতে নিয়ে যায়। তার আদেশেই বুধাকে জোর করে কাকতাড়ুয়া বানিয়ে রাখা হয় মাঠের মাঝখানে। আহাদ মুন্সির এ ধরনের অন্যায় অত্যাচারের সঙ্গে উদ্দীপকের হাসেম ব্যাপারীর অত্যাচার ও নিষ্ঠুরতার সাদৃশ্য রয়েছে।
সারকথা: 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের আহাদ মুন্সি পাকিস্তানের দোসর হিসেবে কাজ করে। সে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম করে। উদ্দীপকের হাসেম ব্যাপারীও জমিদারের দোসর হওয়ায় মানুষের ওপর অত্যাচার করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একমাত্র দিক নয়- মন্তব্যটি যথার্থ।
১৯৪৭-১৯৭১ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকবর্গ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের চরমভাবে শোষণ করে। বাঙালি এর প্রতিবাদ জানালে শুরু হয় নির্মম অত্যাচার ও নির্যাতন। তারা গণহত্যায় মেতে ওঠে। ধ্বংস করে দিতে থাকে সমস্ত দেশ। বাঙালিরাও এক সময় জেগে ওঠে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বাঙালির সাহস আর শক্তির কাছে অবশেষে পাকিস্তানি হানাদাররা আত্মসমর্পণ করে।
উদ্দীপকের স্বৈরাচারী জমিদার মফিজ খাঁর দোসর হাসেম ব্যাপারী। সে সাধারণ প্রজার ওপর অত্যাচার চালায়। মানুষ তার ভয়ে কাঁপে। কারণ সে কারও পুকুরের মাছ, কারও গোয়ালের গরু, আবার কারও ঘরের টিন পর্যন্ত খুলে নিয়ে যায়। 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে এ রকম চরিত্রধারী হলো আহাদ মুন্সি। সে হানাদারদের দোসর। এই সুযোগে সে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালায়। গ্রামের মানুষকে ভয় দেখিয়ে হানাদারদের কাজ করতে বাধ্য করে। বাঙ্কার খোঁড়ার জন্য অনেক মানুষকে ধরে নিয়ে যায়।
'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে আহাদ মুন্সির চরিত্রই মূল বিষয় নয়; মূল বিষয় হলো কিশোর বুধার চেতনায় দেশপ্রেম ও সাহসের রূপ। কারণ সে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং দারুণ কৌশল অবলম্বন করে মুক্তিযুদ্ধ করে। এছাড়াও বুধার একাকী জীবন, কলেরার প্রকোপ, দারিদ্র্যের টানাপড়েন, হানাদারদের পৈশাচিকতা, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও সাফল্য ইত্যাদি দিক 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে প্রকাশ পেয়েছে। এসব দিক উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত দিকটিই 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের একমাত্র দিক নয়।
সারকথা: উদ্দীপকের হাসেম ব্যাপারীর চরিত্রে যে স্বৈরাচারী দিক ফুটে উঠেছে তাতে 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসের মাত্র একটি দিকের প্রকাশ ঘটেছে। এটি ছাড়াও 'কাকতাড়ুয়া' উপন্যাসে আরও ভাবের প্রকাশ ঘটেছে। সেগুলোর মধ্যে প্রধান হলো কিশোর চেতনায় অকৃত্রিম দেশপ্রেম
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!