হ্যাঁ, উদ্দীপকের আলোকে কৃষিপণ্য বিপণনের সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা রয়েছে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
⇒পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি: সরকারকে পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করতে হবে। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হলে কৃষকেরা অল্প ব্যয়ে তাদের উৎপাদিত পণ্য দূরবর্তী বাজারে পাঠিতে ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবে।
⇒ পণ্যের শ্রেণিবিভাগ ও মান নির্ধারণ সরকার গুণাগুণ বিচার করে কৃষিজাত পণ্যের যথাযথভাবে শ্রেণিবিভাগ ও মান নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে পারে। এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দেশে ও বিদেশে আমাদের কৃষিজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। ফলে কৃষকরা তাদের পণ্য ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারবে।
⇒ মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের বিলোপসাধন: সরকারকে দালাল, ফড়িয়া, আড়তদার, বেপারি প্রভৃতি মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের বিলোপ সাধন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার কৃষিজাত পণ্য ক্রয় এজেন্সি গঠন করতে পারেন। ক্রয় এজেন্টরা মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের সংখ্যা কমে যাবে। ফলে তাদের নির্ধারিত দামে কৃষিপণ্য ক্রয় করলে আপনা-আপনি দ্বারা কৃষকদের আর প্রবঞ্চিত হওয়ার ভয় থাকবে না।
⇨ সমবায় বিক্রয় সমিতি গঠন: মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে হলে সরকারকে সর্বত্র সমবায় বিক্রয়
সমিতি গঠন করতে হবে। এ সমিতির মাধ্যমে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হবে এবং মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীদের দৌরাত্মা
কমে যাবে।
⇒ একই মানের ওজন ও মাপের প্রবর্তন: সরকারকে দেশে সাধারণ মানের ওজন ও মাপের প্রবর্তন করতে হবে।
দেশের সর্বত্রই একই মানের ওজন ও মাপ প্রবর্তিত হলে দালাল ও ফড়িয়ারা কৃষকদের ঠকাতে পারবে না। দেশে সুষ্ঠু ওজন ও মাপ সুনিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন পাস করতে হবে।
⇨ পণ্যের গুদামজাতকরণ ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা: কৃষকেরা যাতে তাদের উৎপাদিত দ্রব্য গুদামজাত করে রাখতে পারে তার জন্য সরকারকে পল্লী অঞ্চলে গুদাম তৈরি করতে হবে। সমবায় সমিতিগুলো এরূপ গুদাম নির্মাণ
এবং পণ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। সমবায় বিক্রয় সমিতি পল্লী অঞ্চলে গুদাম ঘর নির্মাণ করে তাতে কৃষকদের পণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।
সুতরাং বলা যায়, বাংলাদেশে কৃষিপণ্যের বিপণন সমস্যাগুলো সমাধান করার ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Related Question
View Allসেচ হলো কৃত্রিমভাবে কৃষিজমিতে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এ দেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.১% কৃষি খাতে নিয়োজিত। কিন্তু এ দেশের অধিকাংশ কৃষক ভূমিহীন ও দরিদ্র। ফলে কৃষিকাজের সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য ঋণ গ্রহণ করতে হয়। তাই কৃষকরা বিভিন্ন উৎস থেকে কৃষিঋণ গ্রহণ করে।
উদ্দীপকের ঘটনা অনুসারে আব্দুল করিম কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণের সাথে জড়িত। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-উৎপাদিত ফসল ভোক্তার নিকট তথা ক্রেতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার যাবতীয় কার্যক্রম বা প্রক্রিয়াকে কৃষিপণ্যের বিপণন বা বাজারজাতকরণ বলে। এ ধরনের পেশার লোকদের দালাল বা ফড়িয়া বলে। বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ক্রেতা বা ভোক্তার চাহিদামতো কৃষিপণ্য উৎপাদন করা বাজারজাতকরণের প্রথম ধাপ। বিপুল কৃষিপণ্য একসাথে বিক্রি করা যায় না। ফলে কৃষিপণ্য গুদামজাত ও সংরক্ষণ করতে হয়। বিক্রির উদ্দেশ্যে কৃষিপণ্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছানোর জন্য পরিবহনের প্রয়োজন হয়। ক্ষেত থেকে ফসল ক্রয় করা, গুদামজাতকরণ, পরিবহন ইত্যাদির জন্য বিপণনের কাজে ব্যবসায়ী/কৃষকের অর্থের যোগান থাকতে হয়। অতঃপর উক্ত কৃষিপণ্যসমূহ বাজারে বিক্রয় করতে হয়। আব্দুল করিমও ফসলের মৌসুমে কৃষকদের অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন তাদের ফসল কেনার জন্য। কৃষকদের থেকে সংগৃহীত ফসল তিনি শহরের বাজারে সরবরাহ করেন। এই মধ্যপন্থী কার্যক্রম, অর্থাৎ বাজারজাতকরণের মাধ্যমে আয় করে তার সংসার চালান।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, বাজারজাতকরণ বা বিপণন পেশা আমাদের দেশে প্রয়োজনীয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এ দেশের অধিকাংশ কৃষক অশিক্ষিত। তারা অনেক পরিশ্রম করে শস্য ফলায়। তাদের উৎপাদিত ফসল বাজারে বিক্রি করলে ভালো দাম পায় না। তাই তারা দালাল বা ফড়িয়াদের কাছে সাধারণ দামের চেয়ে একটু বেশি দামে তাদের উৎপাদিত ফসল বিক্রির চেষ্টা করে। দালাল বা ফড়িয়ারা ওই ফসল শহরে আরও বেশি দামে বিক্রি করে। এতে তারা নিজেরাও লাভবান হয়, আবার কৃষকরাও সাধারণের থেকে একটু বেশি লাভবান হয়। এই দালাল বা ফড়িয়াদের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রাম থেকে গঞ্জে এবং গঞ্জ থেকে শহরে বিভিন্ন ধরনের কৃষিপণ্য ভোক্তার কাছে আসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করার কাজেও এ ধরনের দালাল বা ফড়িয়াদের অবদান রয়েছে। আমাদের দেশে এই ধরনের দালাল ও ফড়িয়ারা আছে বলেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে বিক্রি করতে পারছে। তবে বর্তমানে কিছু ভুয়া দালাল ও ফড়িয়া কৃষকদের ঠকিয়ে তাদের কষ্টে উৎপাদিত পণ্য আত্মসাৎ করছে। যার ফলে সরকার ওই দালাল ও ফড়িয়াদের দূর করতে নিজেরাই কৃষকদের কাছ থেকে ধান/চাল কিনছে। কিন্তু এ দেশে কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে দালাল ও ফড়িয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তাই আমি মনে করি, আমাদের দেশে এ ধরনের পেশা প্রয়োজন।
একজন কৃষক ফসল ফলানোর জন্য যে জমি ব্যবহার করে থাকে তা-ই কৃষি খামার।
কৃষি খামারে একটি মাত্র ফসলের পরিবর্তে একাধিক ফসল উৎপাদন করাকে বলা হয় শস্য বহুমুখীকরণ। এ ক্ষেত্রে একই জমিতে বছরের নানা সময়ে বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করা হয়। ১৯৯০-এর দশকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা খরচ কমানোর উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের সরকার শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!