যেসব খাদ্যে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায় সেসব খাদ্যের শক্তিমূল্য বেশি হয়। খাদ্যের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি দহনের ফলে কর্মশক্তি ও তাপ উৎপন্ন হয়। খাদ্যোপাদানগুলোর রাসায়নিক শক্তির শতকরা ২০ ভাগ কর্মশক্তিতে ও ৮০ ভাগ তাপ হিসেবে বের হয়। ১ গ্রাম প্রোটিন ৪ ক্যালরি, ১ গ্রাম স্নেহ পদার্থ ৯ ক্যালরি এবং ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ৪ ক্যালরি শক্তি উৎপাদন করে।
জীবদেহের প্রধান চাহিদা হচ্ছে শক্তির চাহিদা। খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত শক্তির তুলনায় কর্মসম্পাদনে যদি বেশি শক্তি খরচ হয়, তাহলে দেহ নিজের জমাকৃত অংশবিশেষ দগ্ধ করে শক্তি সরবরাহ করে। আবার খাদ্যের তুলনার দেহে যদি কম শক্তি খরচ হয়, তবে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তি চর্বির আকারে দেহের নানা অংশে সঞ্চিত থাকে। অর্থাৎ, দেহের প্রয়োজনের তুলনার কম খাদ্য গ্রহণ করলে দেহের ওজন হ্রাস পায় এবং দেহের প্রয়োজনের তুলনার বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে ওজন বেয়ে যায়।
নিতু মাংস ও ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করে। এ জাতীয় খাদ্যের শক্তি মূল্য অধিক। অথচ নিতু লেখাপড়া ছাড়া ঘরের তেমন কোনো কাজ করে না বললেই চলে। দেহের প্রয়োজনের তুলনার বেশি খাদ্য গ্রহণ করার ফলে নিতুর ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অর্থাৎ নিতুর গৃহীত খাদ্যের শক্তিমূল্য দৈহিক ওজনের সাথে ভারসাম্যহীন।
Related Question
View Allশক্তি পরিমাপের একক ক্যালরি।
শক্তির চাহিদা নির্ণয়ে মৌল বিপাক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। মৌল বিপাক হার বলতে প্রতি ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটার দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলে যে পরিমাণ শক্তি বা ক্যালরি ব্যয় হয় তাকে বোঝায়। মধ্যম বয়সের ব্যক্তিদের গড় বিপাক হার প্রায় ৪০ ক্যালরি।
উদ্দীপকে রেহানা বেগম বলেন, শক্তির ব্যয় শারীরিক কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে। আমাদের বিভিন্ন কাজে নানা ধরনের শক্তি ব্যয় হয়। সম্পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায়ও সর্বনিম্ন শক্তি ব্যয় হয়।
শক্তির ব্যয়ের ভিত্তিতে কাজ তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- হালকা কাজ, মাঝারি কাজ ও ভারি কাজ। হাঁটাচলা, বই পড়া, ঘর গোছানো ইত্যাদি হালকা কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় শক্তির চাহিদা গড়ে ১৫০-২৫০ ক্যালরি। সাইকেল চালানো, জোরে হাঁটা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি মাঝারি কাজের অন্তভুক্ত কাজের জন্য গড়ে ৩০০-৪০০ ক্যালরি প্রয়োজন। এ ধরনের সাঁতার কাটা, রিকশা চালানো, গাছ কাটা ইত্যাদি ভারি কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪৫০-৫৯০ ক্যালরি ব্যয় হয়।
প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য শক্তির চাহিদা-
লেখার কাজ - ২০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
দর্জির কাজ- ৪৫ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
টাইপ করা- ৩০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
রাজমিস্ত্রির কাজ- ৩০০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
রিকশা চালানোর কাজ- ৩৫০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়
পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যালরি খরচ হয়।
উদ্দীপকে রেহানা বেগমের শেষের উক্তি নারী-পুরুষভেদে, বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন শারীরিক অবস্থায় শক্তি চাহিদা বিভিন্ন হয়। শক্তি চাহিদায় বয়স, লিঙ্গ, পরিশ্রম, হরমোনের ক্ষরণ, দেহের আয়তন প্রভাব, বিস্তার করে। যার ফলে শক্তি চাহিদায় পার্থক্য দেখা যায়।
নারী ও পুরুষের মৌল বিপাক হার সমান হয় না। নারীর মৌল বিপাক হার সমবয়স্ক পুরুষের তুলনায় কম। নারী পুরুষের তুলনায় কম পরিশ্রমী এবং দেহে মেদ বেশি থাকে, অন্যথায় পুরুষের দৈহিক পরিশ্রমে পেশি চালনা তীব্রতর হয় বলে নারী অপেক্ষা পুরুষের বিপাক হার ১০%-২০% বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মৌল বিপাক হার হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধদের তুলনায় যুবকের বিপাক বেশি হয়। শিশুদের বিপাক হার ১০%-১২% বেশি থাকে। জন্মের কয়েক মাস পর থেকে এটা সর্বাপেক্ষা বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তৃতীয় বছরে হ্রাস পেয়ে যৌবনে সামান্য বৃদ্ধি পায়। ২৫ বছর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আবার ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বিপাক বেশি ওঠানামা করে। মাসিকের পূর্বে এই হার বাড়ে এবং মাসিকের পর কমে। গর্ভাবস্থার শেষ ভাগে মৌল বিপাক ১৫%-২৫% বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে গর্ভবতী মহিলার ওজন বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের বিপাক হার বেশি থাকে, সে কারণে মৌল বিপাক বৃদ্ধি পায়।
তাই বলা যায়, বিভিন্ন অবস্থাভেদে শক্তি চাহিদার তারতম্য হয়।
শক্তি একটি ক্ষমতা যার দ্বারা আমরা কার্য সম্পাদন করে থাকি।
জীবন্ত কোষে যেসব জৈবিক প্রক্রিয়া অবিরত চলতে থাকে তার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই শক্তির চাহিদাকে জীবদেহের প্রধান চাহিদা বলা হয়।
জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্বসন, রক্ত সঞ্চালন, রেচন প্রভৃতি জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক। এছাড়াও দেহের কোষের প্রতিটিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলে। যেমন- জারণ, বিজারণ, এনজাইম ও হরমোন নিঃসরণ ইত্যাদি। এগুলোর জন্য শক্তির প্রয়োজন। এছাড়া প্রাণীদেহের চলাফেরা ও অন্যান্য পেশিগত কাজেও শক্তির প্রয়োজন হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!