যুগে যুগে পৃথিবীতে এমন কিছু ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটে যারা নিজেরা একটি ইতিহাস তৈরি করেন।
পৃথিবীর ইতিহাসে হিটলার এমনই একটি নাম, একটি ইতিহাস। বিংশ শতকের রাজনীতির মূল স্রোতধারায় ছিল জার্মানির এডলফ হিটলার। তিনি ১৮৮৯- সালে অস্ট্রিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করে দারুণ সুনাম অর্জন করেন। যুদ্ধ শেষে হিটলার যোগ দেন জার্মান শ্রমিক পার্টিতে। তিনি ধনতন্ত্র, ইহুদি, ফ্রান্স ও ভার্সাই সন্ধির অপমানজনক শর্তাবলির তীব্র নিন্দা করে অল্প সময়ে খুব পরিচিতি লাভ করেন। ১৯২০ সালে হিটলার দলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখেন 'জাতীয় সমাজতন্ত্রবাদী জার্মান শ্রমিক দল' সংক্ষেপে নাৎসি পার্টি। হিটলার দলের নেতৃত্ব নিজ হাতে নেন এবং গোয়েরিং, হেস, বোয়েম, গোয়েবলস প্রমুখ বাছাই করা সহকর্মীদের নিয়ে শক্তিশালী দল গঠন করেন। দলীয় মুখপাত্র হিসেবে 'পিপলস অবজার্ভার' নামে পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি নিরাপত্তার জন্য নাৎসি পার্টির অঙ্গসংগঠন হিসেবে ১৯২১ সালে ঝটিকা বা S. A বাহিনী গঠন করেন। তার বিখ্যাত' বই 'Mein Kampf' বা 'আমার সংগ্রাম'কে নাৎসি বাইবেল বলা হয়। এ গ্রন্থে তিনি জার্মানি জাতীয়তাবাদকে এমনভাবে তুলে ধরেছেন যে, জার্মান জনসাধারণ ব্যাপকভাবে তাতে উজ্জীবিত। হয়ে হিটলারের পক্ষাবলম্বন করে। ১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে ৩০ জানুয়ারি হিটলার জার্মানির চ্যান্সেলর পদে নিযুক্ত হন। অতঃপর পার্লামেন্ট এক আইন পাস করে হিটলার চার বছরের জন্য জার্মানির সর্বময় ক্ষমতা দখল করেন। ১৯৩৪ সালে প্রেসিডেন্ট হিন্ডেনবার্গের মৃত্যু হলে তিনি একাধারে প্রেসিডেন্ট এবং চ্যান্সেলর পদ গ্রহণ করে, জার্মানিতে একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। হিটলার ঘোষণা করেন, জার্মানিতে একটি মাত্র রাজনৈতিক দল এবং তা হলো ন্যাশনাল সোস্যালিস্ট জার্মান ওয়াকার্স পার্টি (নাৎসি)। এ প্রেক্ষিতে তিনি ১৯৩৪ সালের ২৪ জুলাই নাৎসি দল ব্যতীত সকল দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। জাতীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের ক্ষেত্রে নাৎসি দলের একচ্ছত্র আধিপত্য স্থাপিত হয়। হিটলার জার্মানি তথা বিশ্বের ইতিহাসে এক বিস্ময়কর চরিত্র। বিশ্ব ইতিহাসে হিটলার একটি বিশেষ বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব।
Related Question
View Allদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে পরস্পর সহযোগিতাভিত্তিক যে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে অক্ষশক্তি চুক্তি নামে পরিচিত। মূলত এটি ছিল কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি। তবে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তি হলেও এটিকে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ইউরোপীয় রাষ্ট্রবর্গের দুর্বলতা ও তাদের পারস্পরিক দুর্বলতার সুযোগে সাম্যবাদের বিরুদ্ধে ১৯৩৬ সালে জার্মানি ও জাপান কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। পরবর্তী বছর ১৯৩৭ সালে ইতালি এ চুক্তিতে যোগ দেয়। এর ফলেই রোম-বার্লিন-টোকিও উদ্ভব হয়। এ চুক্তি ইউরোপে নতুন শক্তিসাম্য গড়ে তোলে।
উদ্দীপকে আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির রোমানিয়া প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন একজন কর্মকার। শিক্ষা শেষে স্কুলশিক্ষক হিসেবে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। সামরিক প্রশিক্ষণ এড়াতে তিনি সুইজারল্যান্ডে পালিয়ে যান। সেখানে তিনি সমাজতান্ত্রিক মতবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সমাজতন্ত্রী দলে যোগ দিয়ে বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড শুরু করেন। ১৯১২ সালে সমাজতন্ত্রী দলের মুখপত্র 'আভান্তি' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি ১৯১৯ সালে 'এক সম্মেলনে ফ্যাসিস্ট দল গঠন করেন। ফ্যাসিবাদ ছিল ইতালির সামাজিক অবক্ষয়ের যুগের একটি রাজনৈতিক ব্যাভিচার। গণতন্ত্রের ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদকে ফ্যাসিবাদীরা ঘৃণা করত।
উদ্দীপকে 'X' নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। গণতন্ত্রের পরিবর্তে বল প্রয়োগে ক্ষমতা গ্রহণের পক্ষে তার মত ছিল।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'X'-দ্বারা আমার পাঠ্যবইয়ের বেনিতো মুসোলিনীকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
উক্ত ব্যক্তির অর্থাৎ বেনিতো মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতি ছিল সম্প্রসারণবাদ।
মুসোলিনীর' পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল সম্প্রসারণবাদ। ক্ষমতা গ্রহণ করে তিনি ঘোষণা করেন, "আমি যুদ্ধ ভালোবাসি, যুদ্ধ করা আমার সহজাত প্রবণতা।" এ উপলক্ষে তিনি ইতালির পদাতিক, নৌ, বিমান বাহিনীকে ঢেলে সাজান। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের মানসিকতা প্রস্তুত করেন। তিনি যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে ভার্সাই সন্ধির প্রতারণার প্রতিশোধ নিতে মনস্থ করেন। তিনি বুঝেছিলেন যে, । ইতালির সাম্রাজ্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষাকে সফল করে তুলতে হলে ফ্রান্স, ব্রিটেন, রাশিয়া, জার্মানি ইত্যাদি শক্তিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে নিয়োজিত করতে হবে। এজন্য তিনি ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে জার্মানির বিরুদ্ধে নিয়োজিত করেন এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানিকে সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিয়োজিত করে ইতালির প্রভাব-প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করার কৌশল অবলম্বন করেন। মুসোলিনী তার এসব কৌশল প্রয়োগ করে বেশকিছু উপনিবেশ পুনরুদ্ধারে সফল হন। ১৯২৩ সালে গ্রিসের কফুদ্বীপ গ্রিসকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে তা ফেরত নিতে হয়। এতে নিজ দেশে মুসোলিনীর ভাবমূর্তি বেড়ে যায়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে নানাভাবে সহযোগিতা প্রদান করেন। ১৯৩৬ সালে, স্পেনে জেনারেল ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটলে মুসোলিনী ফ্রাঙ্কোকে সমর্থন করেন। মুসোলিনী নিজ শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য জার্মানির হিটলারের সাথে মৈত্রী বন্ধনে আবন্ধ হন।
পরিশেষে বলা যায়, মুসোলিনীর পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইতালির সম্প্রসারণ ঘটানো এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতালিকে সামরিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদন করা।
জার্মানি কর্তৃক পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু মার্কিন জনগণ মিত্রপক্ষের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। মার্কিন সরকার ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে 'Lend-Lease Act' আইন পাস করে মিত্রশক্তিকে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ফলে জার্মান ডুবোজাহাজগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ডুবিয়ে দিতে শুরু করলে মার্কিন নৌবাহিনীও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অতঃপর ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর অক্ষশক্তির সদস্য জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'পার্ল হারবার' আক্রমণ করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সরাসরি যোগদান করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!