রোজী বেগমের মেয়ে নিতুর বয়স ১২ বছর। সে মাংস ও ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করে। লেখাপড়া ছাড়া ঘরের তেমন কোনো কাজকর্ম করে না। তাই এ বয়সে তার ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এ কারণে রোজী বেগম অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়ছেন।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

মৌল বিপাকক্রিয়া (Elementary Metabolism) বলতে দেহের অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া রাসায়নিক ক্রিয়াগুলির একটি প্রাথমিক প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়, যেখানে খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদিত হয় এবং নতুন কোষ তৈরি হয়। বিপাকক্রিয়ার দুটি মূল ধাপ রয়েছে:

  1. অ্যানাবলিজম (Anabolism) - এখানে ছোট ছোট অণুগুলি জোড়া লাগিয়ে বড় অণু তৈরি করা হয়, যেমন প্রোটিন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড।
  2. ক্যাটাবলিজম (Catabolism) - এখানে বড় বড় অণু ভেঙ্গে শক্তি মুক্ত করা হয়, যা দেহের বিভিন্ন কার্যকলাপে ব্যবহৃত হয়।

মৌল বিপাকক্রিয়ার মাধ্যমে দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ এবং কোষের গঠন এবং মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়।

উত্তরঃ

শক্তি একটি ক্ষমতা যার দ্বারা আমরা কার্য সম্পাদন করে থাকি। জীবনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত শক্তির প্রভাব অপরিসীম। দেহের জৈবিক ক্রিয়া ব্যতীত অন্যান্য কারণেও তাপশক্তির প্রয়োজন। যেমন-প্রাণিদেহের চলাফেরা ও অন্যান্য পেশিগত কাজে শক্তির প্রয়োজন। এছাড়া গর্ভকালে ভূণের বৃদ্ধি ও সন্তানের পুষ্টি, দুগ্ধ তৈরি ও ক্ষরণের জন্য শক্তির চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

উত্তরঃ

নিতুর ওজন বেড়ে যাওয়ার কারণ হালকা কাজ করা- উক্তিটি সঠিক। হালকা কাজগুলো হলো হাঁটা-চলা, বই পড়া, ঘর গোছানো ইত্যাদি। হালকা কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ব্যয় হয় ১৫০-২৫০ ক্যালরি। নিতু লেখাপড়ার কাজ করে যা হালকা কাজের মধ্যে পড়ে। লেখাপড়ার জন্য প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য শক্তি চাহিদা ২০ ক্যালরি।

শারীরিক কার্যকলাপের ওপর শক্তি ব্যয় নির্ভর করে। মৌল শক্তির চাহিদা ও দৈহিক কার্যকলাপের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা যোগ করেই একজন ব্যক্তির শক্তির 'চাহিদা নির্ণয় করা হয়। মৌল বিপাকক্রিয়া নির্ভর করে দেহপৃষ্ঠের আয়তনের ওপর ওজন ও উচ্চতার সাথে আয়তনের সম্পর্ক রয়েছে। প্রতি কিলোগ্রাম দেহের ওজনের জন্য একজন পুরুষের প্রতি ঘণ্টায় ১ ক্যালরি এবং একজন স্ত্রীলোকের প্রতি ঘণ্টায় ০.৯ ক্যালরি খরচ হয়। দৈহিক পরিশ্রমের তারতম্যের জন্য শক্তির চাহিদা ভিন্ন হয়। নিতুর বয়স ১২ বছর। সে মাংস ও ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করে লেখাপড়া ছাড়া ঘরের তেমন কোনো কাজকর্ম করে না। নিতু যেহেতু লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোনো ভারি কাজ করে না তাই তার শক্তি কম ব্যয় হয়। খাদ্যের তুলনায় দেহে যদি শক্তি খরচ কম হয় তবে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তি চর্বির আকারে দেহের নানা অংশে সঞ্চিত থাকে। অর্থাৎ, দেহের প্রয়োজনের তুলনায় খাদ্য গ্রহণ বেশি হলে ওজন বেড়ে যায়। এ সকল কারণে এ বয়সে নিতুর ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে।

উত্তরঃ

যেসব খাদ্যে বেশি ক্যালরি পাওয়া যায় সেসব খাদ্যের শক্তিমূল্য বেশি হয়। খাদ্যের প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বি দহনের ফলে কর্মশক্তি ও তাপ উৎপন্ন হয়। খাদ্যোপাদানগুলোর রাসায়নিক শক্তির শতকরা ২০ ভাগ কর্মশক্তিতে ও ৮০ ভাগ তাপ হিসেবে বের হয়। ১ গ্রাম প্রোটিন ৪ ক্যালরি, ১ গ্রাম স্নেহ পদার্থ ৯ ক্যালরি এবং ১ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট ৪ ক্যালরি শক্তি উৎপাদন করে।

জীবদেহের প্রধান চাহিদা হচ্ছে শক্তির চাহিদা। খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত শক্তির তুলনায় কর্মসম্পাদনে যদি বেশি শক্তি খরচ হয়, তাহলে দেহ নিজের জমাকৃত অংশবিশেষ দগ্ধ করে শক্তি সরবরাহ করে। আবার খাদ্যের তুলনার দেহে যদি কম শক্তি খরচ হয়, তবে খাদ্যের রাসায়নিক শক্তি চর্বির আকারে দেহের নানা অংশে সঞ্চিত থাকে। অর্থাৎ, দেহের প্রয়োজনের তুলনার কম খাদ্য গ্রহণ করলে দেহের ওজন হ্রাস পায় এবং দেহের প্রয়োজনের তুলনার বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে ওজন বেয়ে যায়।

নিতু মাংস ও ফাস্টফুড খেতে পছন্দ করে। এ জাতীয় খাদ্যের শক্তি মূল্য অধিক। অথচ নিতু লেখাপড়া ছাড়া ঘরের তেমন কোনো কাজ করে না বললেই চলে। দেহের প্রয়োজনের তুলনার বেশি খাদ্য গ্রহণ করার ফলে নিতুর ওজন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। অর্থাৎ নিতুর গৃহীত খাদ্যের শক্তিমূল্য দৈহিক ওজনের সাথে ভারসাম্যহীন।

121
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All
উত্তরঃ

শক্তির চাহিদা নির্ণয়ে মৌল বিপাক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। মৌল বিপাক হার বলতে প্রতি ঘণ্টায় প্রতি বর্গমিটার দেহপৃষ্ঠের ক্ষেত্রফলে যে পরিমাণ শক্তি বা ক্যালরি ব্যয় হয় তাকে বোঝায়। মধ্যম বয়সের ব্যক্তিদের গড় বিপাক হার প্রায় ৪০ ক্যালরি।

634
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রেহানা বেগম বলেন, শক্তির ব্যয় শারীরিক কার্যকলাপের ওপর নির্ভর করে। আমাদের বিভিন্ন কাজে নানা ধরনের শক্তি ব্যয় হয়। সম্পূর্ণ বিশ্রামরত অবস্থায়ও সর্বনিম্ন শক্তি ব্যয় হয়।

শক্তির ব্যয়ের ভিত্তিতে কাজ তিন ধরনের হয়ে থাকে। যেমন- হালকা কাজ, মাঝারি কাজ ও ভারি কাজ। হাঁটাচলা, বই পড়া, ঘর গোছানো ইত্যাদি হালকা কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় শক্তির চাহিদা গড়ে ১৫০-২৫০ ক্যালরি। সাইকেল চালানো, জোরে হাঁটা, খেলাধুলা করা ইত্যাদি মাঝারি কাজের অন্তভুক্ত কাজের জন্য গড়ে ৩০০-৪০০ ক্যালরি প্রয়োজন। এ ধরনের সাঁতার কাটা, রিকশা চালানো, গাছ কাটা ইত্যাদি ভারি কাজের জন্য প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪৫০-৫৯০ ক্যালরি ব্যয় হয়।

প্রতি ঘণ্টায় প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য শক্তির চাহিদা-

 লেখার কাজ - ২০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায়

দর্জির কাজ- ৪৫ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায় 

টাইপ করা- ৩০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায় 

রাজমিস্ত্রির কাজ- ৩০০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায় 

রিকশা চালানোর কাজ- ৩৫০ ক্যালরি প্রতি ঘণ্টায় 

পরিশেষে বলা যায়, বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ক্যালরি খরচ হয়।

210
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রেহানা বেগমের শেষের উক্তি নারী-পুরুষভেদে, বিভিন্ন বয়সে এবং বিভিন্ন শারীরিক অবস্থায় শক্তি চাহিদা বিভিন্ন হয়। শক্তি চাহিদায় বয়স, লিঙ্গ, পরিশ্রম, হরমোনের ক্ষরণ, দেহের আয়তন প্রভাব, বিস্তার করে। যার ফলে শক্তি চাহিদায় পার্থক্য দেখা যায়।

নারী ও পুরুষের মৌল বিপাক হার সমান হয় না। নারীর মৌল বিপাক হার সমবয়স্ক পুরুষের তুলনায় কম। নারী পুরুষের তুলনায় কম পরিশ্রমী এবং দেহে মেদ বেশি থাকে, অন্যথায় পুরুষের দৈহিক পরিশ্রমে পেশি চালনা তীব্রতর হয় বলে নারী অপেক্ষা পুরুষের বিপাক হার ১০%-২০% বেশি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মৌল বিপাক হার হ্রাস পেতে থাকে। বৃদ্ধদের তুলনায় যুবকের বিপাক বেশি হয়।  শিশুদের বিপাক হার ১০%-১২% বেশি থাকে। জন্মের কয়েক মাস পর থেকে এটা সর্বাপেক্ষা বেশি বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তৃতীয় বছরে হ্রাস পেয়ে যৌবনে সামান্য বৃদ্ধি পায়। ২৫ বছর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত আবার ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। পুরুষের তুলনায় মহিলাদের বিপাক বেশি ওঠানামা করে। মাসিকের পূর্বে এই হার বাড়ে এবং মাসিকের পর কমে। গর্ভাবস্থার শেষ ভাগে মৌল বিপাক ১৫%-২৫% বৃদ্ধি পায়। এ সময়ে গর্ভবতী মহিলার ওজন বৃদ্ধি পায় এবং গর্ভস্থ ভ্রূণের বিপাক হার বেশি থাকে, সে কারণে মৌল বিপাক বৃদ্ধি পায়।

তাই বলা যায়, বিভিন্ন অবস্থাভেদে শক্তি চাহিদার তারতম্য হয়।

224
উত্তরঃ

শক্তি একটি ক্ষমতা যার দ্বারা আমরা কার্য সম্পাদন করে থাকি।

1.2k
উত্তরঃ

জীবন্ত কোষে যেসব জৈবিক প্রক্রিয়া অবিরত চলতে থাকে তার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। তাই শক্তির চাহিদাকে জীবদেহের প্রধান চাহিদা বলা হয়।

জৈবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে শ্বসন, রক্ত সঞ্চালন, রেচন প্রভৃতি জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যক। এছাড়াও দেহের কোষের প্রতিটিতে রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলে। যেমন- জারণ, বিজারণ, এনজাইম ও হরমোন নিঃসরণ ইত্যাদি। এগুলোর জন্য শক্তির প্রয়োজন। এছাড়া প্রাণীদেহের চলাফেরা ও অন্যান্য পেশিগত কাজেও শক্তির প্রয়োজন হয়।

208
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews